নারায়ণগঞ্জের কাগজ : শুধু প্রতারণা করে বিয়েই করেননি, বিয়ের পর থেকে অব্যাহতভাবে ১৫ বছর ধরে সাহিদা বেগম নামের এক গৃহবধুকে নির্যাতন করে চলেছেন স্বামী জামির আলী। এমনকি ১৫ বছরে ওই গৃহবধুর কামাই করা সকল অর্থও আত্মসাৎ করেছেন জামির আলী। দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন সহ্য করলেও গত ১২ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বামী ও তার পরিজনের বিরুদ্ধে নালিশ করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জের আঁটি এলাকার ওই গৃহবধু। অভিযোগের অনুলিপি দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও র্যাব-১১ বরাবরও।
আবেদনে গৃহবধু সাহিদা বেগম উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক সিদ্ধিরগঞ্জে আঁটি এলাকার রোস্তম আলীর ছেলে জামির আলীর সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরে জানতে পারেন জামির আলী আগে থেকেই বিবাহিত। খোরশেদা নামের ওই স্ত্রী ঘরে সন্তানও রয়েছে। এসব জেনেও সংসার করতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে তাদের ঘরে তামান্না ও তানিয়া নামের দু’টি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তামান্নার বয়স এখন ১৩ ও তানিয়ার ৭ বছর।
আবেদনে ওই গৃহবধু আরও উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের টাকার জন্য স্বামী জমির আলী অব্যাহতভাবে শারিরিক নির্যাতন শুরু করে। পরে বাধ্য হয়ে সে গার্মেন্টে চাকুরি নেয়। মাস শেষে ১২-১৪ হাজার টাকা বেতন পুরোটাই স্বামীর হাতে তুলে দিত। কিন্তু এতেও জামির আলীর মন ভরেনি। এরই মধ্যে জামির সাহিদা চাচাতো বোন রোকসানা ও পরে লিলি আক্তার নামের আরও দু’জনকে বিয়ে করে। এভাবে সে মোট ৫/৬টি বিয়ে করে।
আবেদনে সাহিদা জানান, ২০১৯ সালে আবারও গর্ভবতী হন সাহিদা। পরে জামির আলী ও তার পরিজন মিলে তাকে নির্যাতন করে হাত ভেঙে ফেলে এবং গর্ভের সন্তানও নষ্ট করে। এ ঘটনায় সাহিদা নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে একটি মামলা (৩৮৮/১৯) করেন। মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর তার উপর হামলাও চালায় জামির ও তার স্বজনরা। পরবর্তীতে তিনি বাপের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
সাহিদা বেগমের অভিযোগ, স্বামী জামিরের নির্যাতনে বাধ্য হয়ে নিজেদের বাড়ি কেনার জন্য বিভিন্ন সময় তিনি ধার-দেনা করে ৮ লাখ টাকা তাকে দিয়েছেন। কথা ছিল উভয়ের নামে জমি কিনবে। কিন্তু জামির আলী ওই টাকায় নিজের নামেই ২০ শতাংশ জমি কিনেছে। এর প্রতিবাদ করায় তাকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়।
আবেদনে গৃহবধু এসব অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...