আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। কেন্দ্র থেকে এই আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে বরাদ্দ দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপিতে ‘বিদ্রোহী’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রচারণা ও তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা জোট প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, শামীম ওসমান পরবর্তী সময়ে এই আসনে বিএনপির নিরঙ্কুশ আধিপত্যের প্রত্যাশা ছিল তৃণমূলের। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচিত ও পরীক্ষিত স্থানীয় নেতাদের বদলে জোটের প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়ায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শাহ আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হয়েছে এবং তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে অনড় রয়েছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত ৩০ ডিসেম্বর তাদের উভয়কে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠ পর্যায়ে তাদের শক্তিশালী অবস্থান রয়ে গেছে।
মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারি বিকেলে ফতুল্লার কুতুবপুর, বক্তাবলী ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে তৃণমূল নেতাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মী জানান, ধানের শীষের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের আবেগ থাকলেও মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী এলাকায় ‘অপরিচিত’ হওয়ায় তারা দোটানায় রয়েছেন। তৃণমূলের একটি বড় অংশের দাবি- ভোটের মাঠে লড়াই করতে হলে স্থানীয় প্রভাব ও পরিচিতি অপরিহার্য, যা স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর রয়েছে।
এদিকে ৬ জানুয়ারি দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কোনো দলের বিদ্রোহী হিসেবে নয় বরং ‘বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি’ (বিআরপি) থেকে নির্বাচনে লড়বেন। এতে ভোটের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এনসিপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুদান সংগ্রহের মাধ্যমে প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিনের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন বা শাহ আলম তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে ধানের শীষের ভোট ব্যাংক খণ্ডিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ইতিমধ্যে গণসংযোগ ও মোটরসাইকেল শোডাউন শুরু করলেও বিএনপির তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয় সমর্থন আদায় করা এখন তাঁর প্রধান অগ্নিপরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা সমঝোতায় না ফিরলে ফতুল্লার নির্বাচনী ফলাফল বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...