নারায়ণগঞ্জের কাগজ : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলীর আকবরনগরে সামেদ আলী ও আব্দুর রহিম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় ৩৮ জন আসামীর মধ্যে ৩২ জনই রহিম হাজ্বীর লোকজন হওয়ায় তারা এলাকা ছাড়া। অপরদিকে পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় সামেদ আলী, তার স্ত্রী, পুত্র ভাই- ভাতিজা কাউকে আসামী না করায় এলাকায় সামেদ আলীর পুত্রসহ তার বাহিনীর লোকজন রহিম হাজ্বীর ইটভাটায় লুটপাট অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন রহিম হাজ্বীর ভাতিজা নবী হোসেন।
তিনি জানান,১৮ নভেম্বর হতে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত সামেদ আলীর সন্ত্রাসী ও চাদাঁবাজ পুত্র গনি,রাজিব,হৃদয়,সজিবের নেতৃত্বে ৫০ হাজার ইট যার মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা, মেশিন+ মটর যার দাম ৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
এ লুটের ঘটনা বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজ্বী এম শওকত আলী ও ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসলাম হোসেনকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
অপরদিকে পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় আসামী করা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন রহিম হাজ্বীর লোকজন ও সচেতন এলাকাবাসী।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৮ নভেম্বরের ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমার রায় বাদী হয়ে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরো দেড়’শ থেকে দুই’শ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা নং-৪৭ তারিখ-১৯/১১/২০১৯ ইং দায়ের করেন।
৩৮ জনের নামে মধ্যে ৩২ জনই রহিম হাজ্বীর পক্ষের লোকজন। প্রধান আসামি করা হয়েছে রহিম হাজ্বীকে। দ্বিতীয় আসামী করা হয়েছে তার বড় ভাই ফুলু মাদবরকে, তৃতীয় আসামী করা হয় রহিম হাজ্বীর ছেলে মিলনকে, অপর ছেলে মামুনকে ১৭নং আসামী করা হয়। ভাতিজা ও মেয়ের জামাই কবিরকে ১০নং আসামী করা হয়, ভাতিজা নবীকে ৯নং ও ১১নং ভাতিজা রশিদকে।
এছাড়াও রহিম হাজ্বীর পক্ষের আসামীরা হলেন- আবুল হাশেম, আবু বক্কর, মোঃ এরশাদ, মোঃ সিয়াম, আসলাম, হানিফ, রাশেদ, মোকলেছ, মামুন, নজরুল, কাদির, সানি, মান্নান, রিয়াজুল, সিরাজুল, সামসুল, সুর্জা, কেওয়াজ আলী, জিহাদ, মাসুদ, শারজাহান, টারজাহান, মাসুদ, হান্নান ও সাইদুল।
সামেদ আলী গ্রুপের ৬ জন আসামী হলেন- ৮নং এমরান, ১২নং আলমগীর, ১৩নং দীলু মিয়া, ১৪নং আতিক, ১৫নং আলাউদ্দিন ও ৩৮নং জসিম। যে জসিম ঘটনার মুল হোতা সেই জসিমকে করা হয়েছে ৩৮নং আসামী। এরা সবাই মাটি ব্যবসায়ী জয়নাল মন্ডল হত্যা মামলার আসামী।
সামেদ আলীর লোকজন আকবরনগর চষে বেড়ালেও আকবরনগর পুলিশ বক্স সামেদ আলীর পক্ষে কাজ করছে। অথচ পুলিশের নিরপেক্ষ থেকে এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখার কথা।
এলাকাবাসীর দাবী পুলিশ বক্সের সকল পুলিশ প্রত্যাহার করে নতুন করে পুলিশ দেবার দাবী জানান সচেতন মানুষ।
রহিম হাজ্বীর ভাতিজা কবির জানান, পুলিশ বক্সের পুলিশ রহিম হাজ্বীর লোকজনকে বেঁছে বেছে ধরলেও সামেদ আলীর ছেলে গনি, রাজিব, হৃদয়, পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়ালেও তাদের আটক করেনি। পুলিশের পক্ষপাতিত্ব মুলক আচরনে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবী নিরপেক্ষ ভাবে পুলিশ দুই পক্ষের সন্ত্রাসীদের আটক করে আকবরনগরে শান্তি ফিরে দেয়া হোক।
এ বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজ্বী এম শওকত আলী’র মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেনি।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসলাম হোসেন জানান, আমার কাছে ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি বলেছিলো। আমি সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে ছিলাম কিন্তু এমন কোন ঘটনার বিষয়ে জানতে পারি নাই। তবে অন্যায়কারী যেই হোক না কেন তাকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...