নারায়ণগঞ্জের কাগজ : নারায়ণগঞ্জে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হলেও রহস্যজনক কারণে একদিনের জন্যও জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেনি। প্রশাসনের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভূক্তভোগী মহল। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) শহরের পাইকারী ও খুচরা বাজার বলে পরিচিত দিগু বাবুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দেশী পেঁয়াজ ১৯০/২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিদেশী পেঁয়াজ ভারত/মায়ানমার লাল পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০/১৮০ টাকা কেজি ধরে। ক্রেতারা পেঁয়াজের উচ্চ দর নিয়ে সরকার ও প্রশাসন নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে দ্বিধাবোধ করছে না।
বাড়ি রংপুর নাম কেরামত মওলা থাকেন কাশিপুর, পেশায় রিক্সা চালক। একটি যাত্রী জন্য অপেক্ষা করছেন। তার কাছে পেঁয়াজের মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনি কি পেঁয়াজ কিনেন না, খান না। সব চোরেরা এক হইয়া দাম বাড়ায়ছে। যেন সরকার বইলা কিছু নাই। তিনি আরও বলেন, আমরা গরীব মানুষ তাই স্বর্না নামক চাউল খাই। আরে মিয়া সাব চোরে গো লাইগা এমন অবস্থা হইছে ১ কেজি পেঁয়াজের সমান ৭ কেজি স্বর্না চাউল কিনতে পারি।
ব্যাংকে চাকুরী করেন। নাম ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক। তিনি জেলা প্রশাসনের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ডিসির অধীনে অনেক ম্যাজিষ্ট্রেট রয়েছে। উনিতো বাজার গুলোতে পেঁয়াজ নিয়ে একদিনও ভ্রাম্যমান আদালত চালালেন না। রহস্য এখানেই। পেঁয়াজ সিন্ডিকেট চক্র তাদের সাথে ঠিকই যোগাযোগ রেখে চলছে বলে হাসতে হাসতে বাজার ত্যাগ করলেন।
অপরদিকে প্রতিটি এলাকা ভিত্তিকভাবে কাঁচামালের দোকান (তরকারী) এবং মুদি দোকানগুলোতে দেশী ও বিভিন্ন দেশী পেঁয়াজগুলো ২২০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে। কিছু কিছু দোকানগুলোতে পেঁয়াজ হালি হিসেবেও বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকৃতির পেঁয়াজ ১০/১২ টাকা এবং মাঝারি ১৮/২০ টাকা এবং বড় আকৃতির পিয়াজ ৩০/৩২ টাকা হালিতেও বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজের এত উচ্চমূল্য ও বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের চরম গাফলতির কারণে তীব্র ক্ষোভ ও অসস্তোষ প্রকাশ করে অনেকে এত বাজে মন্তব্য করেছেন যা লেখা সম্ভব নয়।
তারপরও পেঁয়াজ একটি প্রয়োজনীয় পন্য হওয়ায় সবাইকে ক্রয় করতে হচ্ছে। তারা ডিসি ও ইউএনওদের প্রতি জোর দাবী জানান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার।
জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রশাসন কি করেন নারায়ণগঞ্জবাসী দেখার অপেক্ষায়। প্রশাসন কি পারবেন অন্তত নারায়ণগঞ্জ হতে পেঁয়াজ সিন্ডিকের চক্রের কারসাজি ভেঙ্গে সারাদেশে রোল মডেল হতে নাকি নীরব থেকে সুবিধা নিয়ে জনগনকে ভোগান্তিতে রাখতে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...