নারায়ণগঞ্জের কাগজ : সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা ব্যাপক দূর্নীতির জন্য নির্বাচনে ব্যাপক ভড়াডুবির আশংকায় নির্বাচন আসন্ন সত্বেও নির্বাচন না দিয়ে তাদের মন মতো সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের সহধর্মীনি জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ও বর্তমানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লিপি ওসমানের অনুমতি লাভের আশায় একটি খসড়া সিলেকশন কমিটি করেছে বলে জানা যায়। উক্ত কমিটিতে মোঃ জসিমউদ্দিন (নন এসএসসি), মোঃ মনির হোসেন (নাম দস্তখত), আলী আহম্মদ মোল্লা (নন এসএসসি), ডাঃ আবদুল মোতালেব (বিএসসি) কোঅপ্ট সদস্য হিসেবে দিল মোঃ দিলু (নাম দস্তখত) সমন্ময়ে গঠন করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও অনেক অভিভাবক নির্বাচন দাবী করা সত্ত্বেও এবং অনেকে নির্বাচনে অংশগ্রহনের আগ্রহ প্রকাশ করলেও তারা নির্বাচন দিতে অনিচ্ছুক। কারণ বিগত ২০১৬-১৭ কমিটি থাকাবস্থায় প্রতিটি সদস্য স্কুলে শিক্ষার মান নিয়ে ব্যাপক চিন্তাধারায় স্কুলে অনেক সফলতা পেয়েছিলো। কিন্তু বর্তমান কমিটির কর্তাবাবুরা শিক্ষার মানের পরিবর্তে অর্থনৈতিক মনোভাবটুকু একটু বেশী হওয়াতে ক্রমেই শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
২০১৬-১৭ইং শিক্ষাবর্ষে স্কুলে পিইসি পরীক্ষা জিপিএ-৫ ছিলো ১৬টি এবং সরকারী বৃত্তি ছিলো ৯টি, জেএসসি জিপিএ-৫ ১৬, বৃত্তি ছিল ৩টি, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ১০টি কিন্তু ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে তা গিয়ে দাড়ায় পিইসি জিপিএ-৫ মাত্র ৩টি নেই সরকারী বৃত্তি, জেএসসিতে জিপিএ-৫ মাত্র ১টি এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ মাত্র ৫টি। সার্বিক দিক বিবেচনায় ২০১৬ইং শিক্ষাবর্ষে ব্যাপক সফলতা পেলেও ২০১৮ইং শিক্ষাবর্ষে স্কুলে মেধাশূন্য হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে ছাত্র/ছাত্রীদের বেতন প্রতি ক্লাসে ৮০ টাকা,সেশন ফি ৩০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও ৫ম শ্রেনীর বিশেষ কোচিং ফি বাবদ ৮০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। ফলে ২০১৬-১৭ সালে যেখানে ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা ছিলো ২৬৫০ জন সেখানে কমে গিয়ে দাড়িয়েছে ২২০০ জন।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও নতুন করে অধিক বেতনে ৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় যারা মূলত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধানের নিকট আত্মীয়। পূর্বতন শিক্ষকদের যেখানে বেতন ছিলো ৬ হাজার টাকা বর্তমানে নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন ধরা হয়েছে ১২ হাজার। যা নিয়ে পুরাতন শিক্ষকদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন থাকাবস্থায় যা আগামী মাসে ২য় ও ৩য় তলার কাজ শুরু হবে তথাপি স্কুলে অর্থ তছরুপ করার জন্য প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা নিজস্ব অর্থায়নে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করে যার ব্যয় তাদের ভাষ্যমতে ২০ লক্ষ টাকা দেখানো হয়েছে। যদিও বর্তমানে স্কুলটিতে ২৩টি শ্রেনী কক্ষ রয়েছে যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭টি কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে। স্কুলের মাঠে সৌন্দর্য্য বর্ধনের নামে নিস্পপ্রয়োজনীয় জন্তু-জানোয়ারের মূর্তি নির্মাণ করে স্কুলের মাঠ সংকুচিত করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই স্কুলের ফান্ড লুটপাট করে খাওয়া। কমিউনিটি সেন্টারের আদলে স্কুলের গেইট নির্মাণ করে সেখানে ব্যায় দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ টাকা কিন্তু স্থানীয়দের অভিমত এটা নির্মাণে সর্বোচ্চ ৮ লাখ টাকা হতে পারে। অত্র বিদ্যালয়টি ছাত্র/ছাত্রীদের চরমভাবে শোষন করছে। যেন পরপর তিনদিনে স্কুলে অনুপস্তিতির জন্য নাম কর্তন করা হয় এবং সেটা পূর্ণনাম সংযোগ করার জন্য ৩০০ টাকা হারে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ফি দিতে হয়। এছাড়াও একদিন অনুপস্থিতির জন্য শিক্ষার্থীকে ১০ টাকা হারে জরিমানা দিতে হয়।
স্থানীয় ও অভিভাবকদের অভিমত পুনরায় নির্বাচন দিলে বর্তমান কমিটির প্রতিটি সদস্যের পরাজয় সুনিশ্চিত জেনেই নির্বাচন নিয়ে তাদের এত টালমাতাল অবস্থা। আবার বিদ্যালয়ে যারা অংশ নিবে তাদের জামানত হিসেবে ১০/২০ টাকা করে চাইছে যা পুরো জেলার বিদ্যালয়গুলোর অভিভাবক নির্বাচনের ক্ষেত্রে নেই। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও অত্র বিদ্যালয়ের নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালেচনার ঝড় বইছে দীর্ঘদিন যাবত।
লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ সালাউদ্দিন বলেন, আমিতো কমিটিতে নেই। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটির প্রতিটি সদস্য স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই আমি নিজেই এসে পড়েছি। কোন মিটিংয়ে আমাকে না জানিয়ে তারা কয়েকজন সিদ্ধান্ত নিতেন অন্য কাউতে প্রাধান্য দিতেন না। নিজের সন্তানকে স্কুল থেকে কেন অন্য স্কুলে নিলেন এমন প্রশ্নের জবারে বলেন, স্কুলের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য তেমন কোন উদ্যোগ নেই তাই।
লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির কোঅপ্ট সদস্য এনসিসি ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী ইফতেখার আলম খোকন বলেন, গত দেড় বছর আগেই আমি স্কুলের কোঅপ্ট সদস্য থেকে সরে দাড়িয়েছি। প্রয়োজনে স্কুলের খাতা দেখুন। স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বলুন এবং তার কাছে জানুন। তিনি খুব প্রভাবশালী ব্যক্তি কিছু হলেই মামলার হুমকি প্রদান করেন।
লক্ষীনারায়ণ কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নাসরিন বলেন, আমি প্রায় ২ মাস যাবত ডেঙ্গু জরে আক্রান্ত ছিলাম তাই বিস্তারিত ভালভাবে বলতে পারবোনা।
লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাংসদ শামীম ওসমানের সহধর্মীনি ও জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী সালমা ওসমান লিপি জানান, যদি অভিভাবকরা নির্বাচন চায় তাহলে অবশ্যই নির্বাচন হবে। তাছাড়া শুনেছি উক্ত এলাকায় কোন স্কুলেই নাকি নির্বাচন হয়না। আমি আগামী ২/১ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।
লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটি সদস্য সচিব ও প্রধান শিক্ষক বিকাল চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাই আপনি সাক্ষাতে আমার সাথে কথা বলুন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...