নারায়ণগঞ্জের মানবিক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
নারায়ণগঞ্জের মানবিক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ফতুল্লা প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন ফতুল্লায় এনসিপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১ সিদ্ধিরগঞ্জে অস্ত্র-ইয়াবা-হেরোইনসহ ১০ জন গ্রেপ্তার গুলি ও ম্যাগাজিন সহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যালট পেপার খোলা নিয়ে উত্তেজনা, গুজব বলছে প্রশাসন দলিল লেখক রফিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ভোটকেন্দ্রে বাদাম-বিস্কুট-কলা খাওয়াসহ যেসব কাজ করতে পারবে না পুলিশ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত, বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা নেই : ডিসি নারায়ণগঞ্জে সাড়ে ২৩ লাখ ভোটারের নিরাপত্তায় ১৩ হাজার ফোর্স গিয়াসউদ্দিনকে সংযত হয়ে কথা বলার আহবান কাসেমীর ধলেশ্বরী নদীতে ইটবাহী ট্রলার ডুবি পার্লারের টয়লেটে মিললো নিখোঁজ নারী উদ্যোক্তার লাশ ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন : ডিসি ফতুল্লায় মৎসজীবী দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩ ফতুল্লায় এক কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ২

নারায়ণগঞ্জের মানবিক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা

নারায়ণগঞ্জের কাগজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫
নারায়ণগঞ্জের মানবিক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মানবিক সহানুভূতি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। দুর্নীতি, অনিয়ম ও সামাজিক অসংগতি মোকাবেলার পাশাপাশি জেলার অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি জেলার মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের আর্থিক সহায়তা এবং সরকারি সেবাপ্রাপ্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আগত একাধিক আবেদনকারীকে সরেজমিনে যাচাই করে তিনি তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেন। শহরের বাসিন্দা, স্বামীহারা সংগ্রামী নারী নাছিমা আক্তারকে আর্থিক সহায়তা ও একটি সেলাই মেশিন প্রদান করেন তিনি। একইভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত নাজমা বেগম এবং আরেকজন এক সন্তানের জননী সানজিদা ইসলামকেও আর্থিক সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক।

রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি শহরের ছিন্নমূল মানুষ, এতিম শিশু ও শহীদ পরিবারের জন্য আলাদা আলাদা উদ্যোগ নেন। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় মুসলিমনগর বায়তুল আমান সরকারি শিশু পরিবারের ৮২ জন এতিম শিশুকে পাঞ্জাবি ও পায়জামা উপহার দেন এবং তাদের সঙ্গে ইফতার করেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে তিনি নিজ হাতে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করেন। এছাড়া শহীদ পরিবারদের জন্য ঈদ উপহার সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, তেল, লবণ, দুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী প্রদান করা হয়। এসব কাজ জেলা প্রশাসকের নিজ উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্পন্ন হয়।

প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতকরণেও জেলা প্রশাসক কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। দায়িত্ব গ্রহণ করেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক কলেজ ছাত্রকে স্মার্টফোন উপহার দেন এবং ঘোষণা দেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবন্ধীদের কোনো আবেদনপত্র ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখা যাবে না। পরবর্তীতে প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার, ইলেকট্রিক চেয়ার, কৃত্রিম পা, শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী ইত্যাদি বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন এবং এসব সুবিধা নিয়মিতভাবে প্রদান করা হচ্ছে।

কৃষিজমি রক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের সরাবদী গ্রামে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন। এসময় কৃষকদের মধ্যে উচ্চফলনশীল বীজ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়।

গত ১০ মে পরিবেশ রক্ষায় ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এ কর্মসূচির আওতায় নারায়ণগঞ্জ শহরে ঐদিনই ১০ হাজার গাছ রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির গ্রহণের দুই মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ শহর ও জেলার ৫টি উপজেলায় ১ লক্ষ গাছ রোপণ করা হয় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক পরিচ্ছন্নতা এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত করার কাজ পরিচালনা করা হয়। তাছাড়াও ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৩০ ট্রাক ময়লা-বর্জ্য ও আবর্জনা পরিস্কার করা হয়।

জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু ও বাস্তবায়ন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে শহীদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, কমিউটার ট্রেন চালু, সার্কিট হাউস আধুনিকায়ন, ওসমানী স্টেডিয়ামে গ্যালারি নির্মাণ, সরকারি স্কুলে পাঠ্যবই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, খাল খনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং জেলা হাসপাতালে এনআইসিইউ ও আইসিইউ চালু করা।

চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঈদগাহ নির্মাণ, ডিসি পার্ক উন্নয়ন, “গেট অব ড্যান্ডি” স্থাপন, লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা, পানাবিল পুনর্খনন, যানজট নিরসনে পয়েন্ট চিহ্নিতকরণ, অটোরিকশা রঙকরণ ও চালকদের পরিচয়পত্র প্রদান। এসব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য নারায়ণগঞ্জকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, মানবিক ও আধুনিক জেলা হিসেবে গড়ে তোলা। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের সর্বপ্রথম জুলাই শহীদদের স্মরণে নারায়ণগঞ্জে ২১ জন শহীদদের নামে নির্মিত হয়েছে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রশাসন মানেই শুধু আইন-শৃঙ্খলা নয়, মানুষের জীবনে ভালো কিছু আনাও এর দায়িত্ব। তিনি চান নারায়ণগঞ্জে সরকারি সেবার মান আরও বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে। জেলার জনগণ তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন এবং একজন মানবিক, সৎ ও উদ্যমী জেলা প্রশাসক হিসেবে তাঁকে মূল্যায়ন করছেন।

সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিকতার মাধ্যমে জেলার মানুষের সঙ্গে যে সম্পর্ক তৈরি করেছেন, তা প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..