নারায়ণগঞ্জের কাগজ : সোনারগাঁয়ে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও পলাতক আসামি হৃদয় ওরফে গিট্টু হৃদয় (৩০) গত ১১সেপ্টেম্বর বুধবার ভোরে র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। সে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের হাবিববুর গ্রামের মৃত সবুজ মিয়ার ছেলে। এমন আর কত গিট্টুর জন্ম দিবে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা।
২০০১ সালে মাদক সেবী রইস এর মাধ্যমে ওই এলাকায় হত্যাকান্ড শুরু হয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী লিটুর হাতেই আবেক মাদক ব্যবসায়ী রইস প্রথম খুন হয়। এর কয়েক বছর পর রইসের বন্ধু সন্ত্রাসী কবির বাহিনীর হাতে ২০০৬ সালে খুন হয় মাছ বাজারে সন্ত্রাসী লিটু। এর পরের হিসাব এত জঘন্য যে তার কোন হিসাব খাতা কলমে রাখা সম্ভব নয়। একের পর এক সন্ত্রাসীদের হাতেই সন্ত্রাসীরা মারা যাচ্ছে। শুধু তাদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে।
২০১২ সালে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে সন্ত্রাসী কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসী হাসনাত বাহিনী। কয়েক বছরের মাথায় আবার কবিরের ছোট ভাই সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমন হাবুকে প্রকাশ্য দিবালোকে বাড়ি চিনিশ পাম্পের কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর এক বছর পরই সন্ত্রাসী হাসনাতকে তার নিজ বাড়িতে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অনেকে মনে করেন মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মনে হয় আর খুন খারাপি হবে না। কিন্তু সময় আর বেশি হল কৈ। গত ১১ সেপ্টেম্বর বুধবার ভোরে এক ব্যতিক্রমী হত্যাকান্ড। এত দিন ছিল নিজেদের মধ্যে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে। এবার সরাসরি প্রশাসনের সাথে যুদ্ধ করেই মরল গিট্টু হৃদয়।
সোনারগাঁয়ে আর কত গিট্টুর জন্ম হবে। এসব জন্মের পিছনে এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতার হাত আছে বলে মনে করেন বিজ্ঞজনেরা। রাজনৈতিক সার্থে গিট্টুদের ব্যবহার করে, গাড়ির, বাড়ির, চোকানের, চাঁদা আদায়, জায়গা-জমি দখল করা, মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি এসব কাজ করান স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। তারা থাকেন ধরা ছোয়ার বাইরে। এর চরম মাসুল দিতে হয় গিট্টুদের। এভাবে আর কত মায়ের বুক খালি করবেন রাজনৈতিক নেতারা।
একাধিক মামলা থাকলেও অনেক সময় দেখা যায় রাজনৈতিক নেতাদের আশয়ে সে মামলা আর পুলিশ আমলে নেয়না। সন্ত্রাসী গিট্টু হৃদয়রা থাকে অধরা। যদি কোন সময় রাজনৈতিক নেতাদের কথার বাহিরে দিয়ে নতুন কোন কাজ করে তখনই নেতাদের রোষানলে পরে এভাবে গিট্টু হৃদয়ের মতো প্রান দিতে হয় তাদের। এবারও তাই হল, কারণ থানা পুলিশ এসব গিট্টু হৃদয়দের কাছ থেকে দিন, মাস এমনকি বাৎসরিক হারে মাসোয়ারা পেয়ে থাকে। যার কারনে তাদের বিরুদ্ধে হাজারটা মামলা থাকলেও তাদের ধরেনা। তা না হলে গিট্টু হৃদয়ের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৭টি মামলা পুলিশ কি তাকে এত দিন খুজে পায়নি। কেন তাকে আগে ধরে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করেনি এ হল সাধারন মানুষের প্রশ্ন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...