নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বেপরোয়া গতিতে চালানো একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় হাবিব হাসান (১৫) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহলের তৎপরতা এবং টাকার দরকষাকষির অভিযোগ উঠেছে, যা জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ফতুল্লা থানাধীন পূর্ব গোপালনগর বক্তাবলী ফেরিঘাট এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হাবিব হাসান ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর এলাকার মো. আবুল হাশেমের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় হাবিব তার বাবার আখের রসের দোকানে বসে ছিল। এ সময় শাহ সিমেন্ট কোম্পানির একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-উ-১১-১৫০৮) দ্রুতগতিতে ঢালে উঠে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। পরে সেটি সোজা দোকানের ওপর উঠে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আঘাতে কিশোর হাবিবের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা চালক মনির (২৮) ও হেলপার শাহাদাৎ হোসেন (৪০)-কে আটক করে। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং গাড়িটি জব্দ করে। বুধবার (২৯ জুলাই) তাদের নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে আদালত আসামীদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে এবং ‘মাছের বাজারের মতো’ দরদাম করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কখনো ২০ হাজার, কখনো ৩০ হাজার, কখনো ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দরকষাকষি করতে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, শাহ সিমেন্ট কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও দালাল এ তৎপরতায় জড়িত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে শাহ সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমন অভিযোগ সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে- একটি কিশোরের প্রাণহানির ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়াকে কি অর্থের বিনিময়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে? একটি প্রাণের মূল্য কি এভাবেই দরকষাকষির টেবিলে নির্ধারিত হবে?
নিহতের পরিবার ইতোমধ্যে চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি শুধু একটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়; বরং এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের বিরুদ্ধে ওঠা ধামাচাপা ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের দাবি- প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় যেন কোনোভাবেই এই হত্যাকাণ্ড চাপা না পড়ে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...