এবার নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ নবীগঞ্জ গার্লস হাই স্কুল বা নবীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে উল্লেখিত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী দফাওয়ারী পত্রের ব্যাখ্যা বা জবাব না দেওয়ায় তার কারণ উল্লেখ করে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকা।
গত ১২ জুন বিদ্যালয় পরিদর্শক স্বাক্ষরসহ এই মর্মে একটি নোটিশ প্রেরণ করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকা। পত্র প্রাপ্তির ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে এই ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পত্রতে জানানো হয়, উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের প্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ গার্লস হাই স্কুল এর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে বোর্ডের উপ বিদ্যালয় পরিদর্শক মোঃ আরিফুল হক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে গত ১ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে একটি প্রতিবেদন অত্র দপ্তরে দাখিল করেছেন। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ১৪ জুন ২০২৪ তারিখ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক বরাবর দফাওয়ারী ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য পত্র দেওয়া হয়। তবে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক পত্র মোতাবেক ব্যাখ্যার জবাব প্রদান হতে বিরত থাকেন। তাই সভাপতিকে কেন তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে না এবং একই সাথে প্রধান শিক্ষকের বেতন ভাতা বন্ধের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কেন পত্র দেওয়া হবে না তা পত্র প্রাপ্তির ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে বিদ্যালয় পরিদর্শক এর বরাবর জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা এবং দীর্ঘ ১৬ বছর যাবত অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রায় দেড় কোটি টাকার অনিয়ম ও বিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক দুর্নীতির কারণে তাকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদ থেকে বহিস্কার করা যেতে পারে।
গত ১০ অক্টোবর ২০২১ এর বোর্ডের আপীল এন্ড আরবিটেশন সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উম্মে সালমা (গণিত)কে তার বকেয়া বাকি ৫,৫৪,৮৫৫ টাকা ফেরৎ দিতে হবে। বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক উম্মে সালমা (গণিত) উচ্চতার স্কেল পাওনা হয়। নিয়ম মোতাবেক উচ্চতর স্কেল কার্যকর করার ব্যবস্থা নিতে হবে। উম্মে সালমার নিয়োগকালীন বিভিন্ন কাগজপত্র, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, প্যাটার্ণ ভিত্তিক শিক্ষক (তথ্য বিবরণী ছক) এবং স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উম্মে সালমার এমপিও কপিতে সেকশনাল এর পরিবর্তে রেগুলার এবং শিক্ষক প্যাটার্ণ তথ্য বিবরণী ছকে অতিরিক্তি শিক্ষক (গণিত) পদ বাতিল করে উম্মে সালমাকে অবশ্যিক (গণিত) শিক্ষক পদ হিসাবে পূর্ণ বহাল করতে হবে। প্রধান শিক্ষক সায়মা খানমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গিয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার সভাপতি ছত্রছায়ায় বিভিন্ন দুর্নীতি এসব বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রধান শিক্ষকের পদ হতে তাকে বহিস্কার করা হবে। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বোর্ড যেকোন সময় যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।
সরকারী নিরীক্ষক দ্বারা উক্ত বিদ্যালয়ের বিগত ১০ বছরের অর্থনীতি অনিয়ম অডিট করতে হবে। এমতবস্থায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে উল্লেখিত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী দফাওয়ারী পত্র প্রাপ্তির ১৫ (পনের) কর্মদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যখ্যা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু এই পত্রের কোন প্রকার ব্যাখ্যা বা জবাব না পাওয়ায় নতুন করে এই নোটিশ প্রদান করে শিক্ষাবোর্ড।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...