নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন গিরিধারা এলাকায় চাঁদার দাবিতে এক ফার্নিচার ব্যবসায়ী ও তার ছেলের ওপর হামলা চালিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র। ঘটনার পর ভুক্তভোগী মোঃ জাহাঙ্গীর (৪৬) ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত আসামীরা হলেন- মৃত হাসনাতের ছেলে নাঈম (২৫), মোস্তাকের ছেলে হাফিজ (২৬), মামুন ওরফে ডাক্তার মামুন (৪৩), মৃত মোরশেদের ছেলে মাহফুজ (৩৩), পারভেজ (৩০), শাহাদাত ওরফে ভুয়া পুলিশ (৫৫), মৃত আলমগীরের ছেলে রাকিব ওরফে ইয়াবা রাকিব (৩২), মৃত শহিদের ছেলে আব্দুর রহমান (২২), শরীফ (৩০), মোঃ রাসেল গাজী (২৬), সুলতান আহাম্মেদের ছেলে রাকিবুল হাসান (৪০) ও মোস্তাক (৪৫) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারা সকলেই ফতুল্লা থানাধীন গিরিধারা ও রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জাহাঙ্গীর ‘নুসরাত এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি পুরাতন ফার্নিচারের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গিরিধারা ১নং রোডে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। এক বছর আগে একদল সন্ত্রাসী তার কাছে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়। কিছুদিন শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনার পর গত এক মাস ধরে তারা আবারও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।
মঙ্গলবার ১৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ দোকানে এসে চাঁদার টাকা না দিলে ব্যবসা করতে দেবে না বলে হুমকি দেয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকানে হামলা চালিয়ে ক্যাশ বাক্স থেকে ১ লক্ষ পঁচাত্তর হাজার ৪৫ টাকা লুট করে নেয়। সাটার ভেঙে আনুমানিক ৮ হাজার টাকার ক্ষতিসাধনও করা হয়।
এ সময় জাহাঙ্গীরের ছেলে মোঃ জনি আলম (১৯) এগিয়ে এলে তাকে চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। চাপাতির কোপে তার কপালে গুরুতর জখম হয় এবং সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, এ চক্রটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে আসছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এছাড়াও এই হামলার সন্ত্রাসী মোস্তাক বাহিনীর সদস্যরা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজুর রহমান নিতুল বলেন, যারা আমাদের নামে অভিযোগ করেছে তারা মূলত আওয়ামী লীগের লোক। গত ৫আগস্টের পর তারা এলাকায় ছিলেন, আমরা কখনোই তাদেরকে অত্যাচার বা নির্যাতন করিনি। মূলত আমাদের মানবিকতার খাতিরে তারা নির্ভয়ে এলাকায় আছেন, উল্টো তারা এখন আমাদের নামে অভিযোগ তুলে ধরে ফায়দা নিতে চাচ্ছেন এবং বিএনপির কর্মীদের হেয় প্রতিপন্ন করতে চাচ্ছেন। তাছাড়া তাদের নিজেদের মধ্যে একটি ঝামেলা ছিল, সেই বিষয়ে কেন্দ্র করে দুপক্ষই কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলার তদন্তকারী অফিসার আমাদের এলাকায় এসে তদন্ত করেন। আমরা যেহেতু রাজনীতি করি সেই সুবাদে ওই তদন্তকারী অফিসার আমাদের দায়িত্ব দেন তাদরে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা (মিউচুয়াল) করিয়ে দিতে। সে সময় তারা অপরপক্ষের এক মুরুব্বিকে অপহরণ করে আটকে রাখে। আমরা ওই মুরুব্বিকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেই। মূলত তারা আওয়মী লীগের লোক। এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্যই তারা আমাদের নামে মিথ্যা কুৎসা রটিয়ে বেড়াচ্ছে এবং আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...