1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : nkagojadmin :
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সদস্য সেলিম মুন্সির বাবার মৃত্যু সাংবাদিকের দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর শামসুল হুদার ইন্তেকাল সামাজিক সংগঠন ‌‘আলোকিত মাসদাইর সংসদ’র অনুমোদন উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন দল নেই : আনোয়ার হোসেন ফতুল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন : সভাপতি নুরু, সম্পাদক সোহেল ফতুল্লায় ১৬ জুয়াড়ি গ্রেফতার ফতুল্লায় অগ্নিদগ্ধ বাবা-মেয়ের মৃত্যু, শঙ্কায় মা তরুণীকে খুন করে আপন ভাই, লাশ গুম করে বাবা ফতুল্লায় ৪ চোরাই মোটর সাইকেলসহ গ্রেফতার ৬ বীরপ্রতীক গাজী সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী খোকার সাহস ও গুরু তারেক জিয়ার জন্মদিন পালন করলো ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দল অয়ন ওসমানের জন্মদিনে ফতুল্লায় ছাত্রলীগ নেতা সৌরভের দোয়ার আয়োজন জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে তারেক রহমানের জন্মদিন পালন আমরা যুব সমাজকে নিয়ে জেলাবাসীর সেবা করতে চাই : সাইফুল ইসলাম

নারায়ণগঞ্জে যত্রতত্র কিশোর গ্যাং

মোঃ মনির হোসেন
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩৪৭ বার পঠিত
নারায়ণগঞ্জে যত্রতত্র কিশোর গ্যাং

ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। অল্প কয়েক বছরের মধ্যে মহামারির মতোই কিশোর সন্ত্রাসীপনার অভাবিত বিস্তার, নারায়ণগঞ্জসহ বড় বড় শহরে। শুরুতে কেন্দ্রীভূত ছিল স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশবিশেষের মধ্যে এখন এর বিস্তার ঘটেছে অশিক্ষার্থী কিশোরদের মধ্যে, এমনকি বস্তিবাসীর মধ্যেও। বলাবাহুল্য, এর তাৎপর্য ভয়ানক।

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছোট ছোটে গ্রুপে ভাগ হয়ে চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এক গ্রুপের সদস্যরা অন্য গ্রুপের সদস্যদের, নিরীহ ছেলেদের খুন করতেও দ্বিধাবোধ করছে না। পারিবারিক শিক্ষা, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দিন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে কিশোররা এমন অপরাধে বেশী জড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রথম রাজধানীর উত্তরায় দুই গ্রুপের বিরোধের জেরে স্কুলছাত্র আদনান নিহত হওয়ার পর ‘গ্যাং কালচার’ আলোচনায় আসে। এরপর ধারাবাহিকভাবে সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে ও কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক গ্রুপ গড়ে উঠে। বর্তমানে তাদের অবস্থান চাষাঢ়া রেল স্টেশন, ফতুল্লা রেল স্টেশন, চাষাঢ়া শহীদ মিনার, ৫নং ঘাট, বন্দর খেয়া ঘাট সহ পাড়ায় মহল্লায় কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য সক্রিয় রয়েছে। করোনাকালেও তারা মারামারি, খুনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরধ পরিচালনা করছে।

এর আগে গত কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পাঠানটুলী এলাকায় আহাদ আলম শুভ মিয়া নামের এক যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। নিহত শুভ পাঠানটুলীর মো. বশির মিয়ার ছেলে। এলাকার এক যুবককে চড়-থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতেই শুভকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও শুভ’র স্বজনরা।

এছাড়া ও ফতুল্লার গাবতলীতে ওয়াসিফ গাউসিল উৎস নামের এক কিশোর রামদা হাতে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করে। এলাকার একটি ভিডিও ফুটেজে এ ঘটনা ধরা পড়ে। ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উৎস বড় একটি ছোরা নিয়ে একটি গলি থেকে উত্তেজিত অবস্থায় বের হয়ে আসে। কয়েকজন অনুসারি নিয়ে কয়েক মিনিট পর সে আবারও সেই গলিতে ঢুকে। ওই ঘটনার পর স্থানীয় নিজামের মা নূরজাহান বেগম ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দেন। তিনি অভিযোগ করেন, উৎস ১০ থেকে ১৫ জন নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নিজামকে ধাওয়া করে। এ সময়ে প্রতিপক্ষের কাছে দেশীয় অস্ত্র ছিল।

এছাড়া গত কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে আত্মরক্ষার্থে শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপ দেয় বন্দরের কদমরসুল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মিহাদ (১৮) ও বন্দরের বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র জিসান (১৫)। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে গত ১ এপ্রিল ফতুল্লার দেওভোগ আদর্শনগর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা শরি হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত শরিফের বাবা আলাল মাতব্বর জানান, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য শাকিল ও লালনসহ কয়েকজন শত্রুতার জেরে তার একমাত্র ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

এদিকে, একটি গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা এখন ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র ব্যবসা, পাড়া-মহল্লায় নারী ও কিশোরীদের উত্ত্যক্ত করা, খুন ইত্যাদি কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। কখনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, আবার কখনো সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে তারা এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের এ কর্মকান্ডের ফলে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন স্থানে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ আরো বলা হয়, গত ২৫ মার্চ মহামারীর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গার্মেন্টস ও কল-কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে শিল্প-কারখানা চালু হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কিশোর-কিশোরীদের লেখাপড়ার চাপ নেই। তাই বর্তমানে পাড়া-মহল্লা, অলিগলিতে আড্ডা দেয়াসহ বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে মারামারি ও খুনের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

তবে সচেতন মহল মনে করেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের এখনই নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ভবিষ্যতে তাদের মাধ্যমে বড় ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা সংঘটিত হতে পারে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিশোর গ্যাংগুলোকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার ফারজানা রহমান একটি দৈনিককে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, মাদক, অবাধে ইন্টারনেট ব্যবহারসহ নানা কারণে এ ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোররা। এছাড়াও পরিবার থেকে সঠিক শিক্ষা না থাকায় কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এমনকি শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার প্রবণতাও কমে গেছে। তাই এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্মীয়, নৈতিক শিক্ষা বৃদ্ধি ও ইন্টারনেট ব্যবহারে নজরদারি বাড়ালে এ ধরনের অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব হবে মনে করেন তিনি। সমস্যা হলো বিভিন্ন স্থানে এ ধরণের কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তারপরও জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই রকম কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তবে এই অপরাধ দমনে পুলিশ চেষ্টা করছে। কিন্তু কেবলমাত্র আইন প্রয়োগ করে এই সমাধান সম্ভব নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিকসহ নানা ধরনের বিষয়াদি জড়িত রয়েছে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা উচিৎ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, যে কয়েকদিন এসপি হারুন নারায়ণগঞ্জে ছিলেন, ততদিন নারায়ণগঞ্জে কোন সন্ত্রাসী বাহিনী দেখা যেত না, সব গর্তে লুকিয়ে ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক, এখন তো আবার সেই আগের মত।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

error: Content is protected !!