ঈদের মোনাজাতে ‘খালেদা জিয়ার নাম না বলায়’ ইমামকে হুমকির অভিযোগ
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
ঈদের মোনাজাতে ‘খালেদা জিয়ার নাম না বলায়’ ইমামকে হুমকির অভিযোগ
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ফতুল্লা রেলস্টেশন হাজী আওলাদ হোসেন মোল্লা সুপার মার্কেট কমিটি গঠন বক্তাবলী থেকে ডিবির অভিযানে ‘টাইসন’ আসলাম গ্রেপ্তার শিমু ও অভির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জাকির ও তার পরিবারের সোনারগাঁয়ে অনুমতিবিহীন শিশু-কিশোর মেলা, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ফতুল্লায় বিএনপির বিরুদ্ধে এনসিপি নেতার উপর হামলার অভিযোগ ফতুল্লায় প্রকাশ্যে আওয়ামী দোসর ইব্রাহিম-বাদশা! ফতুল্লায় সম্পত্তির ভাগ চাওয়ায় শিক্ষক বোন ও মাকে কুপিয়ে জখম মুসলিমনগরে মাদকের আস্তানা ভেঙে দিল এলাকাবাসী আবারও জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হলেন নন্দন চন্দ্র সরকার মুক্তিযোদ্ধা অমৃত লাল মোদকের ৫১ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত শহরের মাদক ও অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক ‘ম্যাংগো গং’ অধরা আয়নায় আশাকে নিজের চেহারা দেখতে বললেন মুকুল! লক্ষ্মীনারায়ণ দুর্গা মন্দির উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় বিএসপি রুসেন হাউজিংয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগের মহোৎসব! চোরাই তেলের ব্যবসায় কোটিপতি রায়হান গং!

ঈদের মোনাজাতে ‘খালেদা জিয়ার নাম না বলায়’ ইমামকে হুমকির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের কাগজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫
ঈদের মোনাজাতে ‘খালেদা জিয়ার নাম না বলায়’ ইমামকে হুমকির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নে ঈদ জামাত শেষে দোয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ না করায় ইমামকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় এক যুবদল নেতা।

কাশীপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন চরকাশীপুরের আঞ্জুবাহার জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ ইমদাদুল হক। তার অভিযোগ, নামাজ শেষে দোয়ায় খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ না করায় তাকে হেনস্থা করেছেন ফতুল্লা থানা যুবদলের সাবেক সহসম্পাদক সৈকত হাসান ইকবাল।

বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক ইমদাদুল তাকে ‘হেনস্থা ও তার চাকরি কেড়ে নেবার’ হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

স্ট্যাটাসে ইমাম ইমদাদুল ‘ঈদের দিনে ঈদগাহ থেকে মনে কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরলাম…’ শিরোনামে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করেন। সেখানে স্থানীয়রা অনেকে যুবদল নেতার নেতিবাচক আচরণের জন্য নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷ লেখাটি শতাধিক ব্যক্তি শেয়ারও করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌনে আটটার দিকে কাশীপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়৷ নামাজ শেষে দোয়ায় ইমাম দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া করেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ সকলের সুস্থতা কামনা করেন৷ তবে, বিশেষ কারও নাম দোয়ায় উল্লেখ করা হয়নি।

দোয়া শেষে ইমাম ইমদাদুল হককে ঘিরে ধরেন যুবদল নেতা সৈকত হাসান ইকবাল ও তার অনুসারীরা। অনুরোধের পরেও দোয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করে দোয়া প্রার্থনা না করায় চটে যান ইকবাল৷ ইমামের সাথে তিনি উচ্চবাচ্য করতে থাকেন৷ পরে মুসুল্লিদের প্রতিবাদের মুখে যুবদল নেতা ও তার অনুসারীরা সেখান থেকে সরে যান বলে জানান ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক মুসুল্লি।

যোগাযোগ করা হলে মুফতি মুহাম্মদ ইমদাদুল হক বলেন, নামাজ শুরু আগে বিএনপি-সমর্থক স্থানীয় এক ব্যক্তি (যিনি ঈদগাহ কমিটিরও সদস্য) তাকে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা দোয়া করতে অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি দোয়ায় অসুস্থ সকলের আরোগ্য কামনা করেন, বিশেষ কারও নাম উল্লেখ করেননি।

“আমি নামাজ শেষ করে যথারীতি দোয়া করি এবং সেখানে কারো নাম উল্লেখ করি নাই। কারণ এটি আম-মজলিস। এখানে সব দলের লোকই আছে। তাই বিতর্ক এড়াতে নির্দিষ্ট দলের কারো নাম উল্লেখ করা উচিত হবে না ভেবেই তা করিনি। তাছাড়া, উনি (খালেদা জিয়া) রাষ্ট্রীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদেও নেই, সুতরাং তার নাম উল্লেখে কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। আমি সকলের রোগমুক্তি কামনা করেছি। কিন্তু নামাজ শেষে যুবদল নেতা ইকবাল আমার চাকরি খেয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন। আমি অনুরোধের পরও কেন তার নাম নেইনি সেজন্য তিনি আমার দিকে তেড়ে আসেন। খুবই আগ্রাসী আচরণ ছিল তার। মুসুল্লিরা তখন প্রতিবাদ জানালে থামেন তিনি।”

জানতে চাইলে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সৈকত হাসান ইকবাল বলেন, “আমি তার সাথে খারাপ ব্যবহার করি নাই। আমি তাকে শুধু বললাম, অনুরোধের পরও আপনি কেন খালেদা জিয়ার নাম নিলেন না। উনি বললেন, উনি বাধ্য না। তখন উনি কই চাকরি করেন জানতে চাই। জানলাম, উনি যেই মসজিদে চাকরি করেন সেই মসজিদের সভাপতি আমাদের ছোটভাই।”

‘ইমামের চাকরি কেড়ে নেবার হুমকি’র অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। “আমি চাকরি খেয়ে দেবার কোনো কথা বলিনি”, বলেন ইকবাল।

এদিকে ইমদাদুল হক এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং ‘দুর্ব্যবহারের’ জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..