1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : nkagojadmin :
মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা সম্পন্ন রিয়াদ মোঃ চৌধুরীকে স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন হাইব্রিড নিয়ে বিপাকে ফতুল্লা থানা আ’লীগ লিটনকে রেলস্টেশন বাজার দোকান মালিকদের ফুলেল শুভেচ্ছা লিটনকে শাহ্ ফতেহউল্লাহ কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ফুলেল শুভেচ্ছা রিয়াদ মোঃ চৌধুরীকে ফতুল্লা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের ফুলেল শুভেচ্ছা পলাশকে পুনরায় মেম্বার হিসেবে দেখতে চায় ৫নং ওয়ার্ডবাসী ফরিদ আহমেদ লিটনকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা আলোকিত মাসদাইর সংসদের কম্বল বিতরণ ফরিদ আহমেদ লিটনকে হাসমত মেম্বারের ফুলেল শুভেচ্ছা শওকত চেয়ারম্যানকে ফরিদ আহমেদ লিটনের ফুলেল শুভেচ্ছা ফরিদ আহমেদ লিটনকে প্রান্ত পালের ফুলেল শুভেচ্ছা না’গঞ্জ জেলা ছাত্র-যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদ আহমেদ লিটনকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা লিটনকে আদর্শনগর সমাজ উন্নয়ন কমিটির নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা

দুই কবির একই মোহনায় মিলন

নারায়ণগঞ্জের কাগজ
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০
  • ২২৪ বার পঠিত
দুই কবির একই মোহনায় মিলন

রণজিৎ মোদক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিন্তা-চেতনা একই সূত্রে গাঁথা। সাম্প্রদায়িকতার উর্দ্ধে উঠে বাঙালি জাতির মুক্তি চেয়েছিলেন মহান এই দুই কবি। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কলম ধরেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, বিদ্রোহ করেছেন অসাম্যের বিরুদ্ধে, গান গেয়েছেন মানবতা ও সাম্যের। তাঁর কবিতা ও গানে ছিল বাঙালির মুক্তির মন্ত্র। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অমর কবিতায় ঘোষণা করলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ দুটি নদী যেন একই মোহনায় এসে মিলেছিলো বহু যুগের পর।

পরাধীন জাতির ভাগ্যাকাশে ১৮৯৯ সালের ২৪মে ১৩০৬ বঙ্গাব্দে বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। দুঃখের মধ্যে জন্মগ্রহন করেন। তাই তাকে দুঃখু মিয়া বলে ডাকা হতো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্কুল ছেড়ে বাঙালি পল্টনে যোগদান করেন। যুদ্ধ শেষে ১৯১৯ সালে বাঙালি পল্টন ভেঙ্গে দেওয়া হয়। তিনি কলকাতায় ফিরে এসে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় তাঁর বিদ্রোহী কবিতাটি প্রকাশিত হয়। বই পগে পন্ডিত হওয়া যায়, কিন্তু কবি হওয়া যায় না। কবি ¯্রষ্টার সৃষ্টি। বাংলা-বাঙালি জাতির মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে তিনি তাঁর হাতে কলম তুলে নেন। অগ্নিবীণা হাতে তাঁর প্রবেশ, ধুমকেতুর মতো তাঁর প্রকাশ। সত্যের পক্ষে ও শোষিতের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে ব্রিটিশের রোষানলে পড়ে জেল খেটেছেন। বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীমল। তাঁর যুগবাণী, বিষের বাঁশি, ভাঙ্গার গান, প্রলয় শিখা ও চন্দ্রবিন্দু সহ পাঁচটি গ্রন্থ ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে। বাংলা সাহিত্যে সমকালীন অন্যকোন কবি বা লেখক সাহিত্যিকের এত গ্রন্থ একত্রে কখনো বাজেয়াপ্ত হয়নি।

এদিকে স্বাধীনতার অমর কবি ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ তাঁর এক ঐতিহাসিক কবিতায় (ভাষণে) অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।” তিনি বাংলার জনগণকে যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেন। পরিশেষে তিনি ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি বারবার পাক সরকারের হাতে গ্রেপ্তার হন। মিথ্যা মামলায় নির্যাতনের শিকার হন। রাজনৈতিক কারণে একজনকে বিনা বিচারে বন্দি করে রাখা আর তার আত্মীয়স্বজন ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে দূরে রাখা যে কত বড় জঘন্য কাজ তা কে বুঝবে? অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কারাবন্দি হিসেবেই কাটাতে হয়েছে। জনগণের অধিকার আদায় আন্দোলনে বারবার এই দুঃসহ নিঃসঙ্গ কারাজীবন নেমে আসে। তবে তিনি নীতির প্রশ্নে আপোস করেন নাই। ফাঁসির দড়িকেও ভয় করেন নাই। তাঁর জীবনে জনগণই ছিল অন্তঃপ্রাণ। ১৯৭১ সাল ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের শেখ মুজিব পাকিস্তান কারাগার থেকে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বীরের বেশে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

নজরুলকে বাঙালির স্বাধীন সত্তার রূপকার উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘কবি নজরুল বাংলার বিদ্রোহী আত্মার, বাঙালির স্বাধীন সত্তার রূপকার।’ কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। পবিত্র মাটিতে স্বাধীনতা সংগ্রামের চারণ কবি বিদ্রোহী কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিবস পালিত হচ্ছে সেটিকে আনন্দ ও গর্বের বিষয় উল্লেখ করে সেদিন বঙ্গবন্ধু বলেন, “শুধু বিদ্রোহ ও সংগ্রামের ক্ষেত্রেই নয়, শান্তি নিকুঞ্জ কবি বাংলার অমৃত কন্ঠ ‘বুলবুল’। দুঃখের বিষয়, বাংলা সাহিত্যের এই বিস্ময়কর প্রতিভার অবদান সম্বন্ধে তেমন কোনও আলোচনা হলো না। বাংলার নিভৃত অঞ্চলে কবির বিস্মৃতপ্রায় যেসব রতœ আছে, তা পুনরুদ্ধারের যেকোনও উদ্যোগ প্রশংসাযোগ্য।”

মুক্তিযুদ্ধে বাংলার মুক্তিসেনাদের প্রাণে শক্তি সঞ্চার করতো কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী রণ সংগীত। বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ, সৈনিক, অভিনেতা, সুরকার ও শিল্পী। জাতির দুর্ভাগ্য যে মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত হন এবং তাঁর সাহিত্য সাধনায় ছেদ পরে। অনাদর-অবহেলায় কবি দীর্ঘদিন কলকাতায় অবস্থান করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় কবির সম্মান দিয়ে ১৯৭২ সালে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্বপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট উপাধি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও একুশে পদক পান। তিনি আমাদের জাতীয় কবি। তিনি ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে সুস্থকালীন সময়ে কবি তাঁর অন্তরের বেদনার কথা ব্যক্ত করেন-
“তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু
আর আমি জাগিব না
কোলাহল করি সারা দিনমান
কারো ধ্যান ভাঙ্গিব না।”

প্রিয় কবির প্রতি রইলো শ্রদ্ধা।

লেখক-
রণজিৎ মোদক
শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

error: Content is protected !!