বিশেষ সংবাদদাতা : ফতুল্লার কুতুবপুরে ছাগল চুরির অপবাদ দিয়ে দুই যুবককে বেধড়ক মারধর করলেন স্থানীয় ইউপি মেম্বার আলাউদ্দিন হাওলাদারের নির্দেশে তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এদিকে মারপিঠের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করার পরপরই জেলা জুড়ে চলছে তোলপাড়।
সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কতুবপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে ইউপি মেম্বার আলাউদ্দিন হাওলাদার একই এলাকার বাসিন্দা নাঈম ও রাতুলকে গত মঙ্গলবার ৩১ ডিসেম্বর দুপুর ১১টায় ছাগল চুরির অভিযোগ এনে ইউপি মেম্বার আলাউদ্দিন হাওলাদারের নিজস্ব বাহিনী দিয়ে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে শতশত মানুষের সামনে বেধড়ক মারধর করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি মেম্বার আলাউদ্দিন হাওলাদারের নির্দেশনায় জিহাদ, রবিন, ইউনুছ, কাদির সহ তার বাহিনীর সদস্যরা ওই দুই যুবককে বেধড়ক মারধর করছে। ‘ও মা, ও বাবাগো’ ডাকচিৎকারে হৃদয় গলেনি কারো। আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়, নিজ হাতে আইন তুলে নেয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং ইউপি মেম্বারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। কতটা বর্বর হলে মানুষকে বেধড়ক মারধর করে পারে, তা এই ভিডিও না দেখলে বিশ্বাস করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জানতে আলাউদ্দিন হাওলাদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের মতে, একসময় অত্র অঞ্চলের ত্রাস হিসেবে পরিচিত ছিল মেছের। মেছেরের মৃত্যুর পর শুরু হয় তোফাজ্জলের ত্রাসের রাজত্ব। সেই তোফাজ্জলের মৃত্যুর পর এবার আরেক আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে আলাউদ্দিন হাওলাদার। দলীয় প্রভাবে আলাউদ্দিন হাওলাদার নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে তার সন্ত্রাসী বাহিনী অথবা মিথ্যে মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা সহ জমিজমা নিয়ে নানা ঝামেলায় ফেলে দেন। যার ফলে অনেকেই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, কেউ আইন হাতে তুলে নিতে পারে না। এটা অপরাধ। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেন তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
প্রসঙ্গত, ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের শাহী মহল্লা এলাকা থেকে গত ১২ ডিসেম্বর শফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে দুটি ছাগল চুরি হয়। পরে মুন্সিগঞ্জ থেকে ছাগল উদ্ধারসহ দুজনকে আটক করা হয়। ১ জানুয়ারি তাদেরকে নিয়মিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে কোর্টে প্রেরণ করা হয়।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...