নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আমতলা এলাকায় আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত সাগর মল্লিককে ঘিরে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদের নাম ব্যবহার করে এলাকায় দালালি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
সাগর মল্লিকের বাড়ি মাগুরা জেলায় হলেও তিনি ফতুল্লার আবির ফ্যাশন নামের একটি গার্মেন্টসে প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করেন। এলাকার সাধারণ মানুষ ও আবির ফ্যাশন নামের ওই গার্মেন্টসের শ্রমিকদের দাবি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত না থেকেও আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে নানা দালালি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন এবং মানুষকে হয়রানি করতে থাকেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী এলাকা ছাড়লেও সাগর মল্লিক বহাল তবিয়তে এলাকায় থেকে যান এবং আওয়ামী লীগের দোসর পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় থাকেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সাগর মল্লিক আওয়ামী লীগের দোসর সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের নাম ভাঙিয়ে থানাসহ বিভিন্ন স্থানে দালালি করতেন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের দোসর সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের নাম ব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টাও চালাতেন।
সম্প্রতি ফতুল্লায় সংঘটিত একটি ধর্ষণ মামলার ঘটনায় দালালি করতে গিয়ে সাগর মল্লিক আবারও আলোচনায় আসেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম নেয়। স্থানীয়রা মনে করেন, আওয়ামী লীগের দোসর পরিচয় দিয়ে তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে এবং সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অভিযোগ রয়েছে, ফতুল্লা থানার বিভিন্ন মামলায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় দেখা যায় সাগর মল্লিককে। আওয়ামী লীগের দোসর পরিচয় দেখিয়ে তিনি নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা অনেক সময় সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
এ বিষয়ে সাগর মল্লিকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিলে দালালি কার্যক্রম বন্ধ হবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...