নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রামারবাগ এলাকায় নাজমা বেগম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে জমি দখলের অপচেষ্টা, হামলা, ভয়ভীতি, লুটপাট এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহায়তায় ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সার্ভেয়ার মোঃ মনির মৃধা এসব অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগে মনির মৃধা উল্লেখ করেন, তফসিলভুক্ত সম্পত্তির রেকর্ডীয় মালিক মোসাঃ হাজী মনোয়ারা বেগম। তার আইনগত ক্ষমতায় জমিটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তিনি দীর্ঘদিন ধরে পালন করছেন। কিন্তু নাজমা বেগম ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে জমি দখলের উদ্দেশ্যে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। বাধা দিতে গেলে তাকে হত্যার হুমকি, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, এলাকায় হিসেবে পরিচিত নাজমা বেগম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় অধিক প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তিনি জমি দখল, মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি এবং নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে এলাকার মানুষ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেত।
মনির মৃধা তার আবেদনে উল্লেখ করেন, ওই সময় শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি এবং আওয়ামী লীগের ব্যানার ব্যবহার করে তফসিলভুক্ত জমিতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাত নাজমা বেগম ও তার সহযোগীরা। রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে দখলদারিত্ব আরো শক্তিশালী করতে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২০ সালের ১১ জুন তিনি শ্রমিক নিয়ে জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে নাজমা বেগম ও তার নেতৃত্বাধীন কয়েকজন আওয়ামী সন্ত্রাসী দা, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করতে তেড়ে আসে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি ও শ্রমিকরা প্রাণভয়ে সরে দাঁড়ান। পরে তিনি নারায়ণগঞ্জ মডেল থানায় জিডি (নং-৩২৫) করেন।
তিনি আরও জানান, এর পর জমিতে রাখা টিন, বাঁশ, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় চক্রটি। থানায় অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না পেয়ে বরং তার বিরুদ্ধেই পরে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। মামলাটি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তিনি ও আরও সাতজন বেকসুর খালাস পান।
অভিযোগে বলা হয়, নাজমা বেগম তার বাকপ্রতিবন্ধী স্বামীকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায় করেন এবং সেই সুযোগে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দেরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
মনির মৃধা অবিলম্বে জমি দখলের অপচেষ্টা বন্ধ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নাজমা বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...