নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, আমরা একটি স্বচ্ছ বিএনপি হিসেবে নারায়ণগঞ্জে আপনাদের দাঁড় করিয়েছি। আমরা আপনাদের গত পনেরো বছর মাঠে ময়দানে পেয়েছি। আপনারা জেল খেটেছেন, মার খেয়েছেন, ডজন ডজন মামলা খেয়েছেন। আপনাদের পরিবার বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছে। আপনাদের ব্যবসা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তারপরও আপনারা বিএনপি ছেড়ে যান নাই, বিএনপির সাথে ছিলেন। আপনারা বিএনপির ঝান্ডা উঁচু করে ধরে আজকে বিএনপিকে এই বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন।
শনিবার (২০ জুলাই) বিকেলে শহরের মিশনপাড়াস্থ হোসিয়ারী সমিতির কমিউনিটি সেন্টারে একটি মত বিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির সদস্য নবায়ন ও প্রাথমিক অর্ন্তভুক্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির মনিটরিং কমিটির সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আওতাধীন ১৭টি ওয়ার্ড, সাতটি ইউনিয়ন, দুটি থানা ও একটি উপজেলার নেতৃবৃন্দদের এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাখাওয়াত বলেন, সামনে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্বটি কি, আমাদের কাজ কিন্তু শেষ হয়নাই। আমাদের ধান পাকছে সেই ধান নেয়ার জন্য কিন্তু অনেক লোক প্রস্তুত হয়ে আছে। সেই চোরদেরকে আমাদের প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের বিজয় ওই সময় হবে যখন সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনটা সুষ্ঠু করে করতে পারবো এবং জনগণ যাতে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে, কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যদি বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৭০ ভাগ মানুষের ভোট পাবে, ইনশাআল্লাহ্।
মহানগর বিএনপির এ শীর্ষ নেতা আরও বলেন, আমরা যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে এ ছাত্র জনতা যুবক শ্রমিক কৃষকেরা আন্দোলন করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে পতন ঘটিয়েছি। সেই পতনটা কিন্তু জনগণের সম্মলিত প্রচেষ্টার ফল। সেই সম্মলিত প্রচেষ্টার কারণে বৈষম্য দূর করার জন্যই কিন্তু সংগ্রাম করেছি, জীবন দিয়েছে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক। এ আন্দোলনে বিএনপির শত শত নেতাকর্মী নিহত হয়েছে আর হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। ২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী এ আন্দোলনে ১৭ই জুলাই থেকে ৫ই আগস্ট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে ৫৫টা মামলা হয়েছে। সেই ৫৫টা মামলার মধ্যে যদি ২০ হাজার আসামী থেকে থাকে তাহলে ১৯ হাজার ৯শ ৯০জনই বিএনপির নেতাকর্মী। বিএনপিকেই ওই ফ্যাসিস্টরা প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করে বিএনপিকে নির্মূল করার চেষ্টা করেছে। তারা ভেবেছে, বিএনপি দমন করতে পারলেই ক্ষমতা পাকাপোক্ত হবে।
তিনি বলেন, আজকে যে বৈষম্যের জন্য আমরা ও দেশের মানুষ আন্দোল করেছে, আজ কিছুদল কিন্তু সেই বৈষম্যই সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। বৈষম্যটা কি করতে চাচ্ছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকার প্রশাসনের ব্যক্তিদেরকে থ্রেডের মধ্যে রেখে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চাচ্ছে। আমরা কি এটা হতে দিতে পারি। আমরা চাই, নারায়ণগঞ্জসহ সারা বাংলাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমরা সর্বদা সজাগ থাকবো এবং কোন অপশক্তিকেই বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করতে দেবো না। আমরা যাতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন ভোটের ব্যবস্থা করতে চাই, যে ভোটের মাধ্যমে এদেশের মানুষের সত্যিকার অর্থে নিজেদের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। এ রকম একটি নির্বাচন আমরা চাই। এবং সেই রকম নির্বাচন হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অবশ্যই বিজয়ী হবে, ধানের শীষ বিজয়ী হবে, বেগম খালেদা জিয়ার বিজয় হবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...