নারায়ণগঞ্জের কাগজ : ৩ দিন আগে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর রেশ না কাটতেই আবারও ফতুল্লার কসাই খানা বলে খ্যাত মোস্তাফিজ সেন্টারে অবস্থিত ফতুল্লা জেনারেল হাসপাতালে আবারো সুমি নামের প্রসূতি নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দিবাগত বুধবার রাত ৩টায় ফতুল্লার মোস্তাফিজ সেন্টারে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ফতুল্লা পাইলট স্কুল সংলগ্ন আজিম মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে রাত ১১টায় মোস্তাফিজ সেন্টারের ফতুল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১২টায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। অপারেশন করে মেয়ে নবজাতক জন্ম দেন করে সুমী বেগম।রাত সাড়ে ১২টায় রোগীর স্বজনকে জানানো হয় (বি পজেটিভ) রক্ত প্রয়োজন। প্রচুর রক্তক্ষরণে রাত ৩টায় সুমি বেগম (৩২) মারা যায়।
তার আগে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় সুমী বেগমকে। ভুল চিকিৎসায় নিহত সুমি ওরফে মিমের নবজাতক কন্যা সন্তান ছাড়াও ১২ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।
রোগী মারা যাওয়ার পরপরই ঘটনা ধামা চাপা দিতে রোগীর স্বজনদের নিয়ে দরকষাকষিতে বসে হাসপাতালের মালিক মহিউদ্দিন, এম আর ক্যানন সহ দালাল চক্র। সকালে তড়িগড়ি করে লাশ দাফন করা হয়।
মঙ্গলবার সিভিল সার্জন অফিস হতে একটি তদন্ত টিম যায় মোস্তাফিজ সেন্টারে স্থাপিত ফতুল্লা জেনারেল হাসপাতালে।
সিভিল সার্জন অফিসের তদন্ত টিম আসার পরে আরেকটি মৃত্যুর ঘটনায় নানান ধরনের প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে ফতুল্লাবাসীর মধ্যে।
মোস্তাফিজ সেন্টারে প্রসৃতি সুমির মৃত্যুর সংবাদ সাংবাদিকদের কাছ থেকে পেয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ইমতিয়াজ এর নেতৃত্বে একটি টিম ফতুল্লা জেনারেল হাসপাতালে যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুমি নামে কোন রোগী এখানে আসেনি বলে সিভিল সার্জনকে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে। পরে সিভিল সার্জন অফিসের লোকজন ফতুল্লা পাইলট স্কুল সংলগ্ন ভিকটিমের এলাকায় গিয়ে সুমীর মৃত্যু ও ৩ লাখ টাকায় রফাদফার সত্যতা পেয়ে সিভিল সার্জন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন হাসপাতালটি।
সিভিল সার্জনের সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা ড্রাগ সুপার ইকবাল হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জাহিদুল ইসলাম, জেলা স্বাস্থ্যকর তত্ত্বাবধায়ক স্বপন দেবনাথ প্রমুখ।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা জেনারেল হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার এম আর ক্যানন মুঠোফোনে জানাম এ নামে কোন রোগী ভর্তি হয়নি।
জেলা স্বাস্থ্যের তত্ত্বাবধায়ক স্বপন দেবনাথ এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, সিভিল সার্জন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উক্ত হাসপাতাল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই ক্লিনিকে কিছুদিন আগেও রক্তের ভুল রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া প্রায় সময়ই এই ক্লিনিকে রোগিদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরক্ষায় ভুল রিপোর্ট দেয়া হয়ে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই ক্লিনিকটি বহুল ভবনে হলেও লিফটের কোন ব্যবস্থা নেই। যদি ২য় তলার উপরে কোন ক্লিনিক থাকলে লিফট সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, মোস্তাফিজ সেন্টার কর্তৃপক্ষ তা মানছেন না এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী মহলের। এ ব্যাপারে সিভির সার্জনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ভুক্তভোগীরা।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...