গঞ্জে আলী খালের ওপর নারায়ণগঞ্জ জেলা মাইক্রোবাস ট্যাক্সি মালিক সমিতির প্রস্তাবিত জায়গা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নানা আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি পক্ষের দাবি, সরকারি জায়গা তথা গঞ্জে আলী খালের ওপর স্ট্যান্ড নির্মাণ করা হলে পানি প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে এবং এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ট্যাক্সি মালিক সমিতির কার্যকরী পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, যেখানে হাজারো মানুষের জীবিকা জড়িত, সেখানে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা মাইক্রোবাস ট্যাক্সি মালিক সমিতির কার্যকরী পরিষদের সভাপতি মো. মনির হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় স্ট্যান্ড পরিচালনা করে আসছি। এক স্থান থেকে আরেক স্থানে স্থানান্তর হতে হতে সর্বশেষ চাঁনমারি এলাকায় এসেছি। এত বছর পার হলেও আমরা এখনো স্থায়ী কোনো জায়গা পাইনি। বারবার স্থান পরিবর্তনের কারণে আমরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি। অথচ এখানে আট থেকে দশ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত।
গতকাল (২০ জানুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্যাক্সি মালিক সমিতির স্ট্যান্ডে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, যেখানে ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের রিজিকের প্রশ্ন জড়িত, সেখানে আমাদের অস্থায়ীভাবে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সবসময় সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করেছি এবং এখনও করছি। বিভিন্নভাবে আমাদের এই জায়গা ছাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, অথচ বিকল্প কোনো স্থান এখনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে মানুষের রিজিক কেড়ে নেওয়া অমানবিক।
গঞ্জে আলী খালের জায়গা নির্ধারণ এবং বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর প্রসঙ্গ তুলে মনির হোসেন বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। জায়গা সংক্রান্ত বিষয়েও আমরা তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং বিকল্প স্থান হিসেবে গঞ্জে আলী খালের একটি অংশের প্রস্তাব দিয়েছি। আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি তাঁর সাধ্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ওই স্থানটি নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম বিষয়টি যাচাই-বাছাই না করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।
মনির হোসেন আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়া প্রয়োজন। এটি কোনো ব্যক্তিগত বা খামখেয়ালি বিষয় নয়, এখানে হাজারো মানুষের জীবিকা জড়িত। প্রতিবাদ সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্যাক্সি মালিক সমিতির কার্যকরী পরিষদের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...