নিজস্ব সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘আমি এখানে বক্তব্য রাখছি একজন আসামী হিসেবে। একটি মামলার আসামী আমি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ, দল ও দলের নেতাকর্মীদের ভালবাসেন। তিনি অসীম ধৈর্যশীল এটা তার বড় গুণ। ৭ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে (নম পার্ক) এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হকার ইস্যুতে করা মামলা প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, ‘মামলার আসামী করা হয়েছে আমাকে, করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পোড়খাওয়া ত্যাগী নেতাদের। আজকে দিনটা যদি আওয়ামী লীগ না হয়ে অন্য সরকার থাকতো তাহলে নারায়ণগঞ্জে মামলার কারণে চাড়া নাচতো অন্য কিছু না। ওই ক্ষমতা এই নেতাকর্মীদের আছে। এই মামলাটি দিয়েছে একটি কারণে ষড়যন্ত্রের কারণে।’
শামীম ওসমান মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ঘটনার ২২ মাস পর মেয়র সরকারী দলের লোক হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করলেন। যারা আপনার নির্বাচনে জান জীবন দিয়ে কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তখনই মামলা করতেন কিছু মনে করতামনা। একজন মেয়র মার খেল নারায়ণগঞ্জ থানায় দুইবার গেল মামলা হলনা। নারায়ণগঞ্জ কোর্টে গেলেন মামলা হলনা কেন। কারণ তৎকালীন পুলিশ তাকে সেফ করতে চেয়েছে। কারণ বুয়েটের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে যদি সব চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে উঠে আসতে পারে সেদিন হকার ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনাও ভিডিও দেখে সব প্রমাণিত হয়ে যাবে। সেকারণে তাকে সেফ করার জন্য সেদিন থানায় মামলা নেয়া হলনা। উনি সেটা বুঝেন নাই। আর এখন মামলা করেছেন উচ্চ আদালতে। বিদেশে গিয়ে এখন কেউ কেউ বলবে খালেদা জিয়া কি বিচার পাবেন আওয়ামী লীগের মেয়রই বিচার পায় না। তাকে হাইকোর্টে যেতে হয়। সুতরাং এ খেলা খেলবেন না।’
তিনি আরো বলেন, ‘মামলা কি একটাই হবে নিয়াজুলের মামলা হবেনা? নিয়াজুলের মামলাও হবে। ভিডিও দেখা হবে দোষী হলে বিচার হওয়া উচিত। আর যদি ঘটনা উল্টা হয় তাদেরও তো বিচার হওয়া উচিত। এতদিন চুপ ছিলাম কিছু বলি নাই ধৈর্য ধরেছি। নেতাকর্মীরা আমাকে বলেছে আপনার কিছু করতে হবে না, একটা উপকার করেন আপনি শুধু কয়েকদিনের জন্য দেশের বাইরে যান। নারায়ণগঞ্জের রাজপথে আমার দেখতে চাই নারায়ণগঞ্জের রাজপথ কার। শেখ হাসিনার অরজিনাল কর্মীদের, না খন্দকার মোস্তাকদের।’
শামীম ওসমান বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের খেলোয়াড়রা বারবার আসছে। নারায়ণগঞ্জের বদনাম কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য হয়না। বাইরে থেকে আসা কর্মকর্তাদের জন্য হয়। আমি বলবো এই মামলার তদন্ত করেন। আর যদি বলেন কোন সংসদ সদস্যকে ধরা যায়না তাহলে আমি সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দিব। তদন্ত করেন। আর যদি আমার কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে মূল নায়ক তো আমি।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, শামীম ওসমান থাকতে নেতাকর্মীদের উপর আঘাত করবে আর তাতে নারায়ণগঞ্জ শান্ত থাকবে এটা যদি কেউ মনে করে তার মত বোকার রাজ্যে আর কেউ বাস করেনা। আমার জীবন থাকলে আমার কর্মীর গায়ে একটা আচড় দিয়ে নারায়ণগঞ্জে ১ ঘণ্টা কেউ আরামে ঘুমাতে পারবেনা। আমি আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ কর্মী আমার কথা কেউ হালকা করে নিবেন না। ডাক দিলে তখন সবাই এগিয়ে আসবে। তখন নারায়ণগঞ্জের মাটিতে শুধু মাথা দেখা যাবে। সুতরাং ওই খেলা খেলতে আসবেন না। অনেক ধৈর্য ধরেছি।’
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল।
উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, মোঃ গোলাম শিকদার রসুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, আবু জাফর চৌধুরী বিরু, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম চেঙ্গিস, সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, বন্দর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ, সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ জুয়েল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাক মীর সোহেল, নারায়ণগঞ্জ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধান, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...