নারায়ণগঞ্জের কাগজ : বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে প্রথম নারায়ণগঞ্জকে বেছে নিয়েছি। সর্বস্তরের জনগনকে সচেতন হতে হবে নিজেদের মধ্যে। নিরাপত্তা খাদ্যের কথা বলা হয়েছে এসডিজি-২০৩০তে। সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন ছিল একটি সুখী সমৃদ্ধ, ক্ষুধামুক্তও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়া। মুরগীর ও মাছের খামারে যেন খাদ্যের নামে কোন মেডিসিন বা কেমিক্যাল না মেশায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণ মানুষ যখন কোন রেষ্টুরেন্টে খেতে যাবেন তারা যেন খাবারের মান জেনে খাবার খাবেন। নিজেদের সচেতন হতে হবে পরিবারের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে।
জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল ও দূষনমুক্ত নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করনে প্রধানমন্ত্রী যুগোপযোগী বিচক্ষণ ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তে Pure Food Ordinance- 2013 আইনটি জারি করেছেন। যা ২০১৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। জেলাবাসীর নিরাপদ খাদ্যের জন্য বেশী বেশী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য ডিসি ও ইউএনওর প্রতি আহবান জানান। নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ বাস্তবায়নে জনসচেতনতা সৃষ্টি শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায়, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক মোঃ জসীমউদ্দিন এর সভাপতিত্বে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ রেজাউল করিম সদস্য (যুগ্ম সচিব) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক, আবুল নেছার খান পরিচালক নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা বারিক প্রমুখ।
নদীর নামে শীতলক্ষ্যা, কীর্তনখোলা, যমুনা, সুরমা, বুড়িগঙ্গা, মেঘনা, পদ্মা, ধলেশ্বরী, ব্রক্ষপুত্র নদীর নামে ১০টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ১০ জন করে ১০০ জন কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, ডাক্তার, সমাজসেবক, এনজিও কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, ইমাম, আইন শৃংখলা বাহিনী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে। বক্তারা বলেন, ১৬ কোটি মানুষ তিন খাবার গ্রহন করে। প্রতিদিন জনপ্রতি খাবার ব্যয় হয় ২৪০০ কোটি টাকা। খাবারের মান পরীক্ষার জন্য ১৮টি প্রতিষ্ঠান থাকলেও জনবলের অভাবে সেটা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছেনা। নিয়মিত পরীক্ষা করার প্রয়োজন বোধ করেন।
আজাদ বিশ্বাস বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইন সম্পর্কে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর মালিক ও শ্রমিকরা অবগত নয়।তাদের আইন সম্পর্কে অবগত করাতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিসি জসিম উদ্দিন বলেন, অনেক অর্জনের সাথে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস জড়িত। ডিসি এসপির বাচ্চাও নিরাপদ নয়। কেননা আমরা ফুটপাত থেকে খাবার খাই। জনগণের স্বার্থ দেখতে চাইনা। খাদ্যের ভেজালের জন্য মানুষ অকালে চলে যাচ্ছে। নয়ন চলে গেলো। আমাদের ও যেতে হবে। অকালে যেন কেউ না যায় সেজন্য নিরাপদ খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...