নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়া আব্দুর রশিদ আহম্মেদ কার্যক্রম শুরু করতেই চিহ্নিত একটি চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু চক্র তার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৫ আগস্ট, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর বক্তাবলীর সাবেক চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী আত্মগোপনে চলে গেলে ইউনিয়নের স্বাভাবিক নাগরিক সেবা কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান। তবে ব্যস্ততার কারণে তিনি নিয়মিত পরিষদে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
পরে ইউএনও ১২ জন ইউপি সদস্যকে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মধ্যে থেকে যোগ্য ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনয়ন দিতে বলেন। মেম্বারগণ সম্মিলিতভাবে ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে আব্দুর রশিদ আহম্মেদকে মনোনীত করেন। জেলা প্রশাসক তার নিয়োগপত্র জারি করলে রশিদ আহম্মেদ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রশিদ মেম্বার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইউনিয়নের নাগরিক সেবা যেমন জন্ম ও মৃত্যু সনদ, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রতিদিন নিয়মিতভাবে প্রদান করা শুরু হয়। এতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে।
অবৈধ সুবিধা না পেয়ে স্থানীয়ভাবে কুখ্যাত একটি চক্র—নজরুল ইসলাম প্রধান, আবুল খায়ের, রাসেল প্রধান, হালিম আজাদ ও রাহাত প্রধান—সহ তাদের অনুসারীরা পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিতে শুরু করে। গত ৬ এপ্রিল, রোববার সকালে পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয় খুলতে গেলে ওই চক্রটি তাদের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং পরিষদের তালা খুলতে বাধা দেয়। এতে পরিষদ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় বক্তাবলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সলিম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মীর আলমগীর, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ মিয়া, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন ফকির, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইদ্রিস আলী প্রধান সহ আরও অনেক নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, “রশিদ আহম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একমাত্র বিএনপি ঘরানার মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত হন। এলাকাবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগের এমপি বা চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে হয়েছে, এতে তার রাজনৈতিক আদর্শ বদলায়নি। তিনি বিএনপিতে আছেন এবং থাকবেন।”
তারা আরও বলেন, “রশিদ আহম্মেদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে পেয়ে আমরা অত্যন্ত খুশি। কারণ তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনগণ নিয়মিত নাগরিক সেবা পাচ্ছেন।”
বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সচেতন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, নজরুল গং কেবল পরিষদের কাজে বাধা নয়, তারা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমেও লিপ্ত। চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য, ভূমিদস্যুতা—সবই তাদের কর্মকাণ্ডের অংশ। তারা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি)-এর প্রতি আহ্বান জানিয়ে দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মো. হাসান আলী বলেন, “রশিদ মেম্বার আগে থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় পুরো ইউনিয়নবাসী উপকৃত হচ্ছে এবং সেবা পাচ্ছে।”
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...