ফতুল্লার পাগলায় ফিল্মি স্টাইলে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেধে মারধর করে গুরুতর রক্তাক্ত জখমসহ লুটপাট ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় ফতুল্লার পাগলার মোঃ মনির হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে মারধর, লুটপাট ও চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসী আঃ রহিম বাহিনী। এ ঘটনায় মোঃ মনির হোসেন নামের ওই ব্যবসায়ী বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত বিবাদীরা হলেন- ফতুল্লার কলেজ রোড এলাকার মৃত হাফেজ সরদারের ছেলে আঃ রহিম, আঃ রহিমের ছেলে খালেদ সাইফুল্লাহ, মারুফ ও ভুইগড় এলাকার মোঃ নুরুজ্জামান।
অভিযোগের বরাত দিয়ে মোঃ মনির হোসেন জানান, আমি ভূইগড় সরদার বাড়ী এলাকায় ‘মা-বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রতিষ্ঠান দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ প্লাস্টিকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসতেছি। সেই সুবাদে আঃ রহিম আমাকে মালামাল কেনার জন্য মাঝে মধ্যে টাকা পয়সা দিত। আমি বিবাদীর প্রদানকৃত টাকা দিয়ে মালামাল ক্রয় করে ওই মালামাল বিক্রি করে বিবাদীকে লভ্যাংশ সহকারে তার প্রদানকৃত টাকা ফেরত প্রদান করতাম। আঃ রহিমের সাথে আমার ব্যবসায়িক কিছু দেনা-পাওনা রয়েছে। ৭ লক্ষ ৪ হাজার টাকার মধ্যে ৬ লক্ষ ৪ হাজার টাকা আমি দিয়ে দেই। আঃ রহিমের বাকী ১ লক্ষ টাকা ফেরত দেয়ার জন্য তার কাছে সময় চাইলে সে আমাকে কোন সময় না দিয়ে তাৎক্ষণিক তার পাওনা ১ লক্ষ টাকা দিতে বলে। আমি আঃ রহিমকে এরকম কার্যকলাপ করতে নিষেধ করলে আঃ রহিম আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি ও জীবন নাশের হুমকি প্রদান করে। সেই জের ধরে গত মঙ্গলবার ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার সময় আঃ রহিম, মোঃ নুরুজ্জামান ও আঃ রহিমের ছেলে খালেদ সাইফুল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনসহ আমাকে আমার প্রতিষ্ঠানের সামনে পেয়ে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র, লোহার রড, ছুরি, চাকু, হকিষ্টিক, চাপাতি ইত্যাদি সহকারে এসে আমাকে অতর্কিতভাবে এলোপাথারীভাবে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। আঃ রহিমের ইন্দনে ও পরামর্শে নুরুজ্জামান আমার একটি ওয়ালটন কোম্পানীর মোটরসাইকেল নিয়ে যায় এবং খালেদ সাইফুল্লাহ ও মারুফ আমাকে এলোপাথারী কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। একপর্যায়ে আঃ রহিমের ইন্দনে অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন আমাকে জোরপূর্বক একটি অটোগাড়িতে উঠায় এবং মোঃ নুরুজ্জামান, আঃ রহিমের ছেলে খালেদ সাইফুল্লাহ ও মারুফ আমাকে অটোগাড়িতে উঠিয়ে আমাকে এলোপাথারী মারধর করতে থাকে। মোঃ নুরুজ্জামান ও আঃ রহিমের ছেলে খালেদ সাইফুল্লাহ আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তাদের হাতে থাকা মোটা রশি আমার গলায় পেঁচিয়ে দুই পাশ হতে দুইজনে টেনে আমার শ^াসরোধ করার চেষ্টা করে। যার ফলে রশির আঘাতে আমার গলায় রক্ত জমাট জখম হয়। আঃ রহিম ও তার ছেলে মারুফ আমার দুই চোখে ও মুখমন্ডলে এলোপাথারী কিল, ঘুষি মেরে আমার দুই চোখের নিচে ও মুখে রক্ত জমাট জখম করে। আঃ রহিমের নির্দেশে তার ছেলে মারুফ আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা চাকু দিয়ে আমার মাথায় কোপ মারলে ওই কোপ আমার ডান চোখের ব্রুর উপরে লেগে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। আঃ রহিমের নির্দেশে তার ছেলে মারুফ আমার দুই চোখে এলোপাথারী কিল, ঘুষি মারার কারণে আমি চোখে ঝাপসা দেখতে আরম্ভ করে। এমতাবস্থায় ওই সকল বিবাদীগণ আমাকে অটোযোগে ফতুল্লা থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতে থাকে এবং অটোর মধ্যেই আমাকে মারধর করা সহ আমাকে জীবনের তরে শেষ করে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে। আঃ রহিমের ছেলে খালেদ সাইফুল্লাহ আমার প্যান্টের পকেটে থাকা ব্যবসার নগদ ৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা, ১টি মোবাইল, ১টি মানিব্যাগ, ভিসা সম্বলিত ১টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে যায়। ওই সকল সন্ত্রাসীরা আমাকে দীর্ঘ ৭/৮ ঘন্টা অটোগাড়ির মধ্যে আটক ও মারধর করে মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৩টার সময় আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি ও জীবন নাশের হুমকি প্রদান করে এবং আমি যদি এই বিষয়ে কোন প্রকার বাড়াবাড়ি করি তাহলে আমাকে জীবনের তরে শেষ করে ফেলবে নতুবা যেকোন মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিব মর্মে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। অতঃপর আশেপাশের লোকজন আমার অবস্থা গুরুতর দেখে আমাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল খানপুর নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করায়। এই সকল সন্ত্রাসীরা যেকোন সময় আমার আরও বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারে বলে আমার আশঙ্কা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...