নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় এক শ্রমিক দল নেতার ঘনিষ্ঠ স্বজনদের মাধ্যমে এসব অবৈধ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুতুবপুর ইউনিয়নের পাগলা নয়ামাটি সিআইডি গলির শেষ প্রান্তে সম্প্রতি একাধিক বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা বাবুল মিয়ার ভাগিনা জুয়েল, ভাতিজা আকবর এবং যুবদল নেতা রাসেলের নেতৃত্বে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে নয়ামাটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস লাইনের সংযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের ধরন ও সংযোগের ধরন অনুযায়ী প্রতিটি সংযোগের জন্য ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী শ্রমিক দল নেতা বাবুল মিয়ার ছত্রছায়ায় তার স্বজনরা বড় রাইজারের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেও এসব সংযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে গভীর রাতে নয়ামাটি সিআইডি গলির শেষ প্রান্তে রাস্তা খুঁড়ে গ্যাস সংযোগের কাজ চলতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে চিতাশাল এলাকার ১ নম্বর গলিতে দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে চার শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের আশঙ্কা, ত্রুটিপূর্ণ এসব সংযোগের কারণে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জুয়েল মুঠোফোনে বলেন, “কোথায় এ ধরনের গ্যাস সংযোগ হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে আপনি লিখতে চাইলে লিখুন।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুতুবপুরের এক যুবদল নেতা বলেন, “অবৈধ গ্যাস সংযোগের ঘটনাটি সত্য। যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, আপনি তো সবই জানেন। আমি আর কী বলব।”
এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কায়েমপুরস্থ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...