‘করোনার বিস্তার ঠেকাতে পাড়া-মহল্লায় তৎপরতা বাড়াতে হবে’
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
‘করোনার বিস্তার ঠেকাতে পাড়া-মহল্লায় তৎপরতা বাড়াতে হবে’
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পঞ্চবটি-পাগলা সড়ক নারায়ণগঞ্জ সওজের আওতায় আনার নির্দেশ ডিসির কাশিপুরে রাজনৈতিক শেল্টারে প্রকাশ্যে ডাকাত গেসুর পরিবার! ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পর এমপিপুত্র সজীবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার ফতুল্লায় আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার ফতুল্লায় ফের বেপরোয়া ছাত্রলীগ কর্মী শুভ ও শিমুল পুলিশকে কুপিয়ে অস্ত্র লুট মামলার আসামী মানিক গ্রেপ্তার ফতুল্লায় বিএনপি নেতা পরিচয়ে মাজারুলের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বাণিজ্যের অভিযোগ জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ফতুল্লায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মিঠু খান পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন রাশেদ বাবু পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মিজানুর রহমান মিজান পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন ফেরদৌস পারভেজ ডেনী পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মনিরুল ইসলাম সরকার পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন আব্দুল খালেক টিপু পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী

‘করোনার বিস্তার ঠেকাতে পাড়া-মহল্লায় তৎপরতা বাড়াতে হবে’

নারায়ণগঞ্জের কাগজ
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০
‘করোনার বিস্তার ঠেকাতে পাড়া-মহল্লায় তৎপরতা বাড়াতে হবে’

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনার বিস্তার। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর অবস্থা ইতিমধ্যেই নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছে। এই মহামারীর কবল থেকে রক্ষা পায়নি বাংলাদেশও। ধারাবাহিক ভাবে এর বিস্তার ঘটছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ জেলার পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলছে প্রত্যেককে।

দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে ২জনই ছিলো নারায়ণগঞ্জের। আজ ৫ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১২তে। প্রাণহানী ঘটেছে দুজনের। একজন বন্দরের রসুলবাগ ও একজন ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকার। উভয় এলাকা লকডাউন করা হয়।

এরপর ৫ এপ্রিল বিকেলে খবর আসে, ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় তাবলীগ জামাত ফেরত আরো এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত। রীতিমত ওই এলাকাও লকডাউন করে প্রশাসন।

এরপর নারায়ণগঞ্জ শহরের পাশাপাশি ফতুল্লার প্রধান সড়কে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যায় পুলিশকে। প্রধান সড়কে যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়াসহ মানুষদের সচেতন করেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই জনমানব শূণ্য হয়ে পরে শহর ও ফতুল্লার প্রধান সড়কগুলো।

কিন্তু এর উল্টো চিত্র দেখা দেয় পাড়া-মহল্লাসহ অলিতে গলিতে। বিশেষ করে ফতুল্লার সেহাচর, দক্ষিন সেহাচর, উকিল বাড়ির মোড়, লালখা, খা-বাড়ি, শাহ-জাহান রোলিং মিল্স সহ আশপাশের এলাকায় কিশোর থেকে শুরু করে যুবক ও বৃদ্ধদের আনাগোনা শঙ্কা জনক হারে বৃদ্ধি পায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকায় অনেক অসেচতন মানুষের কাছে এই ছুটি যেন উৎসবে পরিতন হয়েছে। তাইতো ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেড়িয়ে উৎসব প্রকাশেই মত্ত হচ্ছেন এসব এলাকার মানুষ।

বেশ কিছুদিন ধরে দেখা গেছে, এসব এলাকায় পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল নেই বললেই চলে। ফলে এসব এলাকার মানুষের মাঝে এখনও প্রাণঘাতী করোনার ভীতি লক্ষ করা যায়নি। অপ্রয়োজনে দল বেধে হাটাসহ বিভিন্ন দোকানপাটে বা মাঠে আড্ডাবাজীর মাধ্যমে লোক সমাগম করে চলেছেন। পরিপ্রেক্ষিতে করোনার সংক্রোমন ছড়িয়ে পরার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে এসব এলাকায়।

এ বিষয়ে কথা হয় সময় নারায়ণগঞ্জডটকম এর নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক সহিদুল ইসলামের সাথে। তিনি ফতুল্লার দক্ষিন সেহাচর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। এলাকার সাধারণ মানুষদের এমন কান্ড তাকে হতভম্ব করেছে।

তিনি বলেন, সারাবিশ্ব আজ করোনার সংক্রামনে বিদ্ধস্ত। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু মিছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও ভয়াবহর দিকে এগুচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের পাশের এলাকা লামাপাড়াতেই করোনায় আক্রান্ত রোগি সনাক্ত হলো। সেখানে প্রায় ২শতাধিক বাড়ি লকডাউন করেছে প্রশাসন। কিন্তু এতেও এসব এলাকার মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হলো না।

তিনি বলেন, মিল-ফ্যাক্টরীর কারণে ফতুল্লার দক্ষিন সেহাচর এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল। এদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই বহিরাগত। তারা বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে ভাড়ায় বসবাস করে গার্মেন্ট বা অন্যান্য কারখানায় চাকুরী করেন। করোনার পরিস্থিতি সামল দিতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষনা করায় এসব মানুষ ঘরে না থেকে উল্টো বাইরে এসে আনন্দ করছে। দিনে-রাতে সর্ববস্থায় এখানে মানুষের আনাগোনা থাকে। বিশেষ করে সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন দোকানপাট খোলা থাকে। তাই রাস্তায় মানুষের সমাগম দেখা যায়। তাই আমার মতে, শহর বা ফতুল্লার প্রধান সড়কে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেভাবে কঠোর ভূমিকায় রয়েছে, এসব পাড়া মহল্লাতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ভূকিমা রাখতে হবে। ভ্রাম্যমান আদালতের তৎপরতা প্রতিটি মহল্লায় আরো জোরদার করতে হবে।

পাশাপাশি এলাকার সচেতন মানুষদের দাবী, করোনার বিস্তার ঠেকাতে হলে ফার্মেসী ব্যতিত যেকোন ধরনের দোকানপাট যেন সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এই সময়ের মধ্যে মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী বাজার বা দোকান থেকে কিনে রাখবে। আর দুপুর ২টার পর থেকে দোকানপাট বন্ধ থাকলে রাস্তায় মানুষজন অহেতুক ভীড় করবে না। তাহলে হয়তো মানুষ ঘরমুখী হবে। তা না হলে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের সকল কার্যক্রম, পরিকল্পনা বা পরিশ্রম ভেস্তে যাবে। করোনার বিস্তার ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তাই আমাদের সম্মানিত দুই অভিভাবক নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে যে, শুধু শহর বা ফতুল্লার প্রধান সড়ক নয়, সংক্রোমন প্রতিরোধ করতে হলে প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতে যেন তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয় এবং প্রতিটি মহল্লায় যেন দুপুর ২টার পর থেকে ফার্মেসী ব্যতিত অন্য যেকোন ধরনের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। যাতে করে মানুষ ঘর মুখি হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..