1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : nkagojadmin :
বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্থার ঘটনায় ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শরীফুল হকের পক্ষে সঞ্জয়ের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে ফতুল্লাবাসীকে সুমন আহম্মেদের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে প্রবাসী রাকিবুল ইসলাম রকির শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে ফতুল্লাবাসীকে মোহাম্মদ শাহীনের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে মিজানুর রহমান রনি’র শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে লুৎফর রহমান চৌধুরীর শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে ইকবাল মাদবরের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শাহ্আলমের পক্ষে কাজী আরিফের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে আনোয়ার হোসেনের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে আব্দুল গাফফারের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে মুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শেখ মোঃ ফারুকের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে আমির হোসেন ডালিমের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে বাবুল আহম্মেদের শুভেচ্ছা

মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী স্মরণে

নারায়ণগঞ্জের কাগজ
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ২৫২ বার পঠিত
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী স্মরণে

রণজিৎ মোদক : বাংলাদেশে যেসব মনীষী জন্মগ্রহণ করে দেশ ও জাতিকে নিশ্চিত অধঃপতনের হাত থেকে রক্ষা করেছেন এবং যাদের চরিত্র ও আদর্শের প্রভাব জাতির প্রাণে প্রেরণা যুগিয়েছে, মজলুম জননেতা নামে সুপরিচিত মরহুম মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী তাদের মধ্যে অন্যতম।

১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে কৃষি পরিবারে ভাষানী জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শরাফত আলী খান। মাত্র ছয় বছর বয়সে আঃ হামিদ খান পিতৃহীন হন। বিধবা মা ও চাচাদের উপর লালন-পালনের ভার পড়ে। চঞ্চল বালক ছেলেবেলায় সিরাজগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেয়া হয়। পরে ১৯০৭ সালে উত্তর ভারতের ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্র দেওবন্ধ যান। সেখানে অবস্থানকালে বিপ্লবী ইসলামী চিন্তাবিদ শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভীর রাজনৈতিক চিন্তা ধারার সাথে মিলিত হন।

পরাধীন দেশে জন্মগ্রহণ করে তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। তৎকালীন যাত্রা কবি গানের আসরে গিয়ে উপস্থিত হবেন। সাধারণ মানুষের সাথে মিশে সেইসব সাধারণ মানুষের দুঃখ অনুভব করতেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সাধারণ জনগণকে মাতিয়ে তোলার জন্য সহজ সরল ভাষায় স্থানে স্থানে বক্তৃতা দিতেন। ছেলেবেলা থেকেই ব্রিটিশ সরকারের রাজা জমিদার মহাজন চৌধুরী খান বাহাদুরদের অত্যাচার অবিচার, শাসন শোষণ বঞ্চনার ইতিহাসের সাথে তার পরিচয় ঘটে। অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি তাদের রোষাণলে পতিত হন।

শিক্ষক মাওলানা আব্দুল বাকীর পরামর্শে ভাষানী সিরাজগঞ্জ ত্যাগ করেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে আঃ হামিদ খান ভাষানী আসামের ধুবড়ি মহকুমার জলেশ্বর গমন করেন। সেখানে তার মাতৃবিয়োগ ঘটে। ১৯১৮ সালে তিনি প্রথম পবিত্র হজ্জ উদযাপনের রাজনৈতিক আন্দোলন ও খিলাফত আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। পরে ১৯১৯ সালে রাজনৈতিক কারণে প্রথম জীবনে কারাবরণ করেন। ১৯২৩ সালে তিনি জলেশ্বর ত্যাগ করে আসামের ভাসান চরে বসতি স্থাপন করেন।

মাওলানা আব্দুল হামিদ খান শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বই ছিলেন না। তাঁর মধ্যে ধর্মীয় আধ্যাতিকতা কাজ করেছে। মানুষকে আকর্ষণ করার বিরাট এক শক্তি কাজ করতো তার মধ্যে। আসামে অবস্থানকালে বাঙ্গালী খেদার বিরুদ্ধে ভাষানী দুর্বার আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৩৮ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০ বছর আন্দোলন চলে। ১৯৩৬ সালে ভাষানী কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ক ছেদ করে মুসলিম লীগে যোগদান করেন। তিনি আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি হন। ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর সম্মেলনে যোগদানের পর তিনি পাকিস্তান আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

১৯৪৭ সালের শেষ দিকে ভাষানীকে আসাম থেকে বহিষ্কার করা হয়। ১৯৪৮ সালের প্রথমদিকে ভাষানী বাংলাদেশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আগমন করেন। ১৯৪৯ আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেন। ঐ বছরই ১৬ অক্টোবর তিনি গ্রেফতার হন। জেলখানায় অনশন ধর্মঘট শুরু করলে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহন করায় পূনরায় তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৫৩ সালে শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাষানীর নেতৃত্বে প্রতিক্রিয়াশীল ও গণবিরোধী মুসলিম সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। ১৯৫৪ সালে সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হয়। ১৯৫৭ সালে ভাষানী আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেন। ১৯৫৮ সালে ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে আইয়ুব খানের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যূত্থান ঘটলে মাওলানা ভাষানী অন্তরীণ হন। ১৯৬৩ সালে মুক্তি লাভের পর আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেন। ১৯৫৭ সালে টাংগাইলের কাগমারী সম্মেলনেই ভাষানী তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানকে “সালাম আলায়কুম” জানিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ পাকিস্তানি সামরিক সরকার বাংলাদেশের নিরস্ত্র জনসাধারণের উপর গুলি বর্ষণ করে হত্যা লীলা চালায়। তখন ভাষানী ভারত চলে যান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনেও ভাষানীর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাওলানা ভাষানীর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন।

ভাষানী কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি। ১৯৭৬ সালের মে মাসে ঐতিহাসিক ফারাক্কা মিছিলের নেতৃত্ব দেন ভাষানী। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীর জীবনটাই ছিল কর্মময়। ভাষানীর স্থায়ী কীর্তিগুলোর মধ্যে কাগমারী মৌলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ, বগুড়ায় মহীপুর হাজী মহসিন কলেজ, নজরুল সাহিত্য গবেষনা কেন্দ্র, দেশবন্ধু একাডেমী ও সন্তোষ ইসলামী বিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৬ সালে ১৭ নভেম্বর ৯৬ বছর বয়সে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আব্দুল হামিদ খান ভাষানী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর কর্মগুণে আজো তিনি স্মরণীয় বরণীয় হয়ে রয়েছেন।

লেখক-
রণজিৎ মোদক
শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

error: Content is protected !!