নারায়ণগঞ্জের মানুষ করোনা স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদাসীন!
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
নারায়ণগঞ্জের মানুষ করোনা স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদাসীন!
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
হাসিনার মরদেহ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের চিহ্ন ফতুল্লায় গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট বাংলা নববর্ষে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ফেরদৌস পারভেজ ডেনী শহরে ফাঁকা ফুটপাতে নগরবাসীর স্বস্তি বাংলা নববর্ষে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন শাহিন আহমেদ নিলয় ফতুল্লায় শুভ হত্যা মামলার আসামী জাহিদ গ্রেফতার বাংলা নববর্ষে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন রশিদ চেয়ারম্যান ফতুল্লায় ব্যবসায়ীকে মারধর, টাকা ও স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে মশার প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি : জেলা প্রশাসক সিদ্ধিরগঞ্জে বিপুল জ্বালানি তেল জব্দ, একজনকে জেল-জরিমানা এনায়েতনগরে অসুস্থ মনির মেম্বারকে দেখতে বিএনপি নেতারা পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন কাউসার-উল-আলম পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন শাহিন আহমেদ নিলয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন ফেরদৌস পারভেজ ডেনী ফতুল্লায় সেবার আলো যুব উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

নারায়ণগঞ্জের মানুষ করোনা স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদাসীন!

মোঃ মনির হোসেন
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০
নারায়ণগঞ্জের মানুষ করোনা স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদাসীন!

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে গোটাবিশ্ব যখন মৃত্যুপূরীতে পরিণত হয়েছে। এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সবকটি দেশেই করোনার নিষ্ঠুর থাবা। কোথাও কোন ভালো খবর নেই। প্রিন্টিং ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার যেদিকে চোখ রাখি শুধু আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংবাদ। বাংলাদেশে মৃত্যুর হার ততটা প্রকট না হলেও আক্রান্তের হার অত্যন্ত বেশি। মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে প্রকৃতির বৈরী আচরণ। করোনা প্রাদুর্ভাবের মাঝেই আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, সর্বগ্রাসী বন্যা, বজ্রপাত এবং মুসলধারে বৃষ্টি। পাশাপাশি ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনাও থেমে নেই। ভালো খবরের জন্য মানুষ আজ তৃৃষ্ণার্ত।

গত ডিসেম্বর চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত করোনা ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫১ হাজার ৮০১ জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২৮ হাজার ৭৫৯ জন। নারায়ণগঞ্জে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও ক্রমশ উচ্চ হারে বাড়তে থাকে এ সংখ্যা। চলমান অক্টোবর মাসটিও বাংলাদেশের জন্য খুবই ঝুঁঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জীবন জীবিকা ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে লকডাউন তুলে নেয়া হলেও সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ রয়েছে।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কোন ভ্যাকসিন আবিস্কার না হওয়ায় একমাত্র ব্যবস্থা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সচেতন থাকা। সরকার শুরু থেকে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে অনেক বিধিনিষেধ জারি করলেও সাধারণ জনগণ তেমন একটা আমলে নেয়নি। ফলে করোনার সামাজিক সংক্রমণ বেড়ে যায় ব্যাপক হারে। লকডাউনে অর্থনীতির চাকা অচল হয়ে পড়ায় এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রা সচল রাখতে সরকার লকডাউন তুলে নেয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশের গণপরিবহণও চালু করে দেয়া হয়। এখন নারায়ণগঞ্জের ট্রেন ও চলাচল করছে, এ সুযোগে সাধারণ জনগণ তাদের নিজস্ব কাজে স্বাভাবিক ভাবেই ফিরছেন। এখন সবকিছুই প্রায় স্বাভাবিক বলা যায়। দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব আছে নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি দেখে তা বুঝার কোন উপায় নাই। বিশেষ করে গনবসতি এলাকাগুলি শহরের বাবুরাইল, দেওভোগ, পাইকপাড়া, গলাচিপা, মাসদাইর, ফতুল্লা, কাশিপুর, ভোলাইল, বন্দর, মদনগঞ্জ, আলীনগর ঘাড়মোড়া এ এলাকাগুলিতে কারোই মনে হবে না করোনা বলতে দেশে কিছু আছে। বিশেষ করে খাবারের দোকান, চায়ের দোকান, সেলুন গুলিতে মাস্ক পড়া কাউকেই দেখা যায় না। তবে বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা কেউ মানছেন না। পরিস্থিতি দৃষ্টে একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি পালনে বেশ উদাসীন।

গত ১ অক্টোবর আমি নারায়ণগঞ্জ থেকে আমার কর্মস্থল ঢাকাতে উৎসব পরিবহনে আসি। প্রায় প্রতি সিটেই যাত্রী ছিল। মজার বিষয় হলো পুরো বাসে ৩/৪ জন ছাড়া কারো মুখেই মাস্ক ছিল না। এমনকি ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও হেলপারের মুখেও নয়। এ ব্যাপারে যে শুধু পরিবহন কর্তৃপক্ষই দায়ী তা নয়। রূঢ় বাস্তবতা হচ্ছে মানুষ করোনাকে কিছুই মনে করছেন না। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে আরও দু’বছর করোনার প্রাদুর্ভাব থাকবে। বাংলাদেশের বর্তমান করোনা সংক্রমণের হারও কম নয়। শনাক্ত বিবেচনায় প্রতি ৫ জনে ১ জন আক্রান্ত হচ্ছেন। অথচ দিনান্তে মানুষ আরও বেপরোয়া হচ্ছেন। একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এলেই মনে হয় দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব এখনও চলমান। এখানে বিরাজ করছে সুনসান নিরবতা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিখন-শিক্ষণ কাজ। বেঁচে থাকুক ভবিষ্যৎ কর্ণধাররা। আর সবার জীবন এখন তুচ্ছ। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডই এখন মূল বিবেচ্য বিষয়।

 

লেখক-
মোঃ মনির হোসেন
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
সিনিয়র সহ-সভাপতি, ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..