নারায়ণগঞ্জের কাগজ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১০ জানুয়ারী চাষাড়া শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জকে অপরাধ মুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছিলেন সাবেক পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। ঐ সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জকে অপরাধ মুক্ত করার ঘোষনা দিলেও মূলত অপরাধীদেরও সাথেই তিনি সুসম্পর্ক তৈরী করে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে বেআইনী কাজ শুরু করে আর্থিক ফায়দা লুটতে মরিয়া হয়ে উঠেন হারুন অর রশিদ। হারুনের দাবীকৃত চাঁদা নেয়া দেয়ায় অনেককেই মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়।
বিশেষ করে সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজনদের টার্গেট করে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন হারুন অর রশিদ। শামীম অনুসারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু। প্রতিষ্ঠিত এই ব্যবসায়ী প্রধান অপরাধই ছিল তিনি সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারি ছিলেন। এক সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা হয়েছিল।
বিগত দিনে যার বিরুদ্ধে থানা একটি সাধারণ ডায়েরীও হয়নি এমন ব্যক্তির নামে এক সপ্তাহে আটটি মামলা দায়ের নেপথ্যে ছিল হারুনের দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ার কারণ। শুধু বাবুই নয়, তার ছেলে রিয়েনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। হারুনের আক্রোশ থেকে বাবুর পুত্র রিয়েনও ছাড় পায়নি।
গত ৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন আর রশীদকে পুলিশ হেড কোয়াটারে বদলী হওয়ার পর থেকেই হারুন অর রশিদের নানা বেআইনী কাজের তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
১৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, ওয়ার্ডবাসীর কল্যাণে সব সময়ই নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু। অথচ তাকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে বার বার হয়রানি করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মামলার বাদীকে বাসা থেকে তুলে এনে বাবুর বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছেন। বাদীদের ইচ্ছে না থাকলেও অনেকটা জোর করেই মামলা করানোর অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...