নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইগড় এলাকায় অবস্থিত রূপায়ন টাউনে বকেয়া সার্ভিস চার্জ, বিদ্যুৎ বিল ও বাসাভাড়া পরিশোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) ভুইগড়ের রূপায়ন টাউনের অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর ইরফান ও রাজিয়া দম্পতির দীর্ঘদিনের বকেয়া সার্ভিস চার্জ, বিদ্যুৎ বিল ও বাসাভাড়া পরিশোধ নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় রূপায়ন টাউনে সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা প্রপার্টি সার্ভিসেসের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁদেরসহ আরও কয়েকজনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনকারীরা। বকেয়া পরিশোধ ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের বিষয়ে আলোচনার জন্য আয়োজিত ওই বৈঠকে প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বৈঠকে বকেয়া টাকা পরিশোধ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ইরফানের ছেলে ফেসবুক লাইভে এসে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। পরে লাইভটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদ সম্মেলনকারীদের দাবি, সেখানে চাঁদা দাবি বা চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ফেসবুক লাইভের বক্তব্য সংবাদ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পরবর্তী সময়ে ইরফান ও রাজিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেসবুক লাইভে চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হলেও মামলায় চাঁদাবাজির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বরং অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ফেসবুক লাইভের ভিডিওতে অস্ত্র ব্যবহার বা চুরির কোনো ঘটনা দেখা যায় না।
লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, বকেয়া সার্ভিস চার্জ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এবং বাসাভাড়া আদায়ের বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁদের সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। এ সময় রূপায়ন টাউনের অন্যান্য বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনকারীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার যথাযথ তদন্ত ছাড়াই হত্যাচেষ্টা ও চুরির মামলা রুজু করার ক্ষেত্রে থানা পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তাঁরা এ বিষয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...