প্রসঙ্গ খিচুড়ি ও বেরসিক সমালোচক
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
প্রসঙ্গ খিচুড়ি ও বেরসিক সমালোচক
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রথযাত্রা উৎসব : ভক্ত ভগবানের মিলনমেলা জনদুর্ভোগের আরেক নাম এনায়েতনগরের মুসলিমনগর-শাসনগাঁও! ফতুল্লা থানা পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি এম এ জলিল কোন্ডা ইউনিয়নে বিএনপির নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত আগামীকাল বন্ধ থাকবে সকল ব্যাংক নারায়ণগঞ্জে পিস্তল ও ম্যাগজিনসহ গ্রেপ্তার ১ আদালত প্রাঙ্গণে হত্যা মামলার আসামীকে গণপিটুনি সোনারগাঁও উপজেলায় ব্র্যাক ‘শিখা’ প্রকল্পের ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যা পঞ্চবটি-পাগলা সড়ক নারায়ণগঞ্জ সওজের আওতায় আনার নির্দেশ ডিসির কাশিপুরে রাজনৈতিক শেল্টারে প্রকাশ্যে ডাকাত গেসুর পরিবার! ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পর এমপিপুত্র সজীবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার ফতুল্লায় আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার ফতুল্লায় ফের বেপরোয়া ছাত্রলীগ কর্মী শুভ ও শিমুল পুলিশকে কুপিয়ে অস্ত্র লুট মামলার আসামী মানিক গ্রেপ্তার

প্রসঙ্গ খিচুড়ি ও বেরসিক সমালোচক

নারায়ণগঞ্জের কাগজ
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
প্রসঙ্গ খিচুড়ি ও বেরসিক সমালোচক

মোঃ মনির হোসেন : সমালোচকরা এত বেরসিক হলে কি আর হয়, তাহলে দেশ চলবে কি করে? কারন যারা সরকারের কল কাঠি নাড়াচাড়া করে তাদের কথাও তো ভাবতে হবে। তবে এ কথা সত্য যে, অভিজ্ঞতার কোন বিকল্প নেই। তাই অভিজ্ঞতা অর্জনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় একটি প্রকল্পে ডিম-খিচুড়ি, সবজিসহ অন্যান্য খাবার রান্না ও বিতরণ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভের জন্য দেশে বিদেশে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। কিন্তু বেরসিক সমালোচকদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে খিচুড়ি রান্না শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের বিষয়টি বাতিল করতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন। একই সাথে বাতিল করা হয়েছে দেশের অভ্যন্তরের প্রশিক্ষণও। এতে কর্মকর্তাদের আম ছালা দুই-ই গেল।

বর্তমানে দেশে ৩৩ লাখের মতো শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। বিভিন্ন কারণে তারা স্কুলে যাচ্ছে না। খাবার বিতরণের ফলে শিশুরা স্কুলে যাবে এবং তাদের পুষ্টিগত সমস্যা নিরসন হবে বলে দাবি ডিপিইর। ১৯ হাজার ২৮২ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ের এ কর্মসূচির মাধ্যমে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থীকে খাদ্য সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সপ্তাহে তিনদিন শিক্ষার্থীদের দুপুরে খিচুড়ি-ডিম ও সবজি দেয়া হবে। বাকি তিন দিন দেয়া হবে পুষ্টিকর বিস্কুট।

সম্প্রতি খিচুড়ি রান্না শেখার জন্য ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ভারত সফরে পাঠানো এবং একই বিষয়ে দেশে প্রশিক্ষণের জন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সংবাদটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। গত সোমবার প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) এক সভা অনুষ্টিত হয়েছে, সভায় খিচুড়ি বিষয়ক প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়।

এ প্রসঙ্গে আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার ঘোষ বলেন, কেউ আমাদের কাছে একটি আবদার করলেই হবে না। আমরা একনেকের (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) অনুশাসনের বাইরে যেতে পারবো না। বর্তমানে করোনা সংকট চলছে। কোনো প্রকল্পেই বিদেশ ভ্রমণের খাত রাখা হচ্ছে না। তাহলে এ প্রকল্পে সেটা কেন থাকবে। তিনি আরও বলেন, দেশে প্রশিক্ষণ খাতও বাতিল করা হয়েছে। জনগণের এক টাকাও অপচয় করতে দেয়া হবে না। তাই ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব বাতিল করতে বলা হয়েছে। তবে দেশে প্রশিক্ষণের জন্য হয়তো ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা রাখা হবে। প্রকল্পের অন্যান্য খাতও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অনেক খাত বাতিল করাসহ ব্যয় কমাতে বলেছি। আবার কিছু খাত বাড়াতেও বলেছি।

তবে বিভিন্ন প্রকল্প ও সরকারি কেনাকাটায় অস্বাভাবিক ব্যয় নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর সংবাদ মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হয়েছে। এর আগে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের গ্রীনসিটি প্রকল্পের জন্য কেনা একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয় ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে বালিশের দাম ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। সেই বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা দেখানো হয়েছে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্দা ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে ‘এক পর্দার দাম ৩৭ লাখ’ শিরোনামে গত বছর সেপ্টেম্বরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অতিসম্প্রতি করোনা মহামারিতেও মাস্ক ক্রয় এবং পরীক্ষা নিয়ে তেলসমাতি কান্ড জাতিকে প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। ডাক্তারদের থাকা খাওয়ার অস্বাভাবিক বিল নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরূদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও প্রশাসনের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা এক শ্রেণির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা নিজেদের আখের গোছাতে নানা দুর্নীতি ও অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। এতে সরকারের পাহাড়সম অর্জনও এসব ঘটনায় ম্লান হয়ে যাচ্ছে। একটার পর একটা ঘটনা জনমনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করছে। এসব ঘটনায় মানুষ মনে করছে দেশে লুটপাটের রাজ্য কায়েম হয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে তাদেরকে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। নতুবা সরকারের অর্জিত সাফল্য জনমনে কোন ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। উল্টো সরকারকেই দুর্নীতির অপবাদ বয়ে বেড়াতে হবে।

লেখক-
মোঃ মনির হোসেন
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
সিনিয়র সহ-সভাপতি, ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..