নজরুল প্রেমকাব্যে রাসূল প্রেম
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
নজরুল প্রেমকাব্যে রাসূল প্রেম
রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় বিডি ক্লিনের নারীসহ আহত ২ নগরজুড়ে অবৈধ স্ট্যান্ড, ‘জিম্মি নগরবাসী’ সাংবাদিক এনামুলের মাতার মৃত্যুতে আজমেরী ওসমানের শোক প্রকাশ হাতে লেখা বিশ্বের সর্ববৃহৎ পবিত্র আল-কুরআনের মোড়ক উন্মোচন যুবদল নেতা এখন তাতী লীগের সদস্য সচিব! পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবিতে বন্দর থানা ঘেরাও তাঁত শ্রমিক হত্যায় কারখানা মালিকসহ গ্রেপ্তার ২ রূপগঞ্জে পানিতে ডুবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু ফতুল্লায় বসতি এলাকায় গড়ে তুলেছে শূকরের খামার! গণপূর্ত বিভাগের এবার দেড়কোটির মহোৎসব : সংবাদ প্রকাশে তোলপাড়! নারায়ণগঞ্জের তিন উপজেলায় চেয়ারম্যান হলেন যারা সিল মারা ব্যালট নিয়ে ছবি তুলে আ’লীগ নেতার পোস্ট সোনারগাঁয়ে জাল ভোট দেওয়ায় যুবকের ৬ মাস কারাদণ্ড চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন, পুনরায় ভোটের দাবি জাল ভোট দেয়ার ঘটনায় দুই যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড

নজরুল প্রেমকাব্যে রাসূল প্রেম

নারায়ণগঞ্জের কাগজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৩৬৪ বার পঠিত
নজরুল কাব্যে রাসূল প্রেম

পবিত্র কোরআনে কবি ও কবিতা সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে যে সকল মুসলিম কবি কবিতা রচনায় ইমানের চেতনায় প্রস্ফুটিত হয়ে ভূবণ বিখ্যাত হয়ে আছেন, আমাদের জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলাম তাদের অন্যতম। তাঁর রচিত ইসলামী কবিতা ও গান বাঙ্গালী মুসলমানদের ঈমানের রঙ প্রজ্বলনে সহায়ক ভূমিকা রেখে চলেছে। ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নজরুল সাহিত্যে প্রকট। বিশেষ করে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি তাঁর প্রগাঢ় অনুরাগ ও ভালোবাসা অনন্যতার সাক্ষ্য বহন করে। মহানবী (সঃ) এর প্রতি পরম শ্রদ্ধা ও মহব¦ত থাকা প্রতিটি মুুমিনের ঈমানের অংশ বা বিষয়। তাঁকে ভালোবাসা ছাড়া প্রকৃত মুমিন হওয়া সম্ভব নয়। যা পবিত্র কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু এক শ্রেণির জ্ঞানপাপী অহরহ মহানবী (সঃ) এর চরিত্র হনন করে তাঁকে অবমাননা করছেন। আর এই অপকীর্তির সাথে অধিকাংশ কবি-সাহিত্যকরাই জড়িত। সেখানে রাসূল প্রেমিক কবি কাজি নজরুল ইসলাম তার কবিতা ও গানের মাধ্যমে এই সকল তথাকথিত নাস্তিকদের দাঁত ভাক্সগা জবাব দিয়েছেন।

নজরুল ইসলাম তাঁর গানে বলেন,
‘তর্ক করে কী পেয়েছিস বলনা ওরে অবিশ্বাসী
কী পাওয়া যায় দেখনা চেয়ে মুহাম্মাদে মোর ভালোবাসি।’

একজন ইমানদার মুসলমান দিবানিশি নিত্যকর্মে হাজারো ব্যস্ততার মাঝে কখনো মূহুর্তের জন্যও তার মহান রব আল্লাহর ধ্যান ও প্রিয় হাবীবের স্মরণ থেকে বিরত হয় না। আল্লাহর সৃষ্টি লীলা ও তার নিদর্শন এবং রাসূল পাকের প্রেমে আকণ্ঠ ডুবে থাকে। কবি নজরুলও তার ব্যতীক্রম নন।

তিনি বলেন,
‘বক্ষে আমার কাবার ছবি
চক্ষে মোহাম্মাদ রাসূল
শিরোপরি মোর খোদার আরশ
গাই তারি গান পথ বেভুল।’

কবি নজরুল রাসূল (সাঃ) এর প্রেমে এতই মাতোয়ার ছিলেন যে,

তাঁর প্রেমের গান গাইতে গাইতে তিনি কখনো কখনো পথ হারিয়ে ফেলতেন। রাসূল পাক (সঃ) কে ভালোবাসার অর্থই হলো আল্লাহ পাক কে ভালোবাসা। কবি বলেন,

‘লাইলির প্রেমে মজনু পাগল
আমি পাগল ‘লা-ইলা’র,
বোঝে আমায় প্রেমিক দরবেশ,
অ-রসিকে কয় বাতুল।’

শুধু মহানবী ( সঃ) কে নয়; তাঁর আহলে বায়াতের প্রতি মহব্বত রাখাও ইমানদার মুসলমানের নৈতিক কর্তব্য । সেক্ষেত্রেও কবি কাজি নজরুল ইসলাম পিছিয়ে নেই।

তিনি লেখেন,
“মোর্হরমের চাঁদ এল ঐ কাঁদাতে ফের দুনিয়ায়।
ওয়া হোসেন ওয়া হোসেন তারি মাতম শোনা যায়॥
কাঁদিয়া জয়নাল আবেদীন বেহোঁস হ’ল কারবালায়।
বেহেশতে লুটিয়া কাঁদে আলি ও মা ফাতেমায়॥”

আহলে বায়াত স্মরণে কবি আরো লিখেছেন,
‘খাতুনে-জিন্নাত আমার মা,
হাসান হোসেন চোখের জল,
ভয় করিনা ‘রোজ কেয়ামত’
পুলসিরাতের কঠিন পুল॥’’

কবি নজরুল যেহেতু একজন আল্লাহ-রাসূল প্রেমিক, রাসূল (সঃ) এর ঘণিষ্ঠজনদের ভালবাসেন তাই তিনি রোজ কেয়মত কে ভয় পান না এবং তিনি পুলসিরাত অতি সহজে পার হওয়ার আশা করতেই পারেন। আল্লাহর রাসূল (সঃ) এর প্রতি কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাব ও আবেগের গভীরতা অতল স্পর্শী। অন্তহীন হৃদয়ের আকুলতা প্রাণের আবেশে মাখামাখিতে কবি নজরুল প্রিয় হাবিবকে উপলদ্ধি করেছেন। কখনো রাসূল প্রেমাবেগে হয়েছেন আপ্লুত। তাঁকে স্মরণ করেছেন কবিতায় ও গানে। একান্তে মোহিত হয়েছেন ধ্যনের জগতে। নজরুলের অসংখ্য কবিতা ও গানে মুহাম্মাদ (সঃ) উঠে এসেছেন মোহনীয় ভাব ও ভঙ্গিতে। শব্দ ও ছন্দের ঝংকারে কবি স্মরন করেছেন আল্লাহ পাকের প্রিয় হাবিবকে একেবারেই অনন্য ও অসাধারণ ভাষাচিত্রে।

“ইসলামের ওই সওদা লয়ে
এলো নবীন সওদাগার
বদনসীব আয় আয় গুনাহগার,
নতুন করে সওদা কর।।
-কোরানের ঐ জাহাজ বোজাই হীরা মুক্তা পান্নাতে,
লুটে নে রে লুটে নে সব ভরে তোল তোর শুন্য ঘর।।”

অথবা,
“সাহারাতে ফুটল রে
রঙিন গুলে-লালা।
সেই ফুলেরই খুশবুতে
আজ দুনিয়া মাতোয়ালা॥
চেনে রসিক ভোমরা বুলবুল
সেই ফুলেরই ঠিকানা, কেউ বলে হজরত মোহম্মাদ
কেউ বা কমলীওয়ালা।’’

মহানবী (সঃ) এর উম্মত ও একজন প্রকৃত মুসলিম হিসেবে কবি নজরুল আপন পরিচয়ে চির জাগুরুক। তাঁর এ পরিচয় দিতে কখনো তিনি কুণ্ঠিত ছিলেন না। অকুতভয় নজরুল একদিকে চরম মানবিকÑ অপর দিকে পরম একনিষ্ঠ মুসলমানÑ

“আল্লাহ আমার প্রভূ, আমার নাহি নাহি ভয়॥
আমার নবী মোহাম্মাদ, যাঁহার তারিফ জগৎময়॥
আমার কিসের শঙ্কা, কোরআন আমার ডঙ্কা,
ইসলাম আমার ধর্ম, মুসলিম আমার পরিচয়॥”

কাজী নজরুল ইসলাম যেমন মহানবী (সঃ) এর গুনগ্রাহীকবি, পাশাপাশি তিনি মহানবী (সঃ) এর একজন একনিষ্ঠ প্রচারকও বটে। তিনি সকলকে অকাতরে মদিনার পথে ডেকেছেন ইসলামের আলোয় আলোকিত হবার উদ্দাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

‘‘যাবি কে মদিনায়, আয় ত্বরা করি’।
তোর খেয়া-ঘাটে এল পূণ্য-তরী॥
আবুবকর উমর খাত্তাব
আর উসমান আলী হায়দর
দাঁড়ি এ সোনার তরণীর
পাপী সব নাই নাই আর ডর।
এ তরীর কা-ারী আহমদ,
পাকা সব মাঝি ও মাল্লা
মাঝিদের মুখে সারি -গান শোন্
ঐ “লা-শরীক আল্লাহ!

মহানবী (সঃ) ইসলাম প্রচারের সাথে সাথে সমগ্র দুণিয়াবাসির সম্মুখে একটি অতুলনীয় সৌন্দর্যের সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন। সেই সংস্কৃতির অনুপম চিত্র মুসলমানের পবিত্র ঈদ পার্বন। কাজী নজরুল ইসলাম ইসলামের সংস্কৃতি রূপচিত্র বর্ণনাতেও মহানবী (সঃ) কে ভোলেননি। কবি তার বহুল প্রচারিত ও জনপ্রিয় ঈদ সঙ্গীতÑ “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ” নামক গানে মহানবী (সঃ) স্মরণ করেছেন এভাবে,

“ঢাল হৃদয়ের তশতরীতে
শিরণী তৌহিদের,
র্তো দাওয়াত কবুল করবেন হজরত
হয় মনে উমীদ॥”

মহানবী (সঃ) এর জন্মাকালীন আবহ কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার বিভিন্ন কবিতা ও গানে নানা কাব্যিক ঢংÑ এ সুরের আবেশে এঁকেছেন। শব্দের অপূর্ব সাজ ও ব্যবহার চমৎকার অন্ত্যমিল ও অনুপ্রাস আর ছন্দের যাদুকরি তালÑলয়ে ঝংকৃত মহানবী (সঃ) এর আর্বিভাবকে অতি মোহনীয় করে তুলেছেন কবি নজরুল তার মুন্সিয়ানা হাতে।

“নাই তা-জ
তাই লা-জ?
ওরে মুসলিম,
খুর্জর-শীষে তোরা সাজ!
ক’রে তসলিম হর কুর্নিশে র্শো আ-ওয়াজ
শোন কোন মুজদা সে উচ্চারে “হেরা” আজ
ধরা-মাঝ!
র্উজ য়্যামেন নজদ হেযাজ, তাহামা ইরাক শাম
মেসের ওমান তিহারান-স্মরি কাহার বিরাট নাম,
পড়ে ‘‘সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্লাম।”
-শোন দামাম কামান্ তামাম্ সামান্
নির্ঘোষি কার নাম
পড়ে “সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্লাম!”
‘‘তোরা দেখে যা, আমিনা মায়ের কোলে।
এ মধু পূর্ণিমারই সেথা চাঁদ দোলে।।
যেন ঊষার কোলে রাঙা রবি দোলে।।
কুল-মাখলুকে আজি ধ্বনি ওঠে, কে এলো ঐ-
আকাশ গ্রহ তার প’ড়ে লুটে,
-কে এল ঐ, পড়ে দরুদ ফেরেশতা,
বেহেশতে সব দুয়ার খোলে।।
এল ধরায় দিতে সেই সে নবী,
ব্যথিত মানবের ধ্যানের ছবি,
আাজি মাতিল বিশ্ব-নিখিল মুক্তি- কলরোল।।
প্রিয় নবী (সঃ) ছিলেন অতিমানবিক অনুপম চরিত্রের অধিকারী। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক তাঁকে ‘রাউফুর রাহীম” বলেছেন। আবার বলেছেন ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’। আল্লাহ পাক সাক্ষ্য দিয়েছেন “খুলুকুন আ’জিম’ হিসেবে। কবি নজরুল রাসূলের শানে লিখেছেন,‘‘সৈয়দে মক্কী মদনী
আমার নবী মুহাম্মাদ।
করূণা-সিন্ধু খোদার বন্ধু
নিখিল মানব-প্রেমাস্পদ।।
-হায় সেকান্দার খুঁজল
বৃথাই আবহায়াত এই দুণিয়ায়,
বিলিয়ে দিল আমার নবী
সে সুধা মানব সবায়।’’
শুধু এই নবী বন্দনাতেই কবির মন ভরেনি। কবি গেয়েছেন আরো আকুলতায় -ভাবের বিহ্বলতায় হয়েছেন মুগ্ধ। দুরূদে দুরূদে ভরেছেন মন-প্রাণ।
“মোহাম্মাদ মোস্তফা সাল্লে আলা
তুমি বাদশারও বাদশাহ কমলিওয়ালা।
পাপে-তাপে পূর্ণ আঁধার দুনিয়া
হ’ল পূণ্য বেহেশতী নূরে উজালা।।
তব গুণ গাহিল নিজে আল্লাহ তায়ালা।।’’

কবি কাজী নজরুল ইসলাম আল্লাহর হাবিব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ( সঃ) কে কত ভাবে Ñকত অনুভবে, কত শত রংধনুর আল্পনায়- কত রূপ সুধায়, কত কল্পনায় মনের আরশিতে আপানার মাঝে ঠাঁয় দিয়ে রাসূল প্রেমে আত্মহারা হয়েছেন তা তার গানের শব্দ ব্যঞ্জনায় অনুরণিত হয় নানা রূপ বৈচিত্রে।

‘‘হেরা হতে হেলে দুলে
নূরানি তনু ও কে আসে হায়!
সারা দুনিয়ার হেরেমের পর্দা
খুলে খুলে যায়-
সে যে আমার কমলিওয়ালা কমলিওয়ালা।

নবীর ইশকে পাগল কবি নজরুল নবী বিরহে কেঁদেছেন। তার অজস্র কবিতা ও গানে তিনি নবীর স্মৃতিবিজড়িত মক্কা-মদিনার ছবি এঁকেছেন। মনের আকুতি জানিয়েছেন সেই পূণ্যভূমি দর্শনের। যদিও কবির সে আশা পূরণ হয়নি। সেই বেদনা নিয়ে কবি দুনিয়া হতে চিরবিদায় হয়েছেন। কিন্তু তার পরম আকুতি নবী মোস্তফা (সঃ) এর ভালোবাসা থেকে এতটুকুও বিচ্ছিন্ন হতে পারেনি। তিনি তার ধ্যানের জগতে বা আধ্যাত্মিকতায় সব সময় বিচরণ করেছেন মোহাম্ম্দ (সঃ) এর ধুলিধুসর মরুর বুকে। মক্কা-মদিনার পথে প্রান্তরে- এক বুক আশা নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন এই ভাবেÑ
‘‘সুদূর মক্কা মদিনার পথে আমি রাহী মুসাফির,
বিরাজে রওজা মোবারক যথা মোর নবীজির।।
মা ফাতেমা হাসান হোসেন খেলেছেন পথে যার
কদমের ধূলি পড়েছে যথায় হাজার আম্বিয়ার,
সুরমা করিয়া কবে সেই ধুলি
মাখিব নয়নে দুই হাত তুলি’
কবে এ দুনিয়া হতে যাবার আগে রে কাবাতে লুটাব শির।।’’

রাসূল (সঃ) এর আবির্ভাব কালিন আবহ যেমন কবি কাজী নজরুল নিপুন হাতে কবিতা গানের ছন্দে অপূর্ব ভাব মাধূর্যে অঙ্কন করেছেন, মহানবী( সঃ) এর তিরোধান দিবসের বেদনা বিধূর আবহ অনন্য স্বকীয়তায় তুলে ধরেছেন তার অনবদ্য ‘ফাতেহা-ই দোয়াজ্দ-হম (তিরোভাব) কবিতায়।’

‘‘একি বিস্ময়! আজরাইলেরও জলে ভর-ভর চোখ!
বে-দরদ দিল্ কাঁপে থর-থর যেন জ¦র-জ¦র শোক।
–জিব্রাইলের আতশী পাখা সে ভেঙে খান খান,
দুনিয়ার দেনা মিটে যায় আজ তবু জান আন্-চান্!
–রসূলের দ্বারে দাঁড়ায়ে কেন রে আজাজিল শয়তান?
তারও বুক বেয়ে আঁসু ঝরে, ভাসে মদিনার ময়দান!
–ফুল পাতা যত খসে পড়ে, বহে উত্তর-চিরা বায়ু,
ধরণির আজ শেষ যেন আয়ু, ছিঁড়ে গেছে শিরা-স্নায়ু!
মক্কা ও মদিনায় আজ শোকের অবধি নাই।
যেন রোজ হাশরের ময়দান সব উম্মাদ সম ছোটে।
কাঁপে ঘন ঘন কাবা, গেল গেল বুঝি সৃষ্টির দম টুটে।
আজ স্বরগের হাসি ধরার অশ্রু ছাপায়ে অবিশ্রাম
ওঠে এ কী ঘন রোল-“সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্লাম।”

এভাবে কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার মানুষ, উমর ফারুক, খালিদ, আযাদ মোহররম, খেয়াপারের তরণী ও শাতিল আরব কবিতাসহ অজস্র কবিতা ও গানে মহানবী (সঃ) ও তাঁর পরিবারকে স্মরণ করে নানা গুনকীর্তন করেছেন এবং ইসলামের সৌন্দর্যময় সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন।

লেখক-
কামাল সিদ্দিকী
প্রাবন্ধিক, কবি ও কলামিস্ট
বন্দর, নারায়ণগঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..