রূপগঞ্জের চনপাড়া বিএনপির সভাপতি হারুন মিয়াজির বাড়িতে ঢুকে তাকে না পেয়ে স্ত্রী সন্তানদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য শমসের আলী ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পূর্বগ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
হারুন মিয়াজির অভিযোগ, শুক্রবার তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে হওয়া উপজেলা বিএনপির দোয়া-মাহফিলে অংশ নেন। একারনে চনপাড়া আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শমসের আলীর লোকজন তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে স্ত্রী সন্তানদের মারধর করেছে। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে হামলাকারীরা তাঁর বাড়িঘর লুটপাটের হুমকি দিয়েছে বলেও জানান হারুন মিয়াজি।
হামলাকারীদের মধ্যে শমসের আলীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত তাঁর ভায়রা নাজমুল হোসেন ও চনপাড়া এলাকার পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. শাওন ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশের আগে থেকেই চনপাড়ার বিএনপি নেতারা এলাকা ছাড়া। তখন থেকেই হারুন মিয়াজি তার চনপাড়ার বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি চনপাড়ার পাশে তার পূর্বগ্রামের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার শমসের আলীর লোকজন হারুনের চনপাড়ার বাড়িতে তাঁকে খুঁজতে যায়। এসময় তারা হারুনকে না পেয়ে ফিরে আসে। শুক্রবার হারুন পূর্বাচলে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিলে যোগ দেন। সেই মাহফিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শমসের আলীর লোকজন ফের হরুনের পূর্বগ্রামের বাড়িতে যায়। এসময় হারুন বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলে শমসেরের লোকজন হারুন মিয়াজির বৃদ্ধ স্ত্রীকে মারধর করে। ঘরে থাঁকা তাঁদের সন্তান মো. জোবায়ের এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এসময় তাঁকে তারকাঁটা বিদ্ধ কাঠের টুকরো দিয়ে পেটানো হলে শরিরের বিভিন্ন অংশে তারকাঁটা বিদ্ধ হয়ে যখম হয়৷
হারুন মিয়াজি বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি, ফলে বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি, মামলা মোকদ্দমার আসামি হয়েছি। এগুলো মেনে নিয়েছি। আমার রাজনীতি করার কারনে বৃদ্ধ স্ত্রী ও সন্তানকে মারধর করা হলো। তাঁদের রক্তাক্ত যখম করা হলো। এগুলো মেনে নিতে পারছি না। ‘
এবিষয়ে শমসের আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ কে বা কারা হামলা করেছে তা জানি না। বিএনপির লোকজন মিথ্যা অভিযোগ করছে।’
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ শুনেছি ওই বিএনপি নেতার বাড়িতে ঢুকে কে বা কারা তাঁর স্ত্রী সন্তানকে মারধর করেছে। আমরা সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছি। কেউ থানায় অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তার আগে গত সপ্তাহে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি শামীম মিয়ার চনপাড়া এলাকার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। তখন শামীম মিয়া অভিযোগ করেছিলেন শমসের আলী এই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তখনও শমসের আলী অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...