করোনা ভাইরাসের কারণে সবকিছু বন্ধ থাকায় দুগ্ধ খামারের দুধ বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পরেছেন রাজবাড়ীর খামারীরা। মিষ্টির দোকান, হোটেল ও যানবাহন, বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে খামারীদের। বিক্রি না করতে পারা দুধগুলো এলাকাবাসীদের মাঝে বিতরণ করছেন অনেক খামারীরা। আর এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে খামার মালিকারা। এদিকে গরুর খাবারের দাম বৃদ্ধি এবং খাবার সংকটের কারণে প্রতিদিনই তাদের লোকসান ও দুঃশ্চিন্তায় দিন কাটছে।
করোনা ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন কোম্পানি, মিষ্টি তৈরীর কারখানা, হোটেল ও চায়ের দোকনগুলো বন্ধ থাকার কারণে এখন দুধ বিক্রি করতে পারছেন না খামারীরা। ফলে খামারের আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ ও আগের তুলনায় অর্ধেক দামে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। আর এ কারণে মারাত্বক ভাবে তারা লোকসানে পড়ছেন। এদিকে ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের সুদ কিভাবে দিবেন তা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না।
রাজবাড়ীতে ছোট বড় প্রায় ৪ শাতাধিক গরুর খামার আছে। এরমধ্যে প্রায় ৮০টি রয়েছে বড় খামার। যেখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। কিন্তু সম্প্রতি করোনা ভাইরাসে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল, মিষ্টি দোকানসহ সব বন্ধ থাকায় দুধ নিচ্ছেন না কেই। যে কারণে খামারীদের উৎপাদিত দুধ কম দামে বিক্রি ও খামারের আশপাশের মানুষের মধ্যে বাধ্য হয়েই বিতরণ করছেন খামারীরা। এছাড়া পরিবহন বন্ধ থাকায় গরুর খাবার সংকটও দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি খামার পরিচর্যাকারীদের বেতনও ঠিকমত দিতে পারছেন না খামার মালিকরা। এমন অবস্থা জেলার প্রায় সবগুলো গরু, মহিষ ও ছাগলের খামারের।
আলাদীপুর এপিসোড এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান শাহীনুর বলেন, জেলার সবচেয়ে বড় গরুর ফার্ম তাদের সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের আলাদীপুরের এপিসোড এগ্রো লিমিটেড। যেখানে গরুর পরিচর্যার জন্য নিয়মিত প্রাায় ২৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। খামারে প্রায় ৫ শতাধিক গাভী রয়েছে এর মধ্যে দুধ উৎপাদন কারী গাভী রয়েছে প্রায় ২ শতাধিক। বর্তমান প্রতিদিন খামার থেকে প্রায় ৯ থেকে সাড়ে ৯শ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে। আগে যেখানে প্রায় ২ হাজার লিটারের মত উৎপাদন হতো। কিন্তু উৎপাদিত দুধ তারা বাজারজাত করতে না পেরে লোকসান গুনতে হচ্ছে । ফলে কম দামে বিক্রি ও আশাপাশ এলাকার জনগনের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন দুধ। ন্যায্যমূল্যে দুধ বিক্রি করতে না পারায় শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছেন না তারা। তাছাড়া গো খাদ্যে দাম বেড়ে গেছে বস্তা প্রতি দেড় থেকে দুশত টাকা করে।
এদিকে পাংশা উপজেলার কলিমহর উইনেয়নের কলিমহে অবিস্থিত রয়েল ডেইরি ফার্মেরও একই অবস্থা। এখানেও প্রায় ১০০টি গরু রয়েছে এর মধ্যে ৬০টি দুধ উৎপাদনকারী গরু আছে। প্রতিদিন এখান থেকেও ৫শত লিটার দুধ উৎপাদন হয়। করোনর এ অচলাবস্থার কারনে দুধ বিক্রি করতে না পেরে গরুর খাবার ও ১০জন মজুরের খরচ চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন তরা মারাত্বক ভাবে লোকসানে পরেছেন।
আগে যেখানে প্রতি কেজি দুধ ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতেন এখন সেখাতে তা বিক্রি করতে হচ্ছে ২০ টাকা থেক ৩০ টাকার মধ্যে তারপরও নিতে চান না ক্রেতারা।
ফার্ম দেখাশুনা ও পরিচর্যাকারীরা বলেন, করোনা ভাইরাস আসার আগে তারা ৫০ থেকে ৭০টাকা কেজিতে দুধ বিক্রি করতেন। যা এখন ২৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। অনেক সময় দুধ বিক্রি করতে না পেরে স্থানীয়দের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া দোকান বন্ধ থাকায় গরুর খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে গো খাদ্যের দামও। দুধ বিক্রির টাকা দিয়ে গরুর খাবারসহ তাদের বেতন দিতেন খামার মালিকরা। কিন্তু এখন ঠিকমত বেতন পাচ্ছেন না তারা। প্রতিদিন এই খামারের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। তাই এসব খামার মালিকদের উপর সরকারের দৃষ্টি দিতে অনুরোধ জানান তারা।
রাজবাড়ী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ফজলুল হক সরদার তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে খামারীরা সাময়িক সমস্যায় পরেছেন। এই সমস্যা থেকে কাটিয়ে উঠতে প্রতিটি খামার মালিকদের তাদের উৎপাদিত দুধ দিয়ে ঘি তৈরি করে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সহযোগীতা পেলে তা তারা খামারীদের মাঝে পৌঁছে দেয়া হবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...