এনামুল হক মামুন নামের এক বিএনপি নেতাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহমান ও তার সহযোগীরা। মঙ্গলবার ১০ মার্চ রাত ১১ টার দিকে ফতুল্লায় মডেল থানায় ঘটনাটি ঘটেছে।
ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় পরিবহণে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মামুন ও তার বাহিনীর সাথে দ্বন্দ্ব চলে আসছে একই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহমান গ্রুপের সাথে। চাঁদাবাজীকে ঘিরে উভয় গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তেমনই এক ঘটনায় মামুনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করে আব্দুর রহমান। কিন্তু পুলিশ মামুনেক গ্রেফতার করেনি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন আব্দুর রহমান। মামুন থানায় রয়েছে এমন খবরে সোমবার রাতে দলবল নিয়ে থানায় আসেন ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহমান। এসময় তাকে দেখে পালানোর চেষ্টা করে মামুন। পরে ধাওয়া দিয়ে তাকে ধরে ফেলে আব্দুর রহমান ও তার লোকজন। এরপর মামুনকে মারতে মারতে ওসির রুমে নিয়ে যায় তারা। সেখানেও তাকে মারধর করা হয়।
ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামুন তার সহযোগীদের নিয়ে গোটা সাইনবোর্ড এলাকা জিম্মি করে রেখেছে। তারা পরিবহণে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, ঝুট ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ট করে তুলেছে তারা। তাদের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা রয়েছে। তাদের অপকর্মের জন্য বিএনপির দুর্নাম হয়। এ জন্য তাদের অপকর্মের প্রতিবাদ করি। এর জেরে গত শনিবার মামুন দলবল নিয়ে সাইনবোর্ড এলাকায় আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হলেও মামুনকে পুলিশ গ্রেফতার করছিল না। এজাহারনামীয় আসামি হয়েও মামুন থানায় এসে ঘুরাফেরা করে। বিষয়টি ওসিকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এরপর থানায় আসলে আমাদের দেখে মামুন দলবল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন তাকে ধরে ওসির হাতে তুলে দেই।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ আসামিদের চিনে না। এর মধ্যে বাদি ও তার লোকজন মামুনকে ধরে নিয়ে আসে। এরপর মামুনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। থানায় মারধরের বিষয়ে ওসি বলেন, বাহিরে মারধর করা হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। তবে আমার সামনে মামুনকে কেউ মারধর করেনি।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...