তেলের দাম বাড়লেও কমেনি তেল নিয়ে তেলেসমাতি
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
তেলের দাম বাড়লেও কমেনি তেল নিয়ে তেলেসমাতি
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ফতুল্লায় জলিল মেম্বার গ্রেফতার তেলের দাম বাড়লেও কমেনি তেল নিয়ে তেলেসমাতি ফতুল্লায় ব্যবসায়ীর কাছে বিএনপির তিন নেতার ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ফতুল্লায় অবৈধ ডিজেল বিক্রি, প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ফতুল্লায় ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা, গুলিবর্ষণে আহত ৪ নারায়ণগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হলেন রেহানুল ইসলাম হাসিনার মরদেহ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের চিহ্ন ফতুল্লায় গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট বাংলা নববর্ষে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন ফেরদৌস পারভেজ ডেনী শহরে ফাঁকা ফুটপাতে নগরবাসীর স্বস্তি বাংলা নববর্ষে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন শাহিন আহমেদ নিলয় ফতুল্লায় শুভ হত্যা মামলার আসামী জাহিদ গ্রেফতার বাংলা নববর্ষে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন রশিদ চেয়ারম্যান ফতুল্লায় ব্যবসায়ীকে মারধর, টাকা ও স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে মশার প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি : জেলা প্রশাসক

তেলের দাম বাড়লেও কমেনি তেল নিয়ে তেলেসমাতি

নারায়ণগঞ্জের কাগজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
তেলের দাম বাড়লেও কমেনি তেল নিয়ে তেলেসমাতি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহ না থাকার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। নগরী ও আশপাশের এলাকায় অনেক পেট্রোলপাম্প নির্ধারিত সময়ের আগেই তেল বিক্রি বন্ধ করে দিচ্ছে, আবার কোথাও দিনের বেলায় সাধারণ গ্রাহকদের তেল না দিয়ে রাতের বেলায় পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে পরিবহন চালক, মোটরসাইকেল আরোহীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, বন্দর, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের বিভিন্ন অলিগলি, মুদি দোকান এবং গাড়ির গ্যারেজে বোতলে ভরে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সক্রিয় চক্র পাম্পের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে তেল সংগ্রহ করে তা মজুত করছে এবং পরে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বাজারে ছাড়ছে। যেখানে পাম্পে অকটেন প্রতি লিটার ১৪০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, সেখানে খোলা বাজারে একই তেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, এমনকি কিছু এলাকায় তারও বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সাধারণ নাগরিকদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব, পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকা এবং স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি দুর্বল হওয়ায় এমন অনিয়ম বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তেল উত্তোলন, পরিবহন ও বিতরণ পর্যায়ে যদি কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, অনেক পাম্পে প্রকাশ্যে “তেল নেই” বলে জানানো হলেও, ভেতরে গোপনে তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকে। বিশেষ করে পরিচিত ব্যক্তি, প্রভাবশালী গ্রাহক বা অতিরিক্ত মূল্য দিতে রাজি এমনদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে সাধারণ ক্রেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাজারে এক ধরনের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, তেলের দাম বাড়ার পর পেট্রোলপাম্প মালিকদের একটি অংশ খুশি প্রকাশ করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লিটারপ্রতি কমিশনও বেড়ে যায়, ফলে তাদের আয় বৃদ্ধি পায়। সরকারের সর্বশেষ নির্ধারণ অনুযায়ী ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোল বিক্রিতে ডিলার ও এজেন্টদের কমিশন বাড়ানো হয়েছে, যা এই সন্তুষ্টির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে জনগণের ভোগান্তির সময়ে এই খুশি প্রকাশ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও, এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনীহা দেখা গেছে পাম্প মালিকদের মধ্যে।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরও বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি; বরং তেল সংকট, মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির মতো অনিয়ম আরও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া এই পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..