বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করায় দল থেকে বহিস্কৃত একটি গ্রুপের হামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতা কর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় আয়োজিত একটি সমাবেশে যোগ দিতে যাবার সময় নবীগঞ্জ তিন রাস্তার মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত আবু আল ইউসুফ খান টিপুর অবস্থা আশংকাজনক। হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাকারীরা টিপুকে বেধড়ক মারধরসহ ঘাড়ে কোপ দেয়। এতে তার ঘাড়ে ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে। হামলায় মহানগর বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান চুন্নু সাউদ, ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা খায়রুল কবির মুন্না, যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা গুরুতর আহত হন। হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে মুন্নার মাথা ফেটে যায়। আহত অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে হামলার পর আহত আহত বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলের একটি ভবনে প্রায় আধাঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেন।
হামলার শিকার বিএনপি নেতাকর্মী এবং স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকেলে বন্দরে বিএনপির একটি কর্মসূচিতে যাওয়ার সময়ে নবীগঞ্জ ঘাটের অদূরে তিন রাস্তার মোড়ে জমায়েত হয় মহানগর বিএনপির নেতারা। হঠাৎ করেই ৪০ থেকে ৫০ জন যুবক মিলে লাঠিসোটা ও বাঁশ নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এতে অনেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপুকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ও যুবদল নেতা মুন্না। তাদের মধ্যে টিপু ও মুন্নার জখম গুরুতর।
আহত নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, নবীগঞ্জ তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আতাউর রহমান মুকুল ও তার ভাতিজা আবুল কাউসার আশার অনুসারীরা তাদের গতিরোধ করে। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই লাঠিসোটা ও বাঁশ দিয়ে হামলা করা হয়। এতে আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুবদল নেতা মুন্না গুরুতর আহত হয়। সেই সাথে আরও প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। মূলত হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলাকারীরা আমাদের উপর এ আক্রমণ করেছে। কারণ হামলাকারীরা বিএনপি নেতা টিপুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ঘাড়ে কোপ দেয়।
এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিএনপি থেকে বহিস্কৃত আতাউর রহমান মুকুল, আবুল কাউসার আশা, মোস্তাক, সৌরভ ও রাজীবসহ দেড় থেকে দুইশ লোক এই হামলা করেছে। দল ১৭ বছর ক্ষমতায় ছিলো না। এই ১৭ বছর ধরে তারা আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির হয়ে দালালি করেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে মুকুল ২ বার বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত গডফাদার শামীম ওসমানের মেঝ ভাই জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের সঙ্গে একই মঞ্চে বসে বহু কর্মসূচি পালন করেছে। তাছাড়া এই মুকুলদের পাশে বসিয়েই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কটাক্ষ করে বহু উক্তি করেছে। কিন্তু তখন এই মুকুলগংরা ছিল নিশ্চুপ।
৫ আগষ্ট ক্ষমতার পালা বদলের পর তারা এখন দালালি করতে পারে না। তাই তারা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির লোক নিয়ে হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আমাদের সদস্য সচিব মৃত্যু শয্যায় রয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে আতাউর রহমান মুকুল বলেন, আমার বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ করতেই পারে। তাদের বিষফোঁড়া আমি। আমি ছাড়া কেউ নেই কথা বলার মতো। তারা আমার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে। আমি মারামারির মানুষ না। মারামারি করতে জানি না। আমার সেই বয়সও নেই। যাদের সঙ্গে তারা দোষ করেছে তারাই মারধর করেছে। আমার লোকজনের এসবের সাথে জড়িত না।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম যায়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কিভাবে ঘটনা ঘটেছে তা তদন্তসাপেক্ষে বলা যাবে। এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ দায়ের করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...