নারায়ণগঞ্জের কাগজ : ইমরান হোসেন শুভ! ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়দানকারী। স্থানীয়রা পিতার নাম না জানলেও তার খালু থানা আওয়ামীলীগ নেতা মোবারক হোসেনের পরিচয়ে ফতুল্লা আশপাশের এলাকায় দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে এ শুভ।
জানা যায়, অত্র অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার ও জুয়ারীদের শেল্টারদাতা হিসেবে ইতিমধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ইমরান হোসেন শুভ’র জুয়া ও মাদক সেবনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ভাইরাল হয়েছে। সে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আবার সে মাদক সেবনের দায়ে অপরাধী। ছাত্রলীগ ক্যাডার শুভ’র একই অঙ্গে এত রূপ!! বর্তমানে দেশে আলোচিত ক্যাসিনো নিয়ে তোলপাড় হলেও ইমরান হোসেন শুভ প্রায়ই ফতুল্লার বিভিন্ন জায়গাতে মদ ও জুয়ার আসর বসায়। শুভ’র এত অপরাধ থাকলেও খালু মোবারক হোসেনের ক্ষমতার দাপটে কেউ মুখ খুলে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।
বিভিন্ন সময় সভা সমাবেশে গুটি কয়েক মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়ে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে ফটোসেশন করে এই ছবিগুলো নিজের আয়ত্তে রাখে। এই ছবি দিয়ে বিশাল আকৃতির ব্যানার ফেষ্টুন বানিয়ে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় সাটিয়ে নিজেকে অনেক বড় নেতা দাবী করে এবং অপরাধের রামরাজত্ব শুরু করে। কয়েকমাস আগে দাপা আদর্শ স্কুলের সামনে থেকে অরন্য নামে এক ছাত্রকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জোড়পূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে ছাত্রের বাবা মা তাকে উদ্ধার করতে গেলে শুভ টাকা দাবী করে। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতাদের হুমকিতে আর এগোতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শুভ’র অধীনে অনেক বখাটে রয়েছে যারা কিশোর গ্যাং এর ন্যায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হোন্ডা নিয়ে বিভিন্ন স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে আগত মেয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন অশালীন কথা বলে থাকে এক কথায় ইভটিজিং। খালু আওয়ামী লীগ নেতা ও নিজে ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না।
এ বিষয়ে ইমরান হোসেন শুভ’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। ছবিগুলো ২০১৩ সালে আমার এক বোনের বিয়েতে গিয়ে সেখানে বন্ধুদের সাথে তোলা হয়েছিলো। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এ ধরনের অপপ্রচার। সামনে আমাদের কমিটি গঠন করা হবে তাই কুচক্রিরা আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে।
ছাত্র অপহরণের বিষয়ে জানতে চাইলে শুভ বলেন, এলাকাতে একটু ঝামেলা ছিলো তাই প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছিলো। আপনি প্রয়োজনে ঐ ছাত্রের অভিভাবকদের সাথেও কথা বলতে পারেন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...