তুষার আহমেদ : করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন। মানুষকে ঘরমুখি করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে তৎপর রয়েছে। তা সত্বেও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকায় হাটবাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা ও বাড়ির অলি-গলিতে বিভিন্ন বয়সি লোকজন দিব্যি ঘুরাফেরা করছে। ঘরমুখি হচ্ছেনা সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর ৯নং ওয়ার্ড এলাকায় ভয়াবহ অবস্থা। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলছে আড্ডাবাজী ও অযথা ঘুরাফেরা। পুলিশ আসলে মুহুর্তে রাস্তা ফাঁকা এবং দোকানপাটের শাটার নামিয়ে দিচ্ছে দোকানিরা। কিন্তু পুলিশ চলে যাবার পর ফের হাটবাজার ও সড়কে লোক সমাগম আগের মতোই ঘটছে এবং দোকান খুলে বসছে ব্যবসায়ীরা।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডস্থ কাঠেরপুল ইরানটেক্সটাইল এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হলেও তা অমান্য করে রাতের বেলায়ও চা-পানসহ অন্যান্য মুদি-মালামালের দোকান খোলা রেখেছে দোকানিরা। এতে করে দোকানের সামনে অযথা ভীর করার পাশাপাশি চায়ের দোকানে আড্ডাও জমাচ্ছেন যুবকেরা।

স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করে বলছেন, ‘রাত ৮টাই নয় বরং গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রেখে চায়ের দোকানে আড্ডা জমায় কিশোর ও যুবকেরা। কোন বারন শুনছেন না কেউ। মাঝে মাঝে পুলিশ আসায় কিছু সময়ের জন্য দোকান বন্ধ করলেও পুলিশ যাওয়ার সাথে সাথে দোকানপাট খুলে আগের অবস্থা তৈরী হয়।’
আরো ভয়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে, হাটবাজার ও সড়কে যারা অকারণে ঘুরাফেরা করছে, তাদের অধিকাংশের মাস্ক, গ্লাভ্স কিছুই নেই। কোন কারন ছাড়াই এরা রাস্তায় আড্ডা জমিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মিডিয়ার ব্যাপক প্রচারণা এরা কর্ণপাত করছে না।
তাই, সড়ক ও হাটবাজারে লোক সমাগত ঠেকাতে প্রশাসনকে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের অনুরোধ জানাচ্ছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, এই মূহুর্তে রাজধানীর পর করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে নারায়ণগঞ্জে। করোনার ডেঞ্জার জোন বলা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জকে। এখানে প্রতিনিয়তই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী রোববার (১২ এপ্রিল) পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৭ জনে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...