মাদকের ডেঞ্জার জোন ফতুল্লা রেলষ্টেশন!
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
মাদকের ডেঞ্জার জোন ফতুল্লা রেলষ্টেশন!
সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
প্রায় অর্ধকোটি টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ২ শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত ৬০ ফতুল্লায় নতুন আতংক সোর্স মামুন! সোনারগাঁয়ে শিশুকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা বিএনপি দিয়ে গঠিত তুষারধারা পঞ্চায়েত কমিটি নিয়ে হট্টগোল! না’গঞ্জে তীব্র গরমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আরও ৭ দিন বন্ধ ঘোষণা রবিবার নারায়ণগঞ্জের যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না আমি ক্যাসিনো ডন না, ষড়যন্ত্র করে ‘ফাঁসানো’ হয়েছে : সেলিম প্রধান বাসচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, হাসপাতালে মা সাংবাদিকদের সাথে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত অবহিতকরণ সভা নারায়ণগঞ্জে ৩ দিনের হিট অ্যালার্ট, বাড়বে অস্বস্তি মেয়র আইভীকে উৎখাতের হুমকি হেফাজত নেতার ফতুল্লায় গাঁজা-রামদাসহ দুইজনকে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী বাংলাদেশে এলো অনারের মিডরেঞ্জ ফ্ল্যাগশিপ এক্স৯বি অটোরিকশার ধাক্কায় ৩ বছরের শিশু নিহত

মাদকের ডেঞ্জার জোন ফতুল্লা রেলষ্টেশন!

নারায়ণগঞ্জের কাগজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২৬৪ বার পঠিত
মাদকের ডেঞ্জার জোন ফতুল্লা রেলষ্টেশন!

মাদক নামক ভয়াবহ ব্যাধিতে আক্রান্ত নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা। আর এ ব্যাধিতে ঝুঁকে পড়েছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। বাদ যাচ্ছে স্কুল-কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থীরা। জেলার অন্যতম ঘনবসতিপুর্ন থানাটি হচ্ছে ফতুল্লা মডেল থানা এলাকা। আর এখানেই রয়েছে মাদকের ব্যাপক প্রবনতা। যদিও ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান তার নির্বাচনী এলাকাকে মাদকসহ কিশোর অপরাধমুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছেন এবং চলতি মাসেই নাকি সাংসদের জন্মদিন সেই দিনই নাকি তার নির্বাচনী এলাকাবাসীকে মাদকমুক্ত হিসেবে ঘোষনা দিবেন যা দেখার অধীর আগ্রহে রয়েছে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জবাসী।

তবে মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের সাথে এমপির মতবিনিময় আর সেখানে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের অনুপস্থিতি অনেকটাই রহস্যজনক হিসেবেই গুনেছেন নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ। তাদের দাবী,মাদক নির্মুলে প্রশাসনের কি আগ্রহের কমতি রয়েছে নাকি অন্যকিছু?

এদিকে ফতুল্লা মডেল থানাধীন প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় যেভাবে মাদকের প্রবনতা দেখা দিয়েছে তা অধিকতরভাবে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবক মহল। আর মাদক বিক্রেতাদের পুলিশ ও বিশেষ পেশার ব্যক্তিদের সাথে দহরম-মহরম সর্ম্পকটা যেন আরো বেশী ভাবাচ্ছে অভিভাবকদের।

তবে মাদকের প্রবনতা সর্ম্পকে বিভিন্ন এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষের ভাষ্য হচ্ছে, পুলিশ কিংবা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আমরা যতই মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে না কেন, মাদকের নেশা আমাদের সমাজকে জোঁকের মতো আকড়ে ধরে রেখেছে। এদের দমনে আইন থাকলেও আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বের হয়ে এসে পুনরায় তারা আগের চেয়ে বেশি দাপটে চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের ব্যবসা। বিভিন্ন সময় অভিযানে মাদক স¤্রাট-স¤্রাজ্ঞীদের ধরলেও সব সময়ই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকছে সমাজের অধিকতর শক্তিশালী মাদকের গডফাদাররা। তাই মাদকের স¤্রাট/স¤্রাজ্ঞীদের ধরা হচ্ছে আবার ছেড়েও দেয়া হচ্ছে। কেন ধরছে কেন ছাড়ছে তাও অনেকে জানেন না। তাই ক্রমেই মাদক সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজ ও প্রশাসনসহ সমগ্র জাতি। আর এসব কাজে সহযোগিতা করছে অর্থাৎ মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টারদাতা হিসেবে সমাজের বড় বড় রাগব বোয়াল নামক ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা। এমনকি তাদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে পুলিশ প্রশাসনও সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়। তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হয়ে থাকে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা যেন মাদকের আখড়ায় রূপান্তরিত হয়েছে। এদিকে মাদক বিরোধী অভিযানে পুলিশের নিরবতা অপরদিকে স্থানীয় ক্ষমতাশালী কথাবার্তা (মাদক নির্মূলে পুলিশের দরকার নেই, তার দলের লোকরাই যথেষ্ট) বলে মাদক বিক্রেতাদের আরো উস্কানী দিচ্ছেন বলে অভিমত স্থানীয়দের। তবে সেই ক্ষমতাশালী ব্যক্তি যখন মাদকসহ কিশোর অপরাধ নির্মুলের ঘোষনা দিয়েছেন ঘোষনা পরে সেই মাদক বিক্রি যেমনহারে বেড়েছে তেমনহারে বেড়েছে চাহিদাও। মাদকের ভয়াবহতা বর্তমানে সবচেয়ে বেশী আকারে ধারন করেছে ফতুল্লা দাপা-রেলস্টেশন এলাকাটি। প্রশাসন কর্তৃক চানমারী মাদক স্পটটি বন্ধ হওয়ার এখানে সবচেয়ে বেশী করে মাদক বিক্রি হচ্ছে। কয়েকটি গস্খুপে বিভক্ত হয়ে এখানে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি মাদক বিক্রি করছে মাদক বিক্রেতারা। আর এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক সমর্থন আর বিশেষ পেশার ব্যক্তিদের অর্থগ্রহন। পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভিন্নভিন্ন পেশার আদলে অনেকেই নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন মাদক ব্যবসা। সকল শ্রেণির পেশাজীবী মহল থেকে শুরু করে জন প্রতিনিধিসহ প্রশাসনের প্রতিটি বিভাগের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তারা দাপা ইদ্রাকপুর-রেলস্টেশনসহ আশপাশের এলাকার মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত থাকলে ও রহস্যজনক কারণে মাদক নির্মূলের কার্যকারী কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। তবে বর্তমানে মাদকের ডেঞ্জার জোন হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে ফতুল্লা রেলষ্টেশন এলঅকাটি।

এছাড়াও ফতুল্লার মাসদাইর বাজারসহ আশপাশ এলাকা, ইসদাইর বাজার, রেললাইন, গাবতলী, সস্তাপুর, দেওভোগ, কাশিপুর, বাংলাবাজার, দেওভোগ নুর মসজিদ, বাশমুলিসহ প্রতিটি এলাকাতেই হাত বাড়ালেই মিলছে মরণ নেশা সামগ্রী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা কোন প্রকার রাখ-ঢাক না রেখেই প্রকাশ্যে বিক্রি করছে সকল প্রকার মাদক। মাদক ব্যবসায়ীরা এতোটাই বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে যে মাদক ব্যবসার আধিপত্য বা প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় জড়িয়ে পড়ছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়াতেও কোন দ্বিধাবোধ করছেনা। প্রতিটি পাড়া-মহল্লার এ সকল মাদক বিক্রেতাদের রয়েছে একাধিক গ্রুপ আর এ সকল গ্রপের প্রতিটিসদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে ফতুল্লা মডেল থানায়।

স্থানীয়বাসীর দাবি, সরকার দলীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, বিশেষ পেশায় জড়িত থাকা ব্যক্তিদ্বয়, প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা এবং স্থানীয় মাদকাসক্ত পাতি নেতা ও হোমড়া-চোমরাদের যোগসাজশে প্রতিটি এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট। মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে জেলার আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

বিভিন্ন তথ্যে জানা যায়, মাদক সেবনকারীদের প্রায় ৮৫ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ২৯ বছর। তাদের একটি বিশাল অংশই মাদকদ্রব্য কেনার জন্য টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ডাকাতি, খুন, ছিনতাইসহ দেশে প্রতিনিয়ত যেসব অপরাধ ঘটে চলছে সেসবের একটি বড় অংশের পেছনেই রয়েছে মাদক।

সুধী মহলের অভিযোগ, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যতটা প্রচার করি তার শতকরা ১০ ভাগও যদি বাস্তবে প্রয়োগ করি তাহলে নারায়ণগঞ্জে মাদকের বিস্তার রোধ করা অসম্ভব কিছু না।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে যারা এসব মাদক নির্মূল কমিটির প্রধান বা নেতা থাকেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারাই এই মাদক বিক্রির সিন্ডিকেটের রক্ষক হন। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ যুব সমাজকে মাদক-আক্রান্ত হয়ে ধ্বংসের অবলীলায় নিমজ্জ্বিত হতে দেখা যায়। মাদকের সয়লাব ও সহজলভ্যতার কারণে যুবকরা কোনো না কোনো উপায়ে নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, ফতুল্লা মডেল থানায় এ সময়ে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হতো। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো উপস্থাপন করা হলে পরবর্তীতে সেই সমস্যাগুলো সমাধান করা হতো। কিন্তু দুঃভাগ্য হলেও সত্য যে,ওসি কামাল উদ্দিন থাকাবস্থায় নিয়মিতভাবে ওপের হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমানে প্রায় কয়েকবছর যাবত তেমনভাবে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়না। প্রতিটি এলাকার সাধারন মানুষগুলো তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেনা বলেই মাদক বিক্রেতাসহ বিভিন্ন অপরাধীরা অপরাধ করে বেড়ালেও তার কোন প্রতিকারের ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধ দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। কারন ওপেন হাউজ ডে’র পর আগতদের বক্তব্যগুলো লিপিবদ্ধ করে পরবর্তীতে এ্যাকশনে যেতো পুলিশ আর শান্তিপুর্নভাবে বসবাস করতো সাধারন মানুষগুলো। তারা আরও বলেন,সাবেক পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সময়ে ১ মাসে যে পরিমান মাদক ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম ছিলো। সে চলে যাওয়ার পরবর্তী সময়ের পর অদ্যবদী ৫ ভাগ উদ্ধার হয়েছে কিনা তাও বলতে পারবেনা থানা পুলিশের কর্তাবাবুরা।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পুলিশী টহল ব্যবস্থা কম থাকার মাদক বিক্রেতারা আরো বেশী সুযোগ পেয়েছে মাদক বিক্রিতে। তাছাড়া মাঝে মাঝে ২ থেকে ১ জন পুলিশকে দেখা গেলেও তারা কিন্তু মাদক কিংবা মাদক বিক্রেতাদের ধরতে আসে না। আসে শুধুমাত্র টাকা নিতে। প্রতিটি মহল্লায় পুলিশের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের এরকম দহরম-মহরম সর্ম্পকের ফলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল হচ্ছেনা বরং দিনের পর আরো বহুগুনে বেড়ে চলছে।

এদিকে মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় যুব সমাজের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে করে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে ব্যাপকভাবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোক দেখানো অভিযানে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে পুরোদমে আবার শুরু হচ্ছে মাদক পাঁচার ও বিক্রি। ইদানীং হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসায় কিশোর বয়সের ছেলে ও নারীরা জড়িয়ে পড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে সমাজে ধীরে ধীরে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ফতুল্লা থানাধীন প্রত্যন্ত এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশের জোরালো অভিযানের দাবি করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি র‌্যাবেরও সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..