1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : nkagojadmin :
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ছাত্রলীগ নেতা আরফান মাহমুদ বাবুর শোক বার্তা ফতুল্লায় ১০০ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ মাতৃদুগ্ধের কোন বিকল্প নেই : কাউন্সিলর অসিত সোনারগাঁয়ে দু’সন্তান রেখে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী ফতুল্লায় নৈশ প্রহরীর লাশ উদ্ধার ফতুল্লায় গাঁজাসহ মানিক গ্রেপ্তার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফরিদ আহম্মেদ লিটনের শোক বার্তা আ’লীগ নেতা ইকবাল হোসেনের শোক বার্তা নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে বিশেষ প্রার্থণা জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আলোচনা সভা গান কথা কবিতা ও আড্ডা না ফেরার দেশে তরুণ আইনজীবি শরীফ হোসেন ক্ষুদিরামের ১১২তম ফাঁসি দিবস উপলক্ষে ছাত্র ফ্রন্টের আলোচনা সভা মাস্ক ব্যবহার না করায় আইনজীবি ও যুবলীগ নেতাসহ ১৪ জনের জরিমানা শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী

আমাদের ছেলেমেয়ে ফুল হয়ে ফোটার আগেই যেন ঝরে না পড়ে

আহমেদ রউফ
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
  • ১৩৯ বার পঠিত
আমাদের ছেলেমেয়ে ফুল হয়ে ফোটার আগেই যেন ঝরে না পড়ে

শুরু করা যাক প্রিয় কবি আল মাহমুদ এর একটি কবিতার মধ্য দিয়ে…
আম্মা বলেন, পড়রে সোনা
আব্বা বলেন মন দে;
পাঠে আমার মন বসে না
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।

আমার কেবল ইচ্ছে জাগে
নদীর কাছে থাকতে,
বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে
পাখির মতো ডাকতে।

এই আটটি লাইনের মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের শিশুকাল ও কৈশোরকাল। এসব পেরিয়ে আমরা এতো দূর এসেছি। করোনাকালের এই প্রাদুর্ভাবে এই লাইনগুলো উল্টালেই অভিভাবকদের উপর চলে আসে। ঠিক এই রকম…
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
কর্ণফুলীর কুলটায়,
দুধভরা ঐ চাঁদের বাটি
ফেরেস্তারা উল্টায়।

এখন ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার টেনশনে অভিভাবকরা, রাত যখন নিরব নিথর, সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, ঠিক তখন নিরালায়, চোখের জলে বুক ভাসায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার চিন্তায়। করোনার প্রাদুর্ভাবে যেখানে তিনবেলা খাবার যোগানো, মাস শেষে ঘরভাড়া দেয়া, এইসব চিন্তায় দু’চোখের পাতা এক করতে পারে না। ঘুম আসে না দু’চোখে। ঠিক সে সময় এসে, তাও আবার ঈদের আগে স্কুলগুলোতে শুরু হয় পরিক্ষা আর পরিক্ষা দিতে গেলে দিতে হবে মার্চ পর্যন্ত মাসিক বেতন ও পরিক্ষার ফি। এমতাবস্থায় অনেক অভিভাবক চোখে অন্ধকার দেখছে। কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। দুশ্চিন্তা আর মানসিক চাপে আছেন দেশের ৭০% লোক এইটা আমার ধারণা। এতে করে দিতে পারছে না পরিক্ষার ফি। তার উপর মাসিক বেতন।

স্কুলগুলোতে গেলে দেখা যায়, স্কুলে কোনো শিক্ষক নেই, বেতন নেয়ার জন্য বেতনভুক্ত কর্মচারীরা কম্পিউটারের মাধ্যমে বেতন ও পরিক্ষার ফি নিচ্ছে। শুধু পরিক্ষার ফি দিতে গেলে তারা তা নিচ্ছেন না। পারলে দুটি কথা শুনিয়ে দেয়। এ অবস্থায় অনেক অভিভাবক মন খারাপ করে চলে যাচ্ছে। যেখানে সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই। এখনও পর্যন্ত আমি শুনিনি সরকারি ভাবে পরিক্ষার কথা বলা হয়েছে। তবে কেনো ঈদের আগে এই রকম অনাচার। আমি বলবো এটা একটা অনাচার। এই পরিক্ষার ফলাফল কী। প্রশ্নপত্র ও পরিক্ষার খাতা দিয়ে দিচ্ছে। বাড়িতে লেখে তা আবার জমা দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলাফল হবে ঠিক এই রকম। যারা ভালো ছাত্রছাত্রী তারাও ভালো করবে। আবার যাদের একটু মেধা কম তারাও ভালো করবে। মাঝখানে অভিভাবকের টানাহেচরা ও টেনশনে ফেলা ছাড়া আর কিছু নয়।

কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় এক শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে। সংক্রমণ কমে যাওয়ার পর বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হলেও অতি দারিদ্র ও পেটের দায়ে শিশুশ্রমে ঝুঁকে পড়বে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরা। ফলে মোট শিক্ষার্থীর অন্তত ৩০ শতাংশ ঝরে পড়তে পারে। তাদের বিদ্যালয়ে না ফেরার আশঙ্কাই বেশি। একই কারণে বাড়বে দারিদ্র্য, এতে কন্যাশিশুদের বাল্যবিয়েও বাড়বে। ঝরে পড়বে বেশিরভাগ কন্যাশিশু। করোনার কারণে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পুষ্টিহীনতা বাড়বে। তাই পুনরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আগে সরকারের একাধিক জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

ইউনিসেফের এক জরিপে জানান, ইউনিসেফের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর হেনরিটা ফোর বলেন এই প্রথম সারা বিশ্বে এত শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে ইউনিসেফের উদ্বেগ প্রকাশের পর এবার শিশু-শিক্ষা নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এলো একটি সমীক্ষায়। সম্প্রতি ‘দ্য ব্রিটিশ চ্যারেটি’র করা সমীক্ষার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, করোনা বিপর্যয়ের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি (৯৭ লক্ষ) শিশু হয়তো আর কোনোদিন স্কুলে ফিরতে পারবে না! পারিবারিক আর্থিক সঙ্কট, আকস্মিক দারিদ্রের ফলে শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এই সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, এপ্রিল থেকে করোনা আতঙ্কের জেরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬০ কোটি শিক্ষার্থীর (বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ) পঠনপাঠন মাঝ পথে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা শিক্ষার্জনের ক্ষেত্রে তারা চূড়ান্ত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। আর্থিক অনটনের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকেই উচ্চ শিক্ষার পাঠ মাঝ পথেই ছাড়তে হতে পারে।

বিশ্ব জুড়েই যেখানে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে এতটা ঝুঁকির মধ্যে সেখানে শিশুদের কথাই এখন ভাবতে হবে জোড়ালো ভাবে। তাদের স্কুল, পড়ালেখা, স্বাস্থ্য সব মিলিয়ে এখনি স্কুলগুলো খোলার সিদ্ধান্ত না নেওয়াই উত্তম মনে করছেন অনেকেই।

এই মহামারী কাটিয়ে উঠার জন্য অভিভাবকদের ও স্কুল শিক্ষক থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের উপর কড়া নজরদারী করা সরকারি ভাবে দরিদ্র সীমায় পৌঁছানোর আগেই, স্কুল কলেজগুলোর প্রতি সু-নজর দৃষ্টিতে তাকানো উচিৎ বলে মনে করেন সবাই। যেন কোনো ভাবেই আমাদের ছেলেমেয়ে ফুল হয়ে ফোঁটার আগেই ঝরে না পড়ে। এগিয়ে আসতে হবে এই যজ্ঞে সরকার ছাড়াও বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও। যাতে করে এই মহামারীতেও আমাদের আদরের সন্তানরা তাদের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারে। গড়তে পারে সত্যিকারের সোনার বাংলা…


লেখক : আহমেদ রউফ                                                                                                                                                                                                                                সম্পাদক রৌদ্রছায়া
চাষাড়া, নারায়ণগঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

error: Content is protected !!