1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : nkagojadmin :
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০১:১০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নববধূকে বটি দিয়ে হত্যা করেছিল স্বামী, ২ বছর পর স্বীকারোক্তি সোনারগাঁয়ে ইউএনওর ওপর হামলার চেষ্টা বিএনপি সম্প্রীতির রাজনীতি করে : খোরশেদ ফ্রান্স আরেকটি ক্রুসেড যুদ্ধ চায় : মানববন্ধনে পীর সাহেব জৌনপুরী ডিসি-এসপি ও ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদকের সাথে জিম ওনার্স নেতাদের সাক্ষাত বন্দরে নিখোঁজের ১৭ ঘণ্টা পর গৃহবধূর রক্তমাখা লাশ উদ্ধার স্টিল মিলে বিস্ফোরণ : দুই ব্যবস্থাপকসহ ৪ কর্মকর্তা গ্রেফতার রূপগঞ্জে স্টিল মিলে বিস্ফোরণ, দগ্ধ আরো ৩ জনের মৃত্যু ফতুল্লায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ, গ্রেফতার ধর্ষক পলাশকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন জাহাজ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা শ্রমিকনেতা পলাশের পিতার ২২তম মৃত্যবার্ষিকী আজ হিন্দু কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে পূজা উপলক্ষে বস্ত্র দান ফতুল্লার বাড়ৈভোগ পূজামন্ডপ পরিদর্শনে এএসপি মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী নারায়ণগঞ্জে যত্রতত্র কিশোর গ্যাং বন্দরে ভাড়াটিয়াকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৩

হারিয়ে যাচ্ছে বাদল দিনের কদম ফুল

নারায়ণগঞ্জের কাগজ
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০
  • ২৪১ বার পঠিত
হারিয়ে যাচ্ছে বাদল দিনের কদম ফুল

রণজিৎ মোদক : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন বাংলাদেশ। তাই তো কবি তার কবিতায় বলেছেন, ‘বাংলার মুখে আমি দেখিয়াছি তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।’ বিশ্বস্রষ্টা সমস্ত সৌন্দর্য উজার করে দিচ্ছেন। আর তারই সৃষ্ট মানুষ সেই সৌন্দর্যের ডালা থেকে নিষ্ঠুর কুঠার দ্বারা ধ্বংস করে বৃক্ষ তরু। হারিয়ে যাচ্ছে বাদল দিনের কদম ফুল।

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষা এক অনন্য ঋতু। বর্ষার আগমনকে স্বাগত জানায় কদম ফুল। কদম ফুল মানুষের মন উদাস করে। কিসের যেন অভাব, না পাওয়ার বেদনা মানুষকে অভিভূত করে তোলে। মন চায় প্রিয়জনকে কাছে পেতে। অপ্রাপ্য আনন্দ খোঁজে মানুষ। মনের অজান্তেই গেয়ে উঠে “চেয়ে আমি আকাশ পানে কোন কাজ নাহি হাতে/ কোন কাজে নাহি বসে মন। তন্দ্রা আছে, নিদ্রা নাই, দেহ আছে, মন নাই, পৃথিবী যেন অস্ফুট স্বপন।” আষাঢ়ের কালিমাখা মেঘের অন্ধকারে লুকানো কদম ফুল মানব মনের পর্দায় এক অজানা শিহরণ জাগায়। বিরহী মন তখন কেঁদে উঠে, তুমি কোথায়! তুমি কোথায়! বেদনা বিধূর তপ্ত হৃদয়ে এক পশলা বৃষ্টি কামনা জাগে।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার গীত বিজ্ঞানে গেয়েছেন। মেঘের ছায়ায় অন্ধকার রেখেছি ঢেকে তারে এই যে, আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান আজ এনে দিলে হয়তো দিবেনা কাল-রিক্ত হবে যে তোমার ফুলের ডাল। গ্রাম বাংলার মেঠো পথে হেঁটে যেতে যেতে প্রায়ই বাসাসের গাঁ ছুঁয়ে মোহনীয় কদম ফুলের গন্ধ পাওয়া যেতো। এ মোহনীয় গন্ধে স্বর্গীয় সুবাস ছড়াতো চারিদিক। কদম গাছ নিয়ে অনেক কবি কবিতা লিখেছেন। দ্বাপর যুগে শ্রী বৃন্দাবন লীলা মাধুর্যের কদম বৃক্ষের কথা উল্লেখ রয়েছে। অবতার পুরুষ স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ কদম্ব শাখায় বসে বংশী বাজিয়েছিলেন। সেদিক দিয়ে কদম বৃক্ষের প্রাচীনত্ব প্রমাণ রয়েছে।

নবদঈপ শ্রীধাম মায়াপুরে চন্দ্র উদয় মন্দিরকে ঘিরে রাস্তার দু’ধারে প্রচুর কদম বৃক্ষ রয়েছে। সেখানে স্বর্গীয় সুবাস ছড়াচ্ছে কদম ফুল। অথচ এই কদম গাছ রক্ষণাবেক্ষনে আজকাল তেমন কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ম্যাচ ফ্যাক্টরী ও ইট ভাটায় ধ্বংস করা হচ্ছে কদম গাছ।

একদিকে সরকার বৃক্ষরোপনের কথা বলছে অন্যদিকে ম্যাচ ফ্যাক্টরীসমূহ দিয়াশলাইয়ের বাক্স তৈরীতে কদম বৃক্ষ ধ্বংস করছে। এতে প্রতি বছর হাজার হাজার কদম বৃক্ষ ধ্বংস হচ্ছে। কদম বৃক্ষের যেমন রয়েছে ভেষজ গুণ তেমনই ফুলে রয়েছে বায়ু দূষণমুক্ত রাখার সুগন্ধি শক্তি। কদম বৃক্ষ অনেকটা নিজ থেকেই জন্মে তেমন যত্নাদি করতে হয় না। অল্পদিনেই কদম গাছ বেশ বড় হয়ে উঠে। কদম গাছের পাতা বেশ বড়। কদম ফুল গোল। শক্ত গোল গোটার উপর হাজার হাজার ছোট ছোট পাপড়ি দ্বারা আচ্ছাদিত। তার উপর আরও সুন্দর নরম দীর্ঘ সাদা-হলুদ পাপড়ি। কদম ফুল আরও মোহনীয় রূপ ধারণ করে।

এ মোহনীয় কদম ফুলের রেণুর আকর্ষণে হয়তো বনচারি অজান্তেই বলে উঠে “নসাং জেবারে জাগাং চারি/ ইদু আগং জনমন পুরি/ এ জাগা গান রইয়েছে মা মনান জুরি।” এই সুন্দর নিবিড় বনের মায়াময় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে আমার হৃদয় কেড়ে নিয়েছে, মাতাল উদাস করে দিয়েছে, এ জায়গা ছেড়ে আমি কোথাও যাবোনা। মানুষ ইচ্ছা করলে তার আশপাশ সুন্দর বৃক্ষময় করে গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু সেই সদিচ্ছা অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। সে কারণে ঋতু বৈচিত্র্যের এ বাংলাদেশে কদম বৃক্ষ হারিয়ে যাচ্ছে।

লেখক-
রণজিৎ মোদক
শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

error: Content is protected !!