করোনা ভাইরাসের হাত-পা নেই, সে একা চলতে পারেনা, মানুষের মাধ্যমে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যায় এবং সংক্রমণ ঘটায়। সুতরাং মানুষের চলাচল বন্ধ করতে লকডাউন আরও কঠিন করতে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক, সাংবাদিক ও ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি রণজিৎ মোদক। বর্তমানে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের বিষয়ে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে একান্ত সাক্ষাৎকার প্রদান করেন শিক্ষক, সাংবাদিক ও ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি রণজিৎ মোদক।
রণজিৎ মোদক বলেন, করোনা প্রতিরোধে সরকার ছুটি ঘোষণা করলো। ছুটি শুনে মানুষের মধ্যে একটা উৎসব ভাব লক্ষ্য করা গেল। সবাই ঈদের ছুটির মধ্যে বাসে, লঞ্চে, ট্রেনে করে বাড়িতে চলে গেল। কিন্তু এটাতো কোনো উৎসবের জন্য ছুটি নয়। এটা হচ্ছে লকডাউন ঘোষণা। লকডাউন বলতে যে যেখানে আছে, সে সেখানেই থাকবে।
দেশের জনগণের আরও সচেতন হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে যারা দেশে আসলো, তারা কোয়ারেন্টিনে ঠিকঠাক মতো থাকলেন না, কোয়ারেন্টিনের বিধি নিষেধও মানলেন না। তারা কিন্তু ইতিমধ্যে সোসাইটিতে করোনাভাইরাস সংক্রমিত করে ফেলেছেন। এটা বুঝতে পেরেই সরকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বললো, মাস্ক পড়তে বললো। ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জের কিছু স্থানে হয়তো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যাচ্ছে, কিন্তু পাড়া-মহল্লা ও গ্রামে-গঞ্জে এখনো মানুষজন হাটে-বাজারে বসে চা খাচ্ছে, বিনা কারণে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে। তারা কিন্তু আবার মাস্কও পরছেনা। তাদের মধ্যে নূন্যতম সচেতনতাও নেই। ওই হাটে-বাজারে কোনোভাবে যদি একটা কেস চলে আসে, তাহলে করোনাভাইরাস কি পরিমাণে ছড়াবে সেটা ভাবনার বিষয়।
এই মুহূর্তে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের করণীয় কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে কষ্ট হলেও যেকোনো পরিস্থিতিতেই বাসায় থাকতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। দোকানে কিছু কিনতে গেলে একজনের পরে আরেকজন দোকানে প্রবেশ করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। তাই সভা, সমাবেশ সীমিত রাখতে হবে। নিয়মিত বার-বার হাত ধুতে হবে এবং হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় মুখ ধুতে হবে এবং নাক রুমাল দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...