নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের পূর্ব গোপালনগর এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান রাব্বি ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে এলাকায় বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলা নম্বর ১-১০-২৪। মামলাটি দায়ের হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে।
তবে মামলাটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের হলেও রাব্বির স্থায়ী বসবাস ফতুল্লা থানার আওতাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নে। স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামলার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় রাব্বি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নিয়মিতভাবে চাঁদাবাজি, হুমকি-ধমকি, দখলসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।
বিভিন্ন সময় রাব্বিকে শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, ছাত্রলীগ নেতা রুপু কিংবা আজমেরী ওসমানের পক্ষে মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে। এসব ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে রাব্বি এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাব্বি ফতুল্লা এলাকায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। একাধিক ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার, হুমকি এবং অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফতুল্লা মডেল থানায় রাব্বির বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাব্বির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, থানায় অভিযোগও আছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেই। সে উল্টো আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” তিনি আরও বলেন, “তাকে কোনোভাবেই কিছু বলা যায় না। বললেই হুমকি আসে, কখনো আবার রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়।”
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পরও বর্তমানে কিছু সুবিধাবাধী রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে রাব্বির মতো অভিযুক্তরা দিনের পর দিন পার পেয়ে যাচ্ছে। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...