কক্সবাজার থেকে ফিরে, রাকিব চৌধুরী শিশির : ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবদুর রহিম ও সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ মাসুমের নেতৃত্বে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সংগঠনের বার্ষিক বনভোজন ও আনন্দ ভ্রমণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভ্রমণে ৩৬ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এই ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিল সদস্যদের মধ্যে বন্ধন বৃদ্ধি করা, কাজের চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক স্থানের সঙ্গে পরিচিত হওয়া।
সদস্যরা সকালেই ঢাকা থেকে বিমানে করে কক্সবাজার পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হোটেলে প্রবেশ করে কিছুটা বিশ্রাম নেন। বিশ্রামের পর চাঁদের গাড়িতে করে ইনানী বিচ ও পাটুয়ারটেক ভ্রমণে বের হন। ইনানী বিচের পাথরের সৌন্দর্য, সমুদ্রের নীল জল এবং মনোরম তটরেখা ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। পাটুয়ারটেকে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া, স্থানীয় খাবারের স্বাদ গ্রহণ এবং প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে সময় কাটানো ভ্রমণের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে রয়ে যায়।
বুধবার সকালে স্পিডবোটে মহেশখালী ভ্রমণ অনুষ্ঠিত হয়। স্পিডবোটে সমুদ্রের হাওয়া, জাহাজের স্রোত এবং পানির ঝর্ণা ভ্রমণকে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতায় পরিণত করে। মহেশখালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয় জীবনধারা দেখার সুযোগ পেয়ে সদস্যরা আনন্দে মেতে ওঠেন। ছবি তোলা এবং একে অপরের সঙ্গে মজা-মজার কার্যক্রম ভ্রমণকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ভ্রমণটি কেবল সমুদ্র বা সৈকতের সীমাবদ্ধ ছিল না। হিমছড়ি, আদিনাথ মন্দির, স্বর্ণ মন্দির এবং বৌদ্ধ মন্দিরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করে অংশগ্রহণকারীরা দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। হিমছড়ির পাহাড়ি পরিবেশ, নদী ও বনাঞ্চল সকলকে প্রশান্তি এবং নতুন উদ্দীপনা দেয়। আদিনাথ মন্দিরে ভ্রমণ করে তারা ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বোঝেন। স্বর্ণ মন্দির ও বৌদ্ধ মন্দিরের স্থাপত্য সৌন্দর্য দর্শকদের মধ্যে মুগ্ধতা সৃষ্টি করে।
ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বনভোজন এবং দলবদ্ধ কার্যক্রম। সদস্যরা একত্রে খেলাধুলা, গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। বনভোজনের সময় সবাই মিলেমিশে খাবার ভাগাভাগি করেন এবং আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করেন। সদস্যরা জানান, এটি কেবল বিনোদন নয়, বরং তাদের মধ্যে সহযোগিতা এবং দলগত ভাব উন্নয়নের এক অনন্য সুযোগ।
সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, “সংগঠনের সদস্যদের জন্য এমন ভ্রমণ বার্ষিক বন্ধন ও আনন্দ ভাগাভাগি করার একটি উৎকৃষ্ট সুযোগ। আমাদের ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সদস্যরা কেবল কাজের দিকেই নয়, ব্যক্তিগতভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারছে।”
সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ মাসুম যোগ করেন, “ফতুল্লা প্রেসক্লাবের প্রতিটি সদস্যের জন্য এটি একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। কক্সবাজারের সুন্দর দৃশ্য, স্থানীয় খাবার এবং সাংস্কৃতিক পরিচিতি সবাইকে আনন্দ দিয়েছে।”
এসময় ফতুল্লা প্রেসক্লাবের সদস্যরা জানান, তারা এই ধরনের ভ্রমণে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। সমুদ্র, পাহাড়, মন্দির, খাবার এবং সাংস্কৃতিক পরিচিতির সমন্বয়ে ভ্রমণটি সকলের জন্য দীর্ঘসময় স্মৃতিতে থাকবে। বিশেষ করে সুগন্ধা বিচ, ইনানী বিচ, পাটুয়ারটেক এবং মহেশখালীর স্পিডবোট ভ্রমণ সকলের মধ্যে বিশেষ আনন্দ সৃষ্টি করেছে।
ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের এই বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে আরো জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও নতুন গন্তব্যে ভ্রমণ করা হবে যাতে সদস্যরা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন এবং সংগঠনের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা বলেন, এ ধরনের ভ্রমণ কেবল বিনোদনমূলক নয়, বরং প্রেসক্লাবের সকল সদস্যদের মধ্যে একতা, সহযোগিতা এবং আনন্দ ভাগাভাগি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফতুল্লা প্রেসক্লাবের সদস্যরা এ ভ্রমণ যাত্রায় আনন্দিত এবং সন্তুষ্ট হয়ে ঢাকা ফেরেন, এবং আগামী ভ্রমণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক ভ্রমণ প্রমাণ করেছে যে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি এবং বিনোদনের এক সমন্বিত অভিজ্ঞতা কেবল আনন্দই দেয় না, বরং সদস্যদের মধ্যে বন্ধন ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হয়।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...