নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নে তাঁতী দলের দুই নেতার জুয়া খেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁতী দলের ফতুল্লা থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন ওরফে লম্বু কামাল এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুরুজ জুয়া খেলছেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বক্তাবলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত খাদিজা ব্রিকস নামধারী একটি ইটভাটায় নিয়মিতভাবে জুয়ার আসর বসছে। এসব জুয়ার বোর্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কামাল ও সুরুজ। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছেন।
উল্লেখ্য, খাদিজা ব্রিকস ইটভাটাটি স্থানীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও ফতুল্লায় থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন। বর্তমানে এই ইটভাটাটি পলাতক শওকত চেয়ারম্যানের নাতি শাকিল পরিচালনা করছেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কামাল ও সুরুজ রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এই ইটভাটায় অবৈধ কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন এবং শাকিলকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।
এছাড়াও জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বক্তাবলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহজাহান আলীর সাথে আঁতাত করে ব্যবসায়িক অংশীদার হয়েছেন লম্বু কামাল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁতী দলের ব্যানার ব্যবহার করে কামাল ও সুরুজ তাদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মহল্লার দর্জি বাড়িতে অফিস খুলে সেখানে ক্ষমতার মহড়া চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের বিতর্কিত ও দাগি নেতাকর্মীদের রক্ষা করে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এর পাশাপাশি তাঁতী দলের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এই চক্রটি। এসব কর্মকা-ের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয়।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কামাল হোসেন ওরফে লম্বু কামাল একজন আলোচিত হত্যা মামলার আসামী। ২০০৪ সালে বক্তাবলীর পূর্ব গোপালনগরের পঞ্চায়েত কমিটির প্রধান আলহাজ্ব রহমান বেপারীর ছোট ভাই মোঃ দিলীপ বেপারী হত্যাকা-ের মামলায় তিনি ৬ নম্বর আসামী ছিলেন। দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর পলাতক থাকার পর তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং চার বছর জেল খেটে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
সবমিলিয়ে ফতুল্লায় কামাল ও সুরুজের নেতৃত্বে গড়ে উঠা অবৈধ জুয়া চক্র, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসে সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের নিকট এলাকাবাসীর জোর দাবি- দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে নারায়ণগঞ্জ জেলা তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উজ্জ্বল এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনার কাছে থেকেই শুনলাম। তবে তারা যদি এ ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীর জায়গা বিএনপিতে নেই।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...