বিদ্যার দেবী সরস্বতী
  1. rakibchowdhury877@gmail.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
  2. admin@narayanganjerkagoj.com : Narayanganjer Kagoj : Narayanganjer Kagoj
বিদ্যার দেবী সরস্বতী
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
এনায়েতনগরে অসুস্থ মনির মেম্বারকে দেখতে বিএনপি নেতারা পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন কাউসার-উল-আলম পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন শাহিন আহমেদ নিলয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন ফেরদৌস পারভেজ ডেনী ফতুল্লায় সেবার আলো যুব উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ বক্তাবলীতে রশিদ চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ১৫৫০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে আব্দুল খালেক টিপুর শুভেচ্ছা পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন রশিদ চেয়ারম্যান পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন মাসুকুল ইসলাম রাজীব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জবাসীকে মহসীনের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শাহ্আলমের পক্ষে কাজী আরিফের শুভেচ্ছা ১৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে হাজী মনির হোসেনকে চান এলাকাবাসী ইফতার মাহফিলে অসহায় মানুষের পাশে ধর্মগঞ্জ সমাজ উন্নয়ন সংসদ নারায়ণগঞ্জে লিংরাজ খানের বন্ধু মহলের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

বিদ্যার দেবী সরস্বতী

নারায়ণগঞ্জের কাগজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
বিদ্যার দেবী সরস্বতী

রণজিৎ মোদক : সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমল লোচনে/বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাংদেহী নমোহস্তুতে’- মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমীর পুণ্য তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ মন্ত্র উচ্চারণ করে বিদ্যার দেবী সরস্বতীকে আরাধনা করবেন।

সরস্বতী মূলত বৈদিক দেবী। বেদে সরস্বতী প্রধানত নদীর অধিষ্ঠাত্রী দেবী। সরস শব্দের অর্থ জল। অতএব সরস্বতী শব্দের আদি অর্থ হলো জলবতী অর্থাৎ নদী। সরস্বতী শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থে সরস+বতু আর স্ত্রী লিঙ্গে ‘ঈ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে সরস্বতী। তিনি বিদ্যাদেবী, জ্ঞানদায়িনী, বীণাপাণি, কুলপ্রিয়া, পলাশপ্রিয়া প্রভৃতি নামে অভিহিতা। তাঁর এক হাতে বীণা অন্য হাতে পুস্তক।

বৃহস্পতি হচ্ছেন জ্ঞানের দেবতা, বৃহস্পতি পতœী সরস্বতীও জ্ঞানের দেবী। সরস্বতী নদীর তীরে যজ্ঞের আগুন জ্বেলে সেখানেই ঋষি লাভ করেছিলেন বেদ বা ঋগমন্ত্র। সুতরাং সরস্বতী জ্ঞানের দেবী হিসেবেই পরিচিত হয়েছিলেন এ ধরাতে। কালের বিবর্তনে সরস্বতী তাঁর অন্য বৈশিষ্ট্যগুলো হারিয়ে কেবল বিদ্যাদেবী অর্থাৎ জ্ঞান ও ললিতকলার দেবীতে পরিণত হলেন। সরস্বতী জ্ঞান, সংগীত ও শিল্পকলার দেবী। ঋগবেদে তিনি বৈদিক সরস্বতী নদীর অভিন্ন এক রূপ। প-িতরা অনেকেই মনে করেন যে সরস্বতী প্রথমে ছিলেন নদী, পরে হলেন দেবী। এ বিষয়ে রমেশচন্দ্র দত্ত লিখেছেন, ‘আর্য্যাবর্তে সরস্বতী নামে যে নদী আছে তাই প্রথমে দেবী বলে পূজিত হয়েছিলেন। বর্তমানে গঙ্গা যেমন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্য দেবী হিসেবে পূজা পেয়ে থাকেন তেমনি সরস্বতী হলেন জ্ঞানের দেবী। সরস্বতীর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত রয়েছে সূর্যাগ্নির জ্যোতিতে। সূর্যাগ্নির তেজ, তাপ ও চৈতন্যরূপে জীবদেহে বিরাজ করায় চেতনা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতী। ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে গোলোকে বিষ্ণুর তিন পতœী লক্ষ্মী, সরস্বতী ও গঙ্গার মধ্যে বিবাদের ফলে গঙ্গার অভিশাপে সরস্বতীর নদী রূপ পাওয়াই হচ্ছে সরস্বতীর পৃথিবীতে দেবীরূপে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তত্ত্ব।

সরস্বতীর বাহন হাঁস। প-িত কলহনের মতে, সরস্বতী দেবী হংসের রূপ ধারণ করে ভেড়গিরি শৃঙ্গে দেখা দিয়েছিলেন।

হাতে বীণা ধারণ করেছেন বলেই তাঁর অপর নাম বীণাপাণি। বীণার সুর মধুর। পূজার্থী বা বিদ্যার্থীর মুখ নিঃসৃত বাক্যও যেন মধুর হয় এবং জীবনও মধুর সংগীতময় হয় এ কারণেই মায়ের হাতে বীণা।

হিন্দুদের দেবী হয়েও বৌদ্ধ বা জৈনদের কাছ থেকেও পূজা পেয়েছেন সরস্বতী। অনেক বৌদ্ধবিহারেও সরস্বতীর মূর্তি পাওয়া যায়। জৈনদের ২৪ জন শাসনদেবীর মধ্যে সরস্বতী একজন এবং ষোলজন বিদ্যাদেবীর মধ্যে অনন্যা মা সরস্বতী। সরস্বতী নদীর তীরেই বৈদিক এবং ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির উদ্ভব। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে শ্রীপঞ্চমীর দিন সকালেই সরস্বতী পূজা সম্পন্ন হয়। সরস্বতী পূজা সাধারণ পূজার নিয়মানুসারেই হয়। তবে এই পূজায় আলাদা কিছু সামগ্রী যেমন :- অভ্র-আবির, আমের মুকুল, দোয়াত-কলম ও যবের শিষ ছাড়াও লাগে বাসন্তী রঙের গাঁদা ফুল। লোকাচার অনুসারে ছাত্রছাত্রীরা পূজার আগ পর্যন্ত কূল খেতে পারে না। দেবীকে নতুন বছরের কূল দিয়ে তবেই কূল খায় ছাত্র-ছাত্রীরা। পূজার আগের দিন সংযম পালন অর্থাৎ সংযমের দিন মাছ-মাংস পরিহার করে নিরামিষ খাওয়া বাঞ্চনীয়। তবে সব মিলে এসব আচার-অনুষ্ঠানেও রয়েছে আনন্দ।

পূজার দিন লেখাপড়া একেবারেই নিষেধ থাকে। পূজার পরে দোয়াত-কলম পুস্তক ও বাদ্যযন্ত্রের পূজারও প্রচলন আছে। এ দিনেই অনেকের হাতেখড়ি দেওয়া হয়। পূজা শেষে অঞ্জলি দেওয়াটা খুব জনপ্রিয়। সেখানে দল বেঁধে অঞ্জলি দেয় শিক্ষার্থীরা। মানুষের ভেতরের পশুকে নিবৃত্ত করে জ্ঞান দান করেন বিদ্যার দেবী সরস্বতী। মা সরস্বতীর জ্ঞানের দেবী, বিদ্যার দেবী, ললিতকলার দেবী। কয়েকদিন ধরেই এ পূজাকে ঘিরে ছাত্র-ছাত্রীরা আনন্দিত। গতকাল রাতেই মূর্তি স্থাপন করে পূজার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। এ দিনে সবাই মিলে খিঁচুড়ি, লাবড়া, লুচি ও অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় দ্রব্য, ফলমূল বিশেষত কূল খাওয়া হয়। আবার সন্ধ্যাবেলায় আরতি উৎসব এবং নাচে-গানে মেতে ওঠে সবাই। সনাতন ধর্মের এ অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মিলেমিশে একাকার।

মা সরস্বতী আমাদের আশীর্বাদ করছেন- ‘জীবনকে শুভ্র ও পবিত্র রাখ। সত্যকে আঁকড়ে রাখ। মূল গ্রন্থের বাণী পালন কর। জীবন ছন্দময় কর। স্বাচ্ছন্দে থাক।’ এ বিশ্বের সবাই মনের কলূষতা দূর করে জ্ঞানের আলোয় নিজেকে ও অন্যকে আলোকিত করুক মা সরস্বতীর কাছে এই প্রার্থনাই করি।

লেখক-
রণজিৎ মোদক
শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
সাবেক সভাপতি, ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..