নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মোস্তফা হোসেন চৌধুরী বলেছেন, মানবতার কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সুকান্তের রানারের মত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক। সারাবিশ্বে করোনা মহামারী আকার ধারণ করেছে এর সংক্রমণে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে ।
এমনি এক দুর্যোগময়কালে মানবতার ফেরিওয়ালা, একজন করোনা যোদ্ধা নাহিদা বারিক এই অঞ্চলের মানুষকে দিনরাত ২৪ ঘন্টা জীবনবাজি রেখে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনার মরণ ছোবল থেকে এই অঞ্চলের মানুষকে বাচাতে লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উদ্বুদ্ধকরণে যে গণসচেতনতা সৃষ্টি করেছেন তা সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। ঘুনেধরা সমাজে অন্ধকার ভেদ করে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক।
তাকে ঘিরেই বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনছে করোনার মরণ ছোবলে পড়া এই অঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষেরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় হাজির হচ্ছেন মানবিক এই মহীয়সী নারী। করোনায় ভয় নয়, করোনাকে করতে হবে জয় এমন অমীয় বাণী বুকে ধারণ করে যেখানেই করোনার ছোবল সেখানেই তিনি হাজির হচ্ছেন আর যোগাচ্ছেন সেসব মানুষের মাঝে অফুরন্ত উজ্জীবনী শক্তি। যে শক্তির কাছে হার মানছে মরণব্যাধি করোনা।
আমরা দেখেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হয়ে আসার পূর্বে তিনি ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন সময়ে ভেজাল বিরোধী অভিযানে দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানার ছাপ। নিরাপদ নিশ্চিত জীবনের জন্য তার সাড়াসী অভিযান জ্বলজ্বল করে ভাসছে সদর উপজেলার প্রতিটি মানুষের চিন্তা চেতনায় ও মানসপটে ।
তিনি এলেন, দেখলেন এবং জয় করে নিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাবাসীর মন। বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারন করে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণে ছুটে চলেছেন অবিরাম একজন নাহিদা বারিক। কোথায় গিয়ে থামবেন তা তার জানা নেই। শুধু এতটুকু জানেন, নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য, সমাজের জন্য সর্বোপরি দেশের জন্য তাকে কিছু করতে হবে। তাইতো যেখানেই মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ইভটিজিং বাল্যবিবাহ সেখানেই তিনি কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। কঠোর হস্তে দমন করছেন। আর করোনা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাবাসীর জন্য নিজের জীবনকে করেছেন উৎসর্গ। লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্র মানুষের মাঝে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়ার পাশাপাশি তার বেতনের টাকাও অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন অভুক্ত মানুষের মাঝে।
এখানেই থেমে যাননি নাহিদা বারিক, তিনি আজকের প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা যাতে আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেদের তৈরী করে আগামীর অপার সম্পদে পরিনত হতে পারে সেলক্ষ্যে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করছেন।পরম মমতায় আগলে রাখছেন সুবিধাবঞ্চিত শিশু এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হয়ে অনেকে এসেছেন, আবার অনেকে চলে গেছেন। একসময় হয়তো তিনিও চলে যাবেন। এ আসা যাওয়ার মাঝেও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাবাসীর আশির্বাদ নাহিদা বারিককে কেউ ভুলতে পারবে না। স্বপ্নবাজ একজন নাহিদা বারিক এগিয়ে যাক তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে। যে স্বপ্ন তাকে তাড়া করছে প্রতিনিয়ত। করোনা মহামারী সংক্রমণ থেকে এই অঞ্চলের মানুষকে সুরক্ষিত রাখার জন্য তিনি যে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন ইনশাআল্লাহ জয়ী হয়ে ফিরবেন। কেননা এই অঞ্চলের মানুষ ভাল থাকলে আপনিও যে ভাল থাকেন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...