দীর্ঘ ২২ বছরের প্রতীক্ষার পর ফুটবলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারানোর বিজয় উৎসবে মেতে উঠেছে পুরো বাংলাদেশ। এই আনন্দে সামিল হয়েছে নারায়ণগঞ্জও। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতভর শহরজুড়ে চলে বাঁধভাঙা উল্লাস, উদ্দীপনা ও বিজয়ের গর্ব।
নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। খেলা দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামলে শহীদ মিনার পরিণত হয় যেন এক মিনি স্টেডিয়ামে।
এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ ঘিরে ছিল তীব্র উত্তেজনা। সন্ধ্যা থেকেই লাল-সবুজের জার্সি, জাতীয় পতাকা ও মুখে “বাংলাদেশ” স্লোগান নিয়ে ভিড় জমাতে থাকেন দর্শকরা। খেলা শুরু হওয়ার আগেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ ধ্বনি।
পুরো ম্যাচজুড়ে দর্শকদের উল্লাসে মুখর ছিল শহীদ মিনার চত্বর। প্রথমার্ধের ১১ মিনিটে বাংলাদেশের করা গোলেই দর্শকদের মাঝে উত্তেজনার আগুন আরও জ্বলে ওঠে। বিরতির পরও সেই উচ্ছ্বাসে কোনো ভাটা পড়েনি।
অবশেষে নির্ধারিত সময় শেষে ১–০ গোলে ভারতকে হারানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শুরু হয় উল্লাসের বিস্ফোরণ। কেউ পতাকা উড়ান, কেউ লাফিয়ে ওঠেন, কেউ আবার একে অপরকে আলিঙ্গন করে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। বহু বছরের আক্ষেপ মুছে দেওয়া এই বিজয় শহরবাসীর মাঝে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চার করেছে।
গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল ইসলাম বলেন, “ফুটবলে বহুদিনের চেষ্টার পর এই জয় ছিল আমাদের আকাঙ্ক্ষিত। এই ঐতিহাসিক সাফল্য ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন করে আশা জাগিয়েছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও এটি তৈরি করেছে নতুন উদ্দীপনা। আমরা সবার জন্য উন্মুক্ত স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করেছি- ঐতিহাসিক মুহূর্তটি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উপভোগ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...