রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, আমরা দাঁড়াব কোথায়?
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, আমরা দাঁড়াব কোথায়?
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
হাসিনার মরদেহ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের চিহ্ন ফতুল্লায় গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট বাংলা নববর্ষে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ফেরদৌস পারভেজ ডেনী শহরে ফাঁকা ফুটপাতে নগরবাসীর স্বস্তি বাংলা নববর্ষে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন শাহিন আহমেদ নিলয় ফতুল্লায় শুভ হত্যা মামলার আসামী জাহিদ গ্রেফতার বাংলা নববর্ষে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন রশিদ চেয়ারম্যান ফতুল্লায় ব্যবসায়ীকে মারধর, টাকা ও স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে মশার প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি : জেলা প্রশাসক সিদ্ধিরগঞ্জে বিপুল জ্বালানি তেল জব্দ, একজনকে জেল-জরিমানা এনায়েতনগরে অসুস্থ মনির মেম্বারকে দেখতে বিএনপি নেতারা পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন কাউসার-উল-আলম পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন শাহিন আহমেদ নিলয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন ফেরদৌস পারভেজ ডেনী ফতুল্লায় সেবার আলো যুব উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, আমরা দাঁড়াব কোথায়?

মোঃ মনির হোসেন
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০
রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, আমরা দাঁড়াব কোথায়?

‘‘রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, তখন জাতি এর থেকে কী আর আশা করতে পারে? আইন, বিচার, শাসন বিভাগের কাছ থেকে জাতি আজ দিশেহারা। নির্যাতনের শিকার ক্রমাগত বেড়েই চলছে। গত রবিবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের সময় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রায়হান উদ্দিন (৩৪) নামের এক যুবককে গুরুতর আহতাবস্থায় ভর্তি করেন বন্দর বাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেক এলাহী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হান হাসপাতালে মারা যান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাতের নখও উপড়ানো ছিল। রায়হান উদ্দিন সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার তিন মাসের এক মেয়ে রয়েছে। নগরীর রিকাবি বাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতো সে।

রায়হানের মৃত্যুর পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় সে ছিনতাইকারী ছিল। নগরীর কাস্টঘর এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তার পরিবার পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করে ফাঁড়িতে আটকে রেখে নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ তুলেন। এরপর পুলিশও আগের অবস্থান থেকে সরে এসে ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেয়। এর প্রেক্ষিতে সোমবার বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। ওই ঘটনায় গত রবিবার দিবাগত রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার স্বামীকে বন্দর বাজার ফাঁড়িতে আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা দাবি ও দাবিকৃত টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলার অভিযোগ করেন।

বর্তমানে সিলেটে পুলিশী নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুইয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে আকবরসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদেশে অপরাধমূলক অনেক ঘটনা নিরবে ঘটে যায়, যা কেউ জানেই না। তাই বিচারের তো কোনো প্রশ্নই আসে না। তাই তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাদেকা হালিম এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘কোনো ঘটনা মিডিয়াতে আসলে তার বিচার হয়। কিন্তু ক’টি ঘটনাই বা মিডিয়াতে আসে? ফলে অধিকাংশ ঘটনারই কোনো বিচার হয় না। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই যৌন নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থলে যৌন নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব হতো।”

‘‘হায়রে দেশ, খুবই দুঃখজনক!”

গত কিছুদিন আগে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে গন ধর্ষণের মত এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছে একদল নরপশু, যা সারা দেশের বিবেকবান মানুষকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।

গত ২সেপ্টেম্বর রাতে এক নারীর আগের স্বামী তার সঙ্গে দেখা করতে তার বাবার বাড়ি একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে এসে তাদের ঘরে ঢোকেন। বিষয়টি দেখতে পায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার। রাত ১০টার দিকে দেলোয়ার তার লোকজন নিয়ে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে পরপুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কাজ ও তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে পিটিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। ৪ অক্টোবর দুপুরে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলায় তথা দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

মানুষের হিংস্রতা এতবেশি প্রকট আকার ধারণ করছে যার জন্য মানুষ আর পশুতে কোনো ভেদাভেদ থাকছে না। পশুর মধ্যেও এত হিংস্রতা নেই, যতটা মানুষের মধ্যে দেখা যায়। এ ধরণের সংবাদ শোনার পর বিশ্বাস হয় না যে আমরা মানুষ। মানুষের মধ্যে পশুর মত এমন হিং¯্রতা সত্যি মেনে নেওয়া যায় না। মানুষ আর পশু এক নয়। মানুষের বোধশক্তি আছে, যেটা কিনা পশুর নেই। কোন কাজটা করলে ভালো হবে, আর কোনটা করলে খারাপ হবে এই বোধটুকু প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই থাকে, যেটা কিনা পশুর মধ্যে থাকে না। কিন্তু বর্তমানে মানুষ এতবেশি হিংস্র আর বর্বর হয়ে গেছে, তার মধ্যে বিচার বিবেচনা বোধটুকুও লোপ পেয়েছে। ওই মানুষগুলাকে পশুর সাথে তুলনা করা ছাড়া আর কি বলা যায়? বলার, লেখার বা প্রতিবাদের ভাষা নেই! প্রকৃত মানুষ হলে তো একটা কুকুরের গায়েও গরম পানি ঢালতে হাত কেঁপে ওঠার কথা।

পরিশেষে এইটুকু বলতে চাই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলতে সাধারণত আমরা যে পুলিশকেই বুঝি, সে পুলিশেরই আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ড অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ব্যক্তিগত আক্রোশ কিংবা অর্থের লোভে পুলিশের অপরাধ আরও গুরুতর। আমরা চাই, এর সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। রক্ষকই যদি ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে, তাহলে নাগরিকরা দাঁড়াবে কোথায়?

লেখক-
মোঃ মনির হোসেন
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
সিনিয়র সহ-সভাপতি, ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..