নারায়ণগঞ্জের কাগজ : নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ম কামিল মাদরাসার আজিজুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থীকে ৭ জন বীর শ্রেষ্ঠর নাম জিজ্ঞেস করেন, তখন ওই শিক্ষার্থী কোন উত্তর দিতে পারেনি। একই সাথে আরেক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি কি সম্মাননা পেয়েছেন। তখনও কেউ উত্তর দিতে পারেনি। এমনকি কামিলে (মাস্টার্স) পড়া শিক্ষার্থীরাও উত্তর দিতে পারেনি। এসময় জেলা প্রশাসক আক্ষেপ করে বলেন, আপনাদের এই অবস্থার জন্য আমি ব্যর্থ। আমি কেন আপনাদের খবর রাখিনা।
পরে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এসকল প্রশ্ন উত্তর না দিতে পারাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। জেলা প্রশাসক হিসেবে আমি তোমাদের শিখাতে পারিনি। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাই ডিসি হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের সেই ভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। ডিসি যোগ্যতা অর্জন নিয়ে তোমাদেরকে পড়ালেখা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, শাহজাহান মাওলানা আমার অফিসে গেলেই তাকে দিয়ে আমি কোরআন তেলওয়াত করাই, বক্তৃতা দেওয়াই। তিনি এত গদগদ হয়ে গেছেন ওনার আর মাদরাসার প্রতি সময় দেওয়ার টাইম নেই। কেননা তিনিতো ডিসি ও শামীম ওসমানের কাছের লোক তার কিছু হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে শহরের মাসদাইর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার ছবক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
এ সময় ডিসি আরো বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে এ পুরস্কার দেয় গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন।
জেলা প্রশাসক বলেন, অনেক শিক্ষক আছেন ক্লাসে এসে পড়ান না। তারা শাহজাহান স্যারের মত প্রিন্সিপালকে ও কমিটির সহ-সভাপতিকে তেল মারেন। আমরা শিক্ষকদের কাছে চাই আপনারা ক্লাসে এসে শিক্ষার্থীদের ঠিকমত পড়া লেখা করান। তাদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন।
তিনি আরো বলেন, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় যারা মেম্বার চেয়ারম্যানের বা আওয়ামলীগ নেতার সন্তান তাদেরকে দিয়ে অতিথিদেরকে ফুল দেওয়ায়। আবার তাদেরক্ইে স্কাউটে রাখে। বাকিরা পিছিয়ে থাকবে এটা হওয়া যাবেনা। বাকিদরেকেও সুযোগ দিতে হবে। তাদেরকেও এগিয়ে আনেত হবে। ওদের লাইব্রেরী খুলে দিতে হবে। তোমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে পিছনে যা হইছে সব বাধ দিতে হবে। তোমাদের মধ্য দিয়ে প্রাইমারী শিক্ষকের নিবন্ধনের জন্য পরিক্ষা দিতে হবে। তুমি যদি সাত বিশ্রেষ্ঠদের নাম বলতে না পাড়ারো তাহলে কিভাবে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মাসদাইর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মতিউর রহমান, সদস্য আমির হোসেন, কামাল হোসেন, পটু, মাদরাসার অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান, দেলপাড়া মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদসহ প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...